মেঘনায় বিলীনের পথে চরের ‘বাতিঘর’

ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৯ ১৪২৭,   ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মেঘনায় বিলীনের পথে চরের ‘বাতিঘর’

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১১ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

নিশ্চিন্তপুর শিকদার বাজার মডেল হাইস্কুল ভবন

নিশ্চিন্তপুর শিকদার বাজার মডেল হাইস্কুল ভবন

মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহিরউদ্দিনের নিশ্চিন্তপুর শিকদার বাজার মডেল হাইস্কুল ভবন। এটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভবনটির সঙ্গে যেন শত শিক্ষার্থীর স্বপ্নও বিলীন হচ্ছে।

জানা গেছে, চরাঞ্চলের মানুষের আশ্রয় ও শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারের লক্ষ্যে চরজহিরউদ্দিনে ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় নিশ্চিন্তপুর শিকদার বাজার মডেল হাইস্কুলের চারতলা ভবনটি। এর আগে ২০০৮ সালে ২১৬ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষককে নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিদ্যালয়টি।

স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর ভেতরে রয়েছে এক কোটি টাকা সমমূল্যের শিক্ষা উপকরণ। কিন্তু মেঘনার ভাঙনের কারণে আধুনিক এ ভবনটি বিলীনের পথে।

নিশ্চিন্তপুর শিকদার বাজার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে অন্য কোথাও বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালাতে পারতো। সেক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণও কমে আসতো। কিন্তু তাদের গাফিলতির কারণে এখন সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। বুধবার সন্ধ্যার দিকে ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছিল ভবনটি।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের বই-আসবাবপত্র-সোলারসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল নিয়ে আমরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি।

মলংচড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুন্নবী সিকদার বাবুল বলেন, চরের মানুষের আশ্রয় ও শিক্ষার প্রসার অব্যাহত রাখতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভোলা সদরের ইউএনও আল নোমান বলেন, এর আগে ভবনটি সরিয়ে নেয়ার জন্য বিডব্লিউডিবি কর্তৃপক্ষ টেন্ডার দিয়েছিল। কিন্তু বন্যার কারণে সেই কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। এরইমধ্যে ভবনটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর