আল-আমিনের ফরমালিনমুক্ত মাল্টা, বিক্রিও হয় বেশি দামে

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আল-আমিনের ফরমালিনমুক্ত মাল্টা, বিক্রিও হয় বেশি দামে

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২১ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

নিজের মাল্টা বাগানে আল-আমিন মেম্বার, সঙ্গে চাঁদপুরের এডিসি (সার্বিক) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান

নিজের মাল্টা বাগানে আল-আমিন মেম্বার, সঙ্গে চাঁদপুরের এডিসি (সার্বিক) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউপি মেম্বার আল-আমিন। টেলিভিশনে কৃষি অনুষ্ঠান দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন তিনি। এরপর ফরমালিনমুক্ত মাল্টা চাষ করে সফলতাও পেয়েছেন।

ওই ইউপির সাতানি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন প্রায় ৪০-৪২টি মাল্টা গাছ নিয়ে বাগান করেছেন। প্রতিটি গাছেই ফলেছে শতাধিক মাল্টা। স্বাদে অনন্য এ ফল প্রতিদিনই তার বাগান থেকে সরাসরি কিনে নিয়ে যান খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। তাই বাজার মূল্যের চেয়ে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়।

আল-আমিন বলেন, চার বছর আগে বাড়িতে টিভিতে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানে মাল্টা চাষের খবর ও চাষ পদ্ধতি দেখে এ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। পরে নরসিংদীর একটি নার্সারি থেকে মাল্টার চারা সংগ্রহ করে নিজের ২০ শতক জায়গায় নতুন মাটি ফেলে বাগান তৈরি করি।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউপি মেম্বার আল-আমিনের মাল্টা বাগান

তিনি আরো বলেন, দুই বছরের মধ্যে গাছ বড় হয়, আড়াই বছরের মাথায় ফল ধরা শুরু হয়। গত বছর এখান থেকে ৫৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। আশা করি, এ বছরও ভালো ফলন হবে।

মাল্টা চাষে সাফল্য পেয়ে আরো দুই একর জমিতে বাগান সম্প্রসারণ করে মাল্টার পাশাপাশি ড্রাগন ফল চাষেও ঝুঁকেছেন আল-আমিন মেম্বার। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকেও নিচ্ছেন পরামর্শ।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন জানান, মাল্টা ও ড্রাগন ফল চাষে আল-আমিনকে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

আল-আমিনের বাগান ঘুরে দেখেছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তা নরেশ দাস জানান, চাঁদপুরে এখন ব্যক্তি পর্যায়ে মাল্টা চাষ করে অনেকে সফল হয়েছেন। মাল্টা চাষের বিষয়ে কেউ পরামর্শ নিতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস তা সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি আল-আমিনের বাগান ঘুরে দেখেছেন চাঁদপুরের এডিসি (সার্বিক) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও মতলব উত্তরের ইউএনও স্নেহাশীষ দাস। এ তরুণের উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর