যশোরে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যশোরে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:১৩ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

যশোর সদরের সালতা গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে হাবিবুর রহমান খাঁ নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) টিএম মুসা এক রায়ে এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর সালতা গ্রামের আবুল কাশেম খাঁর ছেলে। এ মামলার অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সালতা গ্রামের শহর আলী শেখের মেঝ মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী রত্না একই গ্রামের আকবার মাস্টারের বাড়িতে কাজ করতেন। সেই সুবাদে হাবিবুর রহমান খাঁর সাথে তার পরিচয়। মাঝে মধ্যে হাবিবুর তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যেত কাজের জন্য। ২০১৭ সালের ২৮ মে দুপুর ১২টার দিকে রত্নাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান হাবিবুর ও মন্টু। গ্রামের বুড়ো মার জঙ্গলের কাছে খায়রুল তাদের দেখে। এরপর রত্নার আর খোঁজ মেলেনি। খায়রুল ঘটনাটি মেয়ের বাবাকে জানান। এরপর থেকে হাবিবুর ও মন্টুকে গ্রামে আর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তিনদিন পর ৩১ মে গ্রামের মেজের মোল্যার কবরস্থানে রত্নার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গ্রহণ না করায় নিহতের বাবা শহর আলী শেখ ১৪ জুন হাবিবুর রহমান খাঁ ও মন্টুকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

আদালতের আদেশে ২ জুলাই কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। এ মামলার তদন্তকালে হাবিবুরের দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দির তথ্য যাচাই বাছাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় হাবিবুর, মন্টু ও ইকবালকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি হাবিবুর রহমান খাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ের আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ