ঘুষের ৯ লাখ টাকা গুনছেন কৃষি কর্মকর্তা, মুহূর্তে ভিডিও ভাইরাল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঘুষের ৯ লাখ টাকা গুনছেন কৃষি কর্মকর্তা, মুহূর্তে ভিডিও ভাইরাল

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৪ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ঘুষের টাকা গুনছেন কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন

ঘুষের টাকা গুনছেন কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন

নওগাঁর রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে নাছিমুজ্জামানের পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরেই আনোয়ার হোসেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে পরীক্ষা ও ভাইভার আগে পরে দফায় দফায় চেকের মাধ্যমে এবং নগদসহ মোট ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন নাছিমুজ্জামানের কাছ থেকে। 

আনোয়ার হোসেন একটি ঘরের সোফায় বসে বাম কানে মোবাইল ধরে কথা বলছেন আর ঘুষের টাকা গুনছেন। এরই মধ্যে ঘুষের টাকা গুনে নেয়ার পাঁচ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত উপপরিচালকের কাছে ভুক্তভোগী নাছিমুজ্জামান লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঠে নেমেছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি। আনোয়ার হোসেন বদলাগাছী উপজেলার কুশারমুড়ী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ছেলে।

২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে লোক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির আলোকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার যোগীভিটা গ্রামের রফিকুল আলম আকন্দের ছেলে নাছিমুজ্জামান আবেদন করেন।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ওই পদে নাছিমুজ্জামানের চাকরি হয়নি। পরে আনোয়ার হোসেনকে দেয়া টাকা ফেরত চান তিনি। কিন্তু আনোয়ার হোসেন টাকা না দিয়ে নাছিমুজ্জামানকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। অবশেষে টাকা ফেরত পেতে অভিযোগ করেন নাছিমুজ্জামান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৫ সেপ্টেম্বর আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নাছিমুজ্জামান বলেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয়। চাকরি দেয়ার কথা বলে তিনি দফায় দফায় চেকের মাধ্যমে ও নগদসহ মোট নয় লাখ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে আনোয়ার হোসেন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। এজন্য পাওনা টাকা ফেরত ও ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে বিচার করবে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সুজনের কর্মস্থল রানীনগর উপজেলার একডালা ইউপির শিয়ারা ব্লকে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। এমনকি খুদেবার্তা পাঠালেও জবাব দেননি তিনি।

রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করছে। তবে আনোয়ার হোসেন তার কর্মস্থলে নিয়মিত কাজ করছেন বলে শুনেছি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, তদন্ত করে প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নওগাঁ উপপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন আংশিক হাতে পেয়েছি। সব কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ