বিয়ের দেড় মাসেই বিধবা হলেন সখিনা!

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিয়ের দেড় মাসেই বিধবা হলেন সখিনা!

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৭ ১ অক্টোবর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কথা ছিল আরো মাত্র ১৩ দিন পর ( ১৩ অক্টোবর)  আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে স্বামীর বাড়িতে বউ সেজে এসে সংসার করবেন সখিনা । কিন্তু তা আর হলো না! বিয়ের (কাবিন বিয়ের) দেড় মাসের মধ্যেই হলেন বিধাবা। যেখানে বউ সেজে স্বামীর বাড়ি আসার কথা সেখানে স্বামীর লাশ দেখতে আসতে হয়েছে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও স্বামী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন স্ত্রী সখিনা।

গত দেড় মাস আগে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার গৌরিপুর গ্রামে সখিনার সঙ্গে কাবিন বিয়ে করেছিলেন মনির হোসেন। আগামী ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূকে উঠিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু নববধূকে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে আনার আগেই প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ দিতে হয়েছে তার স্বামীকে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছে জড়িতরা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জের লালপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই মনির হোসেন ও যুবক ঈশান নিহত হন। নিহতের ঘটনায় দুই পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। লামা বায়েক এলাকার বেপারী বাড়িতে দুই পরিবারের কান্না যেন কিছুতেই থামছে না। আত্বীয় স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

দুই পরিবারের সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাসিঁর দাবি জানিয়েছেন। নিহত দুজনের মধ্যে মনির হোসেন ঢাকায় একটি ব্যাগের ফ্যাক্টরির কর্মচারী ছিলেন।

বিয়ের দেড় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামীর বাড়িতে এসে সংসার না করতে পারলেও স্বামীর মৃত্যুর খবরে স্ত্রী শেষবারের মতো দেখতে এসেছেন স্বামী মনির হোসেনের বাড়িতে। দেখতে এসেছেন স্বামীর লাশ। কিন্তু স্বামীর বাড়িতে সংসার না করতে পারলেও স্বামীর লাশ দেখে এ হত্যার বিচার চেয়েছেন নববধূ সখিনা ও তার পরিবার।

অপর যুবক ঈশান আশুগঞ্জ সার কারখানা কলেজ থেকে এইচ এসসি পাস করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। পরিবারের একমাত্র বড় ছেলে ঈশানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্য। তারা এ হত্যাকাণ্ডের কঠিন শাস্তি চাচ্ছেন।

স্ত্রী সখিনা বেগম জানান, কাবিন বিয়ের দেড় মাসের মধ্যে স্বামীর মনির হোসেনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল দু-দিন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।

আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. জাবেদ মাহমুদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া অপীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ