অটোচালকের সততায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ফেরত পেলেন নারী

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অটোচালকের সততায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ফেরত পেলেন নারী

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৯ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

প্রকৃত মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান

প্রকৃত মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান

সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চালক মনির হোসেন। এ সময় সিটের পেছনে একটি ব্যাগ পান। যার ভেতরে ছিল ১৪ লাখ টাকা। এ টাকায় তিনি স্বাবলম্বী হতে পারতেন। কিন্তু না! সেই টাকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এ অটোচালক।

রোববার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূঁইয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিক রহিমা বেগমের হাতে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা তুলে দেন মনির হোসেন।

রহিমা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার চিনাইর গ্রামের এনামুল হোসেনের স্ত্রী। হারানো টাকা ফেরত পেয়ে তিনি অটোচালক মনির হোসেনকে ধন্যবাদ জানান।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে রহিমা বেগমসহ চারজন কাউতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশায় চিনাইর গ্রামের বাড়িতে ফেরেন। তাদের সঙ্গে একটি ব্যাগে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা, জমির দলিল ও ব্যাংকের চেক বই ছিল। অটোরিকশা থেকে নামার সময় ভুলে ব্যাগটি রেখে যান। এরপর ওই চালককে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার রামরাইলের বাসিন্দা অটোচালক মনির হোসেন বলেন, যাত্রী নামিয়ে আমি বাড়িতে চলে যাই। পরদিন শুক্রবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই। শনিবার সকালে অটো পরিষ্কার করার সময় টাকার ব্যাগটি পাই। পরে বিষয়টি একই উপজেলার ধরখার ইউপির বনগজ গ্রামের ফুফা মুক্তিযোদ্ধা সানু মিয়াকে জানাই। সানু মিয়া কাগজপত্র ঘেঁটে একটি মোবাইল নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন টাকাগুলো চিনাইর গ্রামের রহিমা বেগমের। পরে সানু মিয়া বিষয়টি আত্মীয় আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূঁইয়াকে জানান।

চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূঁইয়া বলেন, যাত্রী রহিমা বেগম ভুলে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ফেলে যায়। চালক আমাকে জানালে প্রকৃত মালিক ডেকে এনে রোববার তার হাতে টাকাগুলো তুলে দেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর