দুলালের বুকভরা ভালোবাসা, স্ত্রীকে দিলেন হাতি

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুলালের বুকভরা ভালোবাসা, স্ত্রীকে দিলেন হাতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:২০ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বামীর কাছে বায়না ধরেছিলেন স্ত্রী তুলসী রানী দাসী। অভাবের সংসার তবু স্বামী দুলাল চন্দ্র রায় তা পূরণে নিজের জমি বিক্রি করেছেন। এমনকি গাছ-গাছালিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। আর এসব বিক্রি করে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় প্রিয়তমা স্ত্রীকে কিনে দিলেন একটি হাতি।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউপির দেউতিরহাট রথিধর দেউতি গ্রামে। দুলাল একই গ্রামের বীরেন্দ্র নাথের ছেলে।

দুলাল বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে আমার স্ত্রী তুলসী রানী বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করছেন। এক রাতে স্বয়ং পরমেশ্বর স্বপ্নে তুলসীকে হাতি কিনতে আদেশ করেন। ওই হাতি দিয়ে মানুষের চিকিৎসা ও পূজা-আর্চনা করারও আদেশ করেন ওই দৈবশক্তি। তা না হলে তুলসীর অমঙ্গল হবে।

দৈব আদেশ পালন ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা পালনে হাতিটি কিনেছেন বলে জানান দুলাল চন্দ্র রায়।

স্থানীয়রা জানায়, স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে হাতি কেনার জন্য নিজের ৭২ শতাংশ জমি, দুইটি গরু ও বাড়ির গাছ-গাছালি বিক্রি করে দেন দুলাল। দুই বিঘা জমিও বন্ধক রাখেন টাকা জোগাড়ের জন্য। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের আব্দুল করিম নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা মূল্যে একটি হাতি কিনে আনেন। হাতির দেখাশোনার সঙ্গে ১৫ হাজার টাকা বেতনের মাহুতও নিয়ে আসেন।

জানা গেছে, হাতির খাওয়া বাবদ প্রতি মাসে দুলালের খরচ পড়বে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে এ নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন কৃষক দুলাল। এর আগে একই ধরনের দৈব নির্দেশে এক বিঘা আবাদি জমি বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে গায়েবি নির্দেশে খরগোশ, রাজহাঁস, ও রাম ছাগল কিনেছেন এ কৃষক।

তুলসী রানী বলেন, দেবতা পরমেশ্বর বিভিন্ন সময়ে আমাকে আদেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীকে এটা-সেটা কেনার কথা বলি। সবশেষ দেবতা হাতি কেনার নির্দেশ দেয়ায় জমি-জমা, গরু বিক্রি করে তা পালন করা হয়।

পঞ্চগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কারণেই দুলাল হাতি কিনেছেন। স্ত্রীর কথামতো এর আগেও তিনি বিভিন্ন পশু-পাখি কিনেছেন।

লালমনিরহাট বন বিভাগের ফরেস্টার নূরুন্নবী বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বন্যপ্রাণী বাড়িতে রাখতে হলে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর