‘তুই’ বলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে মেরেই ফেললেন স্বামী

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘তুই’ বলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে মেরেই ফেললেন স্বামী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৮ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৫ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিহত তামরীন নাহার পপি (বামে) স্বামী শাহীন (ডানে)

নিহত তামরীন নাহার পপি (বামে) স্বামী শাহীন (ডানে)

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ‘তুই’ সম্বোধন করায় রাগের বশে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন শাহীন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানান, ‘তুই’ সম্বোধন করে তাকে বকা দেন স্ত্রী। এতে রাগের বশে স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে চোখে-মুখে ও মাথায় পানি ঢেলে হাসপাতালে নিয়ে যান। একপর্যায়ে স্ত্রী মারা যান।

ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালানোর সময় পুলিশের হাতে আটক হন শাহীন। রোববার রাতে এ ঘটনায় হত্যা মামলার পর সোমবার শাহীনকে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

নিহত তামরীন নাহার পপি নান্দাইল পৌরসভার ঝালুয়া মহল্লার আবু ছাঈদ মণ্ডলের মেয়ে। শাহীনের বাড়ি একই উপজেলার আাঁচারগাও ইউপির সিংদই গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হেলিম।

জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে শাহীনের সঙ্গে পপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শাহীন শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। শনিবার সকালে বাড়ির অন্যরা বেড়ানোর উদ্দেশে বাইরে যান। এরপর স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে পপিকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় টের পান প্রতিবেশীরা। কিছুক্ষণ পর খবর আসে পপি মারা গেছেন।

এদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহালের সময় পপির গলার দুই পাশে আঘাতের চিহ্ন দেখে। একপর্যায়ে নিহতের স্বামীকে খোঁজ করেন পুলিশ সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের গেট থেকে স্বামী শাহীনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। প্রথমে স্ত্রীর হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। পরে রোববার রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শাহীন দায় স্বীকার করেন। ওই রাতেই শাহীনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আবু ছাঈদ মণ্ডল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর