সাইফুর-অর্জুনকে দেখে জানোয়ার জানোয়ার স্লোগান দিল জনতা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

সাইফুর-অর্জুনকে দেখে জানোয়ার জানোয়ার স্লোগান দিল জনতা

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৫ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে নেয়া হচ্ছে আসামিদের

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে নেয়া হচ্ছে আসামিদের

সিলেটে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের কড়া পুলিশ পাহারায় প্রিজনভ্যানে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার দুপুরে আদালতে তোলা হয় তাদের। এ সময় মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করকে দেখে প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন উৎসুক জনতা।

আসামি সাইফুর ও অর্জুনকে আদালত চত্বরে হাজির করার পর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বিক্ষোভ করেন উপস্থিত জনতা। এই দুই আসামিকে নিয়ে আসার পর আদালত চত্বরে শতাধিক জনতা তাদের দেখে ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ স্লোগান শুরু করেন।

একই সঙ্গে ‘জানোয়ার জানোয়ার’ বলেও স্লোগান দেন স্থানীয় জনতা। কেউ কেউ ‘মার, মার’ বলেও উদ্যত হন। তবে পুলিশ তৎপর থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জনতার এই ক্ষোভের মধ্যেই পুলিশ নিরাপত্তাবেষ্টনি তৈরি করে সাইফুর ও অর্জুনকে সিলেট মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতে হাজির করা হয়।

আরো পড়ুন: সালাম না দিলেই মারধর, ছাত্রীদের ওড়না ধরে টান দিতো রবিউল

গত শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। এরপর দুইজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার নারীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

রোববার দুপুরে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জবানবন্দি দেন নির্যাতিত গৃহবধূ। এরপর তাকে আবার হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ ঘটনায় শনিবার অভিযুক্ত ছয়জনের নাম উল্লেখ করে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন গৃহবধূর স্বামী। পুলিশ রোববার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে সাইফুর রহমান ও হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করে। তারা দুজনই সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরো পড়ুন: লাশের পেটে ৩১ প্যাকেট ইয়াবা

মামলার আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক, হবিগঞ্জ সদরের বাগুনিপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর, দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল হাসান ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম। এছাড়া অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।

এ পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো পলাতক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম ও তারেকুল ইসলাম তারেক। তাদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম