আশরাফুলকে চেপে ধরে তিন যাত্রী, গলায় ছুরি চালায় আরেকজন

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

আশরাফুলকে চেপে ধরে তিন যাত্রী, গলায় ছুরি চালায় আরেকজন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:৫২ ১ অক্টোবর ২০২০  

নিহত অটোরিকশা চালক আশরাফুল

নিহত অটোরিকশা চালক আশরাফুল

ছুরি দিয়ে অটোরিকশা চালক আশরাফুল ইসলামের গলা কাটে রুবেল। অটোর সামনে চালকের বামপাশে বসা হাসান আশরাফুলের একহাত চেপে ধরে আর ডানপাশে বসা রাজেন অপর হাত চেপে ধরে। আর পেছনে বসা আকরাম গামছা দিয়ে গলায় চেপে ধরে। এরপরই পেছনের আরেক ছিটে বসা রুবেল গলায় ছুরি চালায়। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ঝোপে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়।

মুন্সিগঞ্জ এসপির কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এভাবেই রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন এসপি আব্দুল মোমেন।

মৃত্যুর আগে মাটিতে লিখে যাওয়া ঘাতকদের নামের সূত্র ধরে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব আসামি গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং পুলিশ এ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জনসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ও গলা কাটায় ব্যবহৃত ছুরি। মূল হত্যাকারীরা রাতেই গ্রেফতার হয়ে যায়। তাদের দেয়া তথ্যমতে অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সদস্যদের ধরতে সকাল গড়ায়।

এসপি জানান, মূল ৪ হত্যাকারী হলেন- মো. রুবেল, মো. আকরাম মোল্লা, হাসান, মো. রাজেন। এছাড়া গ্রেফতারকৃত অপর চারজন হলেন আমির বেপারী, তোফায়েল, সবুজ শেখ, কাজল শেখ। রাজন ও রুবেল আপন দুইভাই।

অ্যাডিশনাল এসপি (শ্রীনগর সার্কেল) আসাদুজ্জামান জানান, পরে দালাল আমির হোসেনের মাধ্যমে যাত্রাবাড়ীর তোফাজ্জলের কাছে অটোরিকশাটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তোফাজ্জল লৌহজংয়ের মসদগায়ের সবুজের কাছে সেটি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। সে রাতেই সবুজ আবার কাজলের কাছে ৭০ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি হস্তান্তর করে। পুলিশ লৌহজংয়ের কলমা গ্রামের কাজলের বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে আরেকটি চোরাই অটোরিকশাটিও কাজলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কাজলের বিক্রি করে দেয়া চোরাই আরো একটি অটো টঙ্গীবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। 

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, মৃত্যুর আগে মাটিতে আশরাফুলের লিখে যাওয়া নাম ধরেই হাসান ও রাজাকে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারের পরই বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনা। বুধবার সকালে কলমা থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশা ও গোয়ালীমান্দ্রা খাল থেকে  হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। 

আশরাফুলের মামা দেলোয়ার হোসেন জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে আশরাফুলের মরদেহ শ্রীগরের বাঘড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলে কান্নার রোল পড়ে যায়। আশরাফুলের স্ত্রী রুনা আক্তার ছয় বছরের মেয়ে মরিয়মকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার কান্নায় উপস্থিত কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। নির্মম এই হত্যার বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।

আশরাফুলের মামা আরো জানান, বাদ এশা বাঘড়া কবরস্থানে আশরাফুলকে দাফন করা হয়েছে। 

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরের বাঘড়ার থেকে রুবেল আর আকরাম লৌহজংয়ে যাওয়ার জন্য আশরাফুলের অটোরিকশা ভাড়া করে। পরে শ্রীনগরের বেজগাও পুরনো ফেরিঘাট এলাকা থেকে অটোতে ওঠে হান্নান ও রাজেন। পরে অটোটি লৌহজংয়ের কারপাশার নির্জন স্থানে এনে ঘাতকরা তাকে গলা কেটে অটো নিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে গলাকাটা অবস্থায় লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে আবার জ্ঞান ফিরলে এ সময় কাগজে কলম দিয়ে লিখেন শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাকের মোবাইল নাম্বার।

এরপরই মোবাইলে স্বজনদের খবর দেয়া হয়। শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় চিকিৎসক ঢাকায় রেফার্ড করেন। স্থানীয়রা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় রওনা হন। পথে মাওয়া থেকে স্বজনরা এসে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আশরাফুল মারা যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম