ক্রাইম পেট্রোল কায়দায় বোনকে খুন, দেখায় প্রাণ গেল ছেলেরও

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ক্রাইম পেট্রোল কায়দায় বোনকে খুন, দেখায় প্রাণ গেল ছেলেরও

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৮ ১ অক্টোবর ২০২০  

চট্টগ্রামের জোড়া খুন মামলার অন্যতম আসামি ফারুক র‍্যাবের হাতে আটক

চট্টগ্রামের জোড়া খুন মামলার অন্যতম আসামি ফারুক র‍্যাবের হাতে আটক

পাতানো বোন গুলনাহারের সঙ্গে সব সময় লেগে থাকতো ঝগড়া। এক সময় ঝগড়া গড়ায় হত্যাকাণ্ডে। আর সেই হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় নির্মমভাবে খুন হতে হয় গুলনাহারের নয় বছর বয়সী ছেলেকেও। চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলার অন্যতম আসামি ফারুক র‍্যাবের হাতে আটক হয়ে দিয়েছেন এসব তথ্য।

বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর আকবরশাহ থানার পাকা রাস্তার মাথা এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলিসহ তাকে আটক করা হয়।

ফারুক নগরীর চান্দগাঁও থানার খাজা রোডের কসাইপাড়া এলাকার মো. সিরাজের ছেলে।

র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরিসহ জোড়া খুন মামলার অন্যতম আসামি ফারুককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে হত্যাকাণ্ডের কৌশল রপ্তের কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এএসপি মামুন আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আত্মগোপন করেন ফারুক। প্রথমে চকবাজার এলাকায় গিয়ে রক্তমাখা জামাটি নালায় ফেলে দেন। এরপর খাগড়াছড়ি গিয়ে কাজ নেন গ্যারেজে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর চলে যান ঢাকায়। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। 

গত ২৪ আগস্ট চান্দগাঁও থানার পুরাতন চান্দগাঁওয়ের রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন গুলনাহার বেগম ও তার ছেলে রিফাত।

স্বামী আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যাবার পর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় ভাড়ায় থাকতেন গুলনাহার। গুলনাহারের মেয়ে ময়ূরী একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো চাকরিতে চলে যান ময়ূরী। রাতে বাসায় ফিরে মেঝেতে মা ও ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তবে ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান গুলনাহারের পাতানো ভাই ফারুক। তিনি ওই বাসায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন।

এ ঘটনায় ফারুকসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় করেন ময়ূরী।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ