থামছে না তিস্তার ভাঙন, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

থামছে না তিস্তার ভাঙন, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৭ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:২৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভাঙনে দিশেহারা লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের মানুষ। জেলার তিস্তা নদীর বাম তীরে ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিনে দিনে তিস্তার পেটে বিলীন হয়েছে একটি গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, ঈদগাঁ মাঠ ও ফসলি জমি।  

একদিকে তিস্তা নদীর বাম তীরে ভাঙন অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার নিচু অঞ্চলগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আমন ক্ষেতে।

গত জুন থেকে বন্যার কবলে পড়ে তিস্তা নদীর বাম তীরের লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা। বন্যার পানি কমলেও নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এখন পর্যন্ত বড় বন্যা না হলেও তিস্তার পানি প্রবাহ ওঠানামা করছে। পানি কমলে ভাঙন শুরু হয়।

আরো পড়ুন >>> সাপের ছোবল খেয়েও আজান দিয়ে নামাজ পড়ান ইমাম, অতঃপর...

তিস্তার ভাঙনে বাম তীরে ৫টি উপজেলায় প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে প্রিয় বসতভিটা, ঈদগাঁ মাঠ, রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, স্থাপনা ও ফসলি জমি। মাঝে মধ্যে ভাঙন তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারণ করে। চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে বসতভিটা ও আসবাবপত্র। ঘরবাড়ি সরানোর মতো সুযোগও পাচ্ছে না কেউ কেউ। 

প্রতিদিন তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে মানুষের মাথা গোজার ঠাই, সহায় সম্বল।
 
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে জেলার নিচু অনেক অঞ্চল। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে আমনের ক্ষেত। দু্ই দিনের বিরতির পর সোমবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।

তিস্তার ভাঙনে সব থেকে ক্ষতির মুখে পড়েছে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউপি, চন্ডিমাড়ী, গোবর্ধন, রজবটারি। কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউপির দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রাম।

আরো পড়ুন >>> তিস্তা পাড়ের দুঃখ ঘুচবে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকায়

গ্রামটির শতাধিক বসতভিটা ও ঐতিহ্যবাহী আহলে হাদিস ঈদগাঁ মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে গোবর্ধন ইসমাইল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দুই একদিনের মধ্যে গ্রামটির একমাত্র বিদ্যালয়টিও ভেঙে যাবে বলে শঙ্কিত এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, তিস্তার ভাঙন থামানোর জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, জেলার ৫টি উপজেলায় ৭৫৯টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে পুনর্বাসন করতে টিন ও টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে তা বিতরণ করা হবে। প্রতিনিয়তই নদীর পাড় ভাঙছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও প্রতিদিন বাড়ছে বলে জানান তিনি।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে