সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কিনে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন কৃষক!

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কিনে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন কৃষক!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩০ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:২৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কিনে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন কৃষক!

সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কিনে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন কৃষক!

স্ত্রীর প্রতি প্রেমের স্মৃতি ধরে রাখতে তাজমহল গড়ে তুলেছিলেন সম্রাট শাহাজান। শুধু সম্রাট শাহজাহানই নয়, স্ত্রীর আবদারে নানা কাণ্ড করেছেন অনেক রাজা-বাদশা। এ যুগে সম্রাট, রাজা-বাদশা নেই। কিন্তু স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে সম্রাটদের মতোই অবাক করা কাণ্ড করেছেন কৃষক স্বামী দুলাল চন্দ্র রায়। সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় একটি হাতি কিনে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন এ কৃষক স্বামী। এতে হাতি দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

দুলাল লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউপির রথিধর দেউতি গ্রামের বীরেন্দ্র নাথের ছেলে।

কয়েক বছর আগে প্রাণী সংরক্ষণ ও যত্ন নেয়ার জন্য স্বপ্নে নির্দেশনা পান দুলাল চন্দ্রের স্ত্রী তুলসী রানী দাসী। স্বপ্ন অনুযায়ী স্বামীর কাছে প্রাণী পালনের জন্য আবদান করেন তুলসী। স্বামী প্রথমে একটি ঘোড়া, রাজহাঁস ও ছাগল কিনে দেন। সেই প্রাণীগুলোকে যত্ন করেন তুলসী রানী। এক বছর আগে আবারো স্বপ্নের মাধ্যমে হাতি পালনের নির্দেশ পান তুলসী। এ বিষয়টি স্বামীকে জানিয়ে হাতি কেনার আবদারও করেন তিনি। 

কিন্তু হাতি কিনতে বিশাল টাকার প্রয়োজন। তাই স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে ১১ বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘা বিক্রি করেন দুলাল। সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে সিলেটের মৌলভীবাজারে হাতির সন্ধান পেয়ে যান। সেখান থেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি কেনেন তিনি।

২০ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করে হাতিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন দুলাল। একইসঙ্গে হাতির দেখভাল করতে ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন দিয়ে ইব্রাহিম নামের এক মাহুতকেও এনেছেন এ কৃষক।

হাতি দেখতে আসা অতুল চন্দ্র বলেন, হাতি কেনার গুঞ্জন অনেক দিন থেকেই শুনছি। অবশেষে জমি বিক্রি করেই স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন কৃষক দুলাল। সবার মতো নিজেও হাতি দেখতে এসেছি। দুলাল যদিও প্রভাবশালী, তবে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি হয়তো করবেন না। 

কুড়িগ্রাম রাজারহাট থেকে আসা শতবর্ষী বাসন্তী রানী বলেন, হাতি দেখার সুভাগ্য অনেক বার হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণের জন্য হাতি কেনা প্রথম শুনলাম। তাই হাতিটি দেখতে এসেছি।

হাতির মাহুত ইব্রাহীম বলেন, প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা মজুরিতে মৌলভীবাজার থেকে এখানে এসেছি। থাকা ও খাওয়াও সংযুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে মাহুত তৈরি করতে স্থানীয় দুইজনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরা প্রশিক্ষিত হলেই আমি চলে যাব।

হাতির মালিক দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, আপাতত হাতির পিছনে মাহুতের মজুরি ও কলাগাছের জন্য দৈনিক ১০০-১৫০ শত টাকা ব্যয় হচ্ছে। স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ ও তাকে খুশি করতেই হাতিটি কিনেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ