আট বছরেও উন্মোচন হয়নি জালাল হত্যার রহস্য

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

আট বছরেও উন্মোচন হয়নি জালাল হত্যার রহস্য

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩১ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:৪১ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার-ফাইল ফটো

মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার-ফাইল ফটো

বৃহত্তর ময়মনসিংহের সিংহ পুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদারের হত্যার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো উন্মোচিত হয়নি হত্যার রহস্য। ২০১২ সালের এ দিনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাগিচা পাড়া তার নিজ বাসায় মাথায় গুলি লেগে মৃত্যু হয় তার। 

তার মৃত্যু নিয়ে নানা মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও শুরু থেকেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি তার সন্তানদের। হত্যার এ তদন্তভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থার হাত ঘুরে সর্বশেষ হাইকোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল তদন্তে মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জালাল উদ্দিন তালুকদার ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ ত্যাগী নেতা। দলের জন্য বেশ কয়েকবার কারাভোগ করতে হয়েছে তারা। তারপরও দল ও কর্মীদের প্রতি তার ছিল ভালোবাসা। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। 

১৯৫১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গুজিরকোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জালাল উদ্দিন তালুকদার। তার বাবা কমর উদ্দিন তালুকদার ছিলেন ন্যায় ও নীতি প্রণয়ন ব্যক্তিত্ব। বাবার দেখানো আদর্শে ও পরিবারের সুশাসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হতে তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে সবসময়। 

জন্মের পর তার বেশির ভাগ সময় কেটেছে বাগিচা পাড়ার তার বাবার বাসায়। ১৯৬৫ সালের দিকে (তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান) কাশ্মীর বন্টন নিয়ে পাকিস্তান-ভারতের মাঝে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অংশে কাশ্মীর রাখার পক্ষে দুর্গাপুরে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলন সংগঠিত হয়। ওই আন্দোলনে মহারাজা কুমুদ চন্দ্র মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে যোগ দিয়ে জালাল উদ্দিন তালুকদার ন্যায়-নীতির পথে হাটা শুরু করেন। এরপর থেকেই ছাত্র আন্দোলন মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকারসহ সবকিছুতেই অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেন তিনি। 

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এ পাঁচ বছর তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকলেও মানুষের জন্য কল্যাণে পিছপা হননি তিনি। ছাত্রজীবন থেকে যে আদর্শ ও ন্যায় নীতির রাজনীতির শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ছিলেন তিনি জীবনের শেষ সময়ে এসেও মানুষের কল্যাণে তা অবহৃত ছিলো। ন্যায়, নীতি-আদর্শ, দেশ প্রেম, দলের প্রতি অনুগত থাকা এ বিষয়গুলোর প্রতি সব সময় তার দৃষ্টি ছিল প্রখর। অথচ ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে তার নিজ ঘরেই সন্ত্রাসীদের হামলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় তাকে। মৃত্যুর পর নিজ বাড়ির আঙিনায়ই সহধর্মিনী জহুরার বেগমের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয় তাকে । 

এ দিনটিকে ঘিরে প্রতিবছর মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে আসছে তার দুই সন্তান শাহ্ কুতুব তালুকদার রয়েল ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা তালুকদার। এ বছর সারাদেশে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব থাকায় দিনটিকে ঘিরে তেমন কোনো আয়োজন নেই কারো। তবে বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনায় জুমাবার ও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেছেন তার সন্তানরা। 

শাহ্ কুতুব তালুকদার রুয়েল তালুকদার বলেন, আমার বাবা সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, সুখে দুখে সবসময় পাশে ছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের গুলিতে আজকের এ দিনেই আমার বাবা মৃত্যু হয়েছিলো। আজ আট বছর অতিবাহিত হলো। হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনের বিভিন্ন বাহিনী কাজ করছে।

তার পরও আমি এ মামলার তদন্তের জন্য হাইকোর্টের কাছে জুডিশিয়াল তদন্তের আবেদন করেছিলাম। হাইকোর্ট আমার আবেদন মঞ্জুর করে। আমরা আশা করি শিগগিরই দোষীদের আইনের কাঠগড়ায় আনলে এলাকার মানুষ তাদের দেখতে পাবে। সঙ্গে আমার বাবার আদর্শ ধরে যেন আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করতে চাই এ দোয়াই চাই। 

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা তালুকদার বলেন, আমার বাবা কোনোদিন মানুষের কোন ক্ষতি করেনি। সবসময় মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করেছেন। আমার বাবা জালাল উদ্দিন তালুকদার এই এলাকার তিন তিনবার এমপি ছিলেন। তিনি মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য এককভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

কিন্তু তার এ মৃত্যু আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না। তার এ শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমি তার সন্তান হিসেবে ও এ এলাকার মানুষ তার মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো তার কারণ মানুষের কাছে জানতে চাই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আশা করি যত দ্রুত খুনিরা আইনের আওতায় আসবে। সেই সঙ্গে আমার বাবার শেষ ইচ্ছাটুকু পুরণে আমি সর্বোত্তম কাজ করে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ