নোয়াখালী জেলা নাজিরসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নোয়াখালী জেলা নাজিরসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নোয়াখালী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৪ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সাত কোটি ৭০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীর হোসেন এবং তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী, তার বোন ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে জেলা দায়রা ও বিশেষ জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন নোয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা (নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নোয়াখালী দুদক দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমতিক্রমে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নাজির আলমগীর হোসেনের অনেক দুর্নীতির তথ্য। তার পর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নোয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীর হোসেন এবং দুর্নীতিতে তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী নোয়াখালীর জুডিশিয়াল পেশকার নাজমুন নাহার, তার বোন আফরোজা আক্তার ও তার বন্ধু বিজন ভৌমিককে আসামি করে মামলা করেন।

মামলা পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা দায়রা জজ ও বিশেষ জজ আদালতে মামলার চার আসামি প্রত্যকের বিরুদ্ধে ৪২০, ৪৬৮, ৪৬৭, ৪৭১, ১০৯ ধারা ও তৎ সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ ৫(২) ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা তৎ সহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ধারায় চার্জশিট দখল করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির (সাময়িক বরখাস্তকৃত) আলমগীর ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পদোন্নতি পেয়ে রেকর্ড কিপার ও পরবর্তীতে নাজির হন। ২০০৬ সালে বিয়ে করে তার স্ত্রীকে ২০০৮ সালে জুডিশিয়াল পেশকারের চাকরি দেন। দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে তারা স্বামী স্ত্রী চাকরি জীবনে যা আয় করেন তার চেয়ে শতগুণ বেশি অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে যায়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে নাজির আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী নাজমুন নাহার, বোন আফরোজা আক্তার ও বন্ধু বিজন ভৌমিকের সহযোগিতায় সাত কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার, ৬২৫ টাকার অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখে এবং কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে নাজির আলমগীর ঐশী ট্রেডার্স নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ও হুন্ডি করে ৩৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মানিলন্ডারিং করেন।

তদন্তের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমতিক্রমে আসামি জেলা নাজির আলমগীর হোসেন, জুডিশিয়াল পেশকার নাজমুন নাহার, আলমগীরের বোন আফরোজা আক্তার, তার বন্ধু বিজন ভোমিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন। দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম জানিয়েছেন আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেছে। 

তিনি আরো জানান, সব আসামি উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে পেশ করা পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন। এরইমধ্যে দুদক আদালতের মাধ্যমে নাজির আলমগীরের বাড়ি ক্রোক করে বাড়িতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে এবং আসামিদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ