ইউটিউব দেখে মাল্টা চাষ, সাফল্যের দুয়ারে আফরোজা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইউটিউব দেখে মাল্টা চাষ, সাফল্যের দুয়ারে আফরোজা

নড়াইল প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

আফরোজা আক্তার

আফরোজা আক্তার

ইউটিউব দেখে পাঁচ একর জমিতে মাল্টার চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন চাষি আফরোজা আক্তার। এ বছর প্রথম গাছে ফল এসেছে। দেড় মাস পরেই পরিপক্ক মাল্টা বিক্রির উপযোগী হবে।  চার লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। 

আফরোজা আক্তারের স্বামী লাবলু সিকদার সৌদি প্রবাসী। গ্রামের বাড়ি কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউপির কাঠাদুরা গ্রামে। বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউপির লুটিয়া গ্রামে তাদের নিজস্ব জমিতে আড়াই বছর আগে শুরু করেন মাল্টা চাষ। 

আফরোজা আক্তার জানান, সৌদি প্রবাসী স্বামী লাবলু সিকদারের অনুপ্রেরণায় মালটা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ইউটিউবসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মাল্টা চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। খোঁজ খবর নিয়ে ময়মনসিংহের একটি নার্সারি থেকে ভালো মানের ১ হাজার ৩শ’ মাল্টা চারা কিনে চাষ শুরু করেন। নিবিড় পরিচর্যা আর যত্নে চারাগুলি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এক পর্যায়ে এ বছর গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। 

এক হাজার গাছে কম-বেশি ফল এসেছে

প্রথম বছর এক হাজার গাছে কম-বেশি ফল এসেছে। গাছ ভেদে ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত ফল ধরেছে। তুলনামূলকভাবে ফল কম ধরলেও সব মিলিয়ে প্রথম বছরে চার লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। 

আফরোজা আরো বলেন, মাল্টা গাছে মাঝে মধ্যে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তবে এ ব্যাপারে ইউটিউবের পাশাপাশি লোহাগড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করে তা দমন করা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য ফসল চাষের তুলনায় মাল্টা বাগানে সঠিকভাবে পরিচর্যা ও ফলন ভাল হলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হতে পারবো। তবে মাল্টা বাজারজাত নিয়ে দুর্ভাবনায় আছি। মাল্টা বাগানে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটির অবস্থায় খুব খারাপ। 

আরো পড়ুন >>> খালে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলী, প্রস্থ এখন অর্ধেক

নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা রাস্তাটি পাকা করার ব্যবস্থা করে দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

এদিকে মাল্টা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চাষিই মাল্টার বাগান দেখতে ভিড় করছেন এবং চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। আগামীতে মাল্টা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় একাধিক চাষি। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন মাল্টা বাগান পরিদর্শন করছেন এবং নতুন বাগান তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছেন। 

মাল্টা বাগানে চাষি আফরোজা আক্তারসহ অন্যান্যরা

ইতনা গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, খবর শোনে মাল্টার বাগান পরিদর্শনে যাই। কাঁচা অবস্থায় মাল্টা রস করে খেয়েছি। খুবই মিষ্টি। একজন নারী সাহস নিয়ে এতো বড় বাগান গড়ে তুলেছেন দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছি। একটি বাগান করার চিন্তা ভাবনা করছি। 

স্কুল শিক্ষার্থী লাবন্য খানম বলেন, বাজার থেকে মাল্টা কিনে খেয়েছি। কিন্তু এই বাগানের মাল্টার স্বাদ যেন আরো ভালো এবং মিষ্টি। 

লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, আফরোজা ৫ একর জমিতে মাল্টার চাষ করেছেন। সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশা করছি এ বছর ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হলে নড়াইলের চাহিদার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী যশোর ও গোপালগঞ্জে চাহিদার কিছুটা হলেও পূরণ হবে। এছাড়া আশপাশের এলাকায় চাষিরা মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, আফরোজা আক্তারের মাল্টা চাষ করার পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তিনি কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে মাল্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে