স্বপ্নে পাওয়া আদেশেই স্ত্রীকে হাতি কিনে দিলেন সেই কৃষক

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

স্বপ্নে পাওয়া আদেশেই স্ত্রীকে হাতি কিনে দিলেন সেই কৃষক

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৫ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:০৪ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ইনসেটে দুলাল চন্দ্র রায় ও তুলসী রানী দাসী

ইনসেটে দুলাল চন্দ্র রায় ও তুলসী রানী দাসী

২০ বছর আগে সংসার বাঁধেন দুলাল চন্দ্র রায় ও তুলসী রানী দাসী। দুলাল কৃষক হলেও সংসারে ভালোবাসার কমতি নেই। আর তুলসী ‘বিশ্বকর্মা’ আর ‘মহাদেব’র ভক্ত। গত ১০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত পূজা করছেন।

সপ্তাহ দুয়েক আগে স্বয়ং পরমেশ্বর তুলসীর স্বপ্নে দেখা দিয়ে একটি হাতি কিনতে বলেন। স্ত্রীর স্বপ্নে দেখা ‘দৈব আদেশ’ পূরণ করতে জমি বেচে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে হাতি কেনেন দুলাল।

এ দম্পতির বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউপির দেউতিরহাট রথিধর দেউতি গ্রামে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তারা টিনের ঘরে থাকেন। দুলালের বাড়িতে এখন সেই হাতি দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন।

হাতির মালিক দুলাল বলেন, টাকা-পয়সা তেমন না থাকলেও সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার কমতি ছিল না কখনো। আমার স্ত্রী ১০ বছর ধরে নিয়মিত পূজা করছেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে স্বয়ং পরমেশ্বর তুলসীর স্বপ্নে দেখা দিয়ে একটি হাতি কিনতে বলেন। সেই হাতি দিয়ে মানুষের চিকিৎসা আর পূজা-আর্চা করতে হবে।

দুলাল বলেন, স্ত্রী ওই দৈব আদেশের কথা বলার পর বিপাকে পড়ে যাই। কিন্তু দেবতার আদেশ বলে কথা, পালন না করলে যদি কঠিন অভিশাপ নেমে আসে। এ চিন্তা থেকে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে ১১ বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘা চাষের জমি বিক্রি করি। সেই জমি বিক্রির টাকায় সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে একটি হাতি কিনি। এরপর হাতিটি লালমনিরহাটে আনতে ট্রাক ভাড়া গুণতে হয়েছে আরো বিশ হাজার টাকা। হাতির দেখভাল করার জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে ইব্রাহীম মিয়া নামে এক মাহুতকেও সঙ্গে আনা হয়।

তিনি আরো বলেন, হাতিকে প্রতিদিন কলাগাছ, তিন কেজি ভুসি, দুই কেজি গুড় ও দুই কাঁদি কলা খাওয়ানো হয়।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলসী এর আগেও পশুপাখির প্রতি যত্নবান হওয়ার ‘দৈব আদেশ’ পাওয়ার কথা তাদের বলেছেন। সে কারণে কয়েক বছর আগে একটি ঘোড়া এবং পরে রাজহাঁস ও ছাগল কিনে এনে বাড়িতে পরিচর্যা শুরু করেন তুলসী। সম্প্রতি তিনি হাতির জন্য স্বামীর কাছে বায়না ধরেন।

স্বপ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তুলসী বলেন, বিশ্বকর্মা আমাকে স্বপ্নে নির্দেশ করেছেন হাতি কিনে তার যত্ন নিতে। দেবতা যতদিন রাখতে বলবেন ততদিন এ হাতি বাড়িতে থাকবে।

হাতির মাহুত ইব্রাহীম বলেন, প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা মজুরিতে মৌলভীবাজার থেকে এখানে এসেছি। থাকা ও খাওয়াও সংযুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে মাহুত তৈরি করতে স্থানীয় দুইজনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরা প্রশিক্ষিত হলেই আমি চলে যাব।

লালমনিরহাট সদরের ইউএনও উত্তম কুমার বলেন, হাতি আনার বিষয়টি শুনেছি। এরকম ঘটনা বিরল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর