লইট্টায় সরগরম চট্টগ্রামের বাজার

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

লইট্টায় সরগরম চট্টগ্রামের বাজার

আদনান সাকিব, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৪ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

লইট্টা মাছের বাজার সরগরম

লইট্টা মাছের বাজার সরগরম

জেলেদের মুখে হাসির কমতি নেই। খাঁচাভর্তি মাছ নিয়ে সমুদ্র থেকে ফিরছেন তারা। ইলিশের পর এবার লইট্টা মাছের বাজার সরগরম। সামুদ্রিক মাছ লইট্টা আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে।

নগরীর নতুন ফিশারি ঘাট এলাকায় প্রতিদিন ভোরে ট্রলার থেকে নামছে খাঁচাভর্তি লইট্টা। পাইকারদের মাধ্যমে সেই মাছ বিক্রি হচ্ছে দ্রুত। সেখান থেকে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে। ক্রেতাদেরও চাহিদার কমতি নেই বলে জানান জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, বাজারে প্রতিকেজি লইট্টা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। প্রোটিনে ভরপুর এ মাছ হিমোগ্লোবিন তৈরি, পেশির শক্তিবৃদ্ধি, মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি, ইনসমনিয়া কমানো, শক্ত হাড় ও দাঁত তৈরি, পরিপাকে সহায়তা, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, ত্বক ও ঠোঁটের সুস্বাস্থ্যসহ অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারে আসে।

ট্রলার থেকে নামছে খাঁচাভর্তি লইট্টা

পুষ্টিবিদরা বলছেন, লইট্টা মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এটি মানুষের শরীরের রক্তনালীগুলোকে পরিষ্কার রেখে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়, হার্টের অতিরিক্ত রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিহত করে, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের লেভেল কমায়, রক্ত-সঞ্চালন বাড়ায়। এছাড়া লইট্টা মাছ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী। এ মাছের তেল ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। লইট্টা মাছ কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

অনেকে লইট্টা শুঁটকিও খেতে পছন্দ করেন। এতে থাকা ক্যালসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমায়। এ ক্যালসিয়াম পিরিয়ড শুরুর সময়ে নারীর মানসিক সমস্যা কমায়। যারা রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের জন্য আয়রনযুক্ত লইট্টা শুঁটকি বেশ কার্যকরী। লইট্টা শুঁটকির প্রোটিন শরীরের টিস্যু গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।

লইট্টাকে লোটে মাছ বা মুম্বাইয়ে লিজার্ড জাতীয় মাছ বলে। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘হার্পাধন নিহেরিয়াস’। এজন্য মাছটিকে স্থান বিশেষে অনেকে বলেন ‘নীহারি’ মাছ। ইংরেজিতে বলা হয় ‘বোম্বে ডাক’। এটি বৃটিশদের দেয়া নাম। বৃটিশ আমলে ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে লইট্টা শুঁটকি মালগাড়ি মেইল ট্রেনে বোম্বে আসতো। বৃটিশরা এ লইট্টা শুঁটকির চালানকে বলতো ‘মেইল’ বা ‘ডাক’। সেই থেকে নাম হয় ‘বোম্বে ডাক’। লইট্টা সাধারণত ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয় এবং সর্বোচ্চ আকার ৪০ সেন্টিমিটার নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রসনাবিলাস বাঙালি বিভিন্নভাবে লইট্টা মাছের স্বাদ উপভোগ করেন। এরমধ্যে আছে লইট্টা মাছের ঝুরা, লইট্টা শুঁটকি ভুনা, লইট্টা মাছের কাপ কেক, লইট্টা ভাজি ও লইট্টা মাছের ভুনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর