তরমুজের দুই জাত উদ্ভাবন

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তরমুজের দুই জাত উদ্ভাবন

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৭ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৮ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

উদ্ভাবিত নতুন জাতের তরমুজ

উদ্ভাবিত নতুন জাতের তরমুজ

দেশেই বীজ উৎপাদন সম্ভব এমন দুইটি তরমুজের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা। বারির সবজি বিভাগ এবং আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লেবুখালি, পটুয়াখালীর যৌথ উদ্যোগে এ দুইটি জাত উদ্ভাবন করা হয়।

সোমবার গাজীপুরে এ দুই জাতের গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার এবং বারির মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম।

দুই জাতের গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন বিজ্ঞানীরাপরিদর্শন শেষে তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত বিশুদ্ধ লাইন থেকে উদ্ভাবিত এ দুইটি ওপি (ওপেন পলিনেটেড) জাতের একটির ভেতরে (মাংসল অংশ) হলুদ এবং অপরটির ভেতরে টকটকে লাল। শিগগিরই নিবন্ধনের মাধ্যমে এ জাত দুইটি কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বারির বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে প্রটোকল অফিসার আল-আমিন বলেন, বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে যেসব উন্নতমানের তরমুজ পাওয়া যায়, এর প্রায় সবই জাপান বা অন্যান্য দেশ যেমন- চীন, থাইল্যান্ড, ভারত থেকে আমদানি করা শংকর জাতের বীজ থেকে উৎপাদন করা হয়। ফলে তরমুজের বীজ আমদানি বাবদ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। এছাড়া এসব জাতের বীজের বিশুদ্ধতা ও অঙ্কুরোদগম হার সব সময় ঠিক না থাকায় কৃষকরা প্রতারিত হন।

তিনি আরো বলেন, বারি উদ্ভাবিত জাত দুইটি থেকে কৃষক নিজেই বীজ উৎপাদন করতে পারবেন। এদের ফলন, আকৃতি, স্বাদ ও মিষ্টতা প্রচলিত জাপানি শংকর জাতের চেয়ে উন্নত। এছাড়া এ জাত দুইটি বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী অমৌসুমি জাত হওয়ায় কৃষক এখান থেকে অধিক লাভবান হবেন। হাইব্রিড জাত হিসেবে উন্মুক্ত হওয়ার পর ব্যাপক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে বীজ আমদানি বাবদ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব হবে এবং তরমুজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. মিয়ারুদ্দীন, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. মো. কামরুল হাসান, পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম, সবজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী ইসলাম, জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানিরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর