এতটুকু মেয়ের বড় কষ্ট, চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এতটুকু মেয়ের বড় কষ্ট, চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৮ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশু তাসফিয়া

কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশু তাসফিয়া

অসুস্থ সন্তান যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। বাবা হয়ে কিছুই করতে পারছেন না। এর চেয়ে বড় কষ্ট একজন বাবার জন্য আর কী হতে পারে। কিডনি রোগে আক্রান্ত  পাঁচ বছরের তাসফিয়ার যন্ত্রণার কথা জানাতে বারবার চোখ মুছছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সুতিভরট গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন। অবশেষে নিদারুণ কষ্টের কান্না আর থামাতে পারলেন না।

একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বলেন, তিন বছর ধরে তিনি মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন। চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে নিজের ফসলি জমি ও গরু বিক্রি করে বর্তমানে প্রায় নিঃস্ব অবস্থা। তাসফিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো টাকা আর তাদের নেই। চোখের সামনে দিন দিন মেয়ের অবস্থা খারাপ হতে দেখে অসহায় বোধ করছেন তিনি। চোখের সামনে মেয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। রাতে খুব কান্নাকাটি করে। কী যে কষ্ট হয়, কাউকে বোঝানো যাবে না। মেয়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের সহায়তার অনুরোধ করেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে তাসফিয়ার বাবা তোফাজ্জল হোসেন ও মা নার্গিস বেগম বলেন, এক বছর বয়সে তাসফিয়ার শরীর হঠাৎ ফুলে যায়। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তার কিডনির রোগ ধরা পড়ে। সেই থেকে নিয়মিত মেয়ের চিকিৎসা চলছে কখনো ঢাকায়, কখনো ময়মনসিংহে। সর্বশেষ তাসফিয়ার চিকিৎসা চলছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান আশুতোষ সাহা রায়ের কাছে। গত ৩১ আগস্টের পর টাকার অভাবে মেয়েকে আর চিকিৎসকের কাছে নিতে পারছেন না। গত এক সপ্তাহ ধরে শরীরে পানি এসে তাসফিয়ার শরীর ফুলে আছে।

শিশুটির দাদি রাজিয়া খাতুন বলেন, আমি ১৯৮৮ সাল থেকে ঢাকা শহরে মানুষের বাসায় কাজ করে গ্রামে কিছু জমি কিনেছিলাম। তিনটা গরু ছিল। নাতনির চিকিৎসার খরচ জোগাতে সবকিছু বিক্রি করেছি। এখন আর আমাদের কোনো সম্বল নেই।

চিকিৎসক আশুতোষ সাহা রায় শিশুটির রোগ সম্পর্কে বলেন, তাসফিয়ার কিডনির সমস্যাকে বলে ‘নেফ্রোটিক সিনড্রোম’। এতে প্রস্রাবে সমস্যা হয় আর ঘন ঘন শরীর ফুলে যায়। নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা আর ওষুধ সেবন করলে সুস্থ থাকে। শিশুদের বয়স ১২ থেকে ১৩ হলে অনেক সময় এই রোগ পুরোপুরি সেরে যায়। তবে নিয়মিত চিকিৎসা না হলে রোগ ক্রমেই জটিল হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ