স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করাই বিপলুর পেশা

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করাই বিপলুর পেশা

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৪২ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রতারক বিপ্লব হোসেন ওরফে বিপলু

প্রতারক বিপ্লব হোসেন ওরফে বিপলু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউপির মোক্তারপুরের আতিয়ার রহমানের ছেলে বিপ্লব হোসেন ওরফে বিপলু। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে জড়িয়ে পড়েছেন মানবপাচার চক্রে, খুলে বসেছেন প্রতারণার ব্যবসা। ভালো কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে অনেক বেকার যুবককে করেছেন সর্বস্বান্ত। যেন এটাই তার পেশা।

সম্প্রতি বিপলুর ফাঁদে পা দিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা খুইয়েছেন একই গ্রামের কৃষক রিকাউল হোসেনের ছেলে মাবুদ। ভালো কাজ পাইয়ে দেয়া ও জঙ্গলপথে ওমান পাঠানোর নামে তার কাছ থেকে টাকাগুলো নিয়েছেন বিপলু। এ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সহায় সম্বল বিক্রি করে দিয়েছেন মাবুদ। সব হারিয়ে দিশেহারা এ যুবক এখন আইনি সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রতারণার শিকার মাবুদ বলেন, বিপলু আমাদের গ্রামেরই ছেলে। দীর্ঘদিন ওমানে থাকার পর সে দেশে ফিরে আসে। এরপর আমাকে ওমান পাঠানো ও ভালো বেতনে চাকরির স্বপ্ন দেখায়। ভাগ্যের চাকা ঘোরার স্বপ্ন দেখে আমিও তার প্রস্তাবে রাজি হই। বিপলু চার লাখ টাকা চাইলে আমি সহায় সম্বল বিক্রি ও ধার-দেনা করে তাকে এক বছর আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেই। বাকি ৫০ হাজার টাকা পরে দেব বলে জানাই।

তিনি আরো বলেন, টাকা নেয়ার পর বিপলু নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে। আমার পরিবারের চাপাচাপিতে ২৯ আগস্ট সে আমাকে নিয়ে চট্টগ্রামে যায়। সেখানে আমাকে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করলে আমি পালিয়ে বাড়ি চলে আসি। এরপর ওমান যাব না জানিয়ে বিপলুর কাছে টাকা ফেরত চাই। কিন্তু সে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। এখন সে লাপাত্তা।

ওই গ্রামের অনেকেই জানান, বিপলু বেকার যুবকদের বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে কাজও করে না, টাকাও ফেরত দেয় না। গ্রামের অনেকেই তার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। মাবুদের বেলায়ও একই অবস্থা হয়েছে।

একই গ্রামের মিলন ও মামুন বলেন, বিপলু দেড় বছর বিদেশে থাকার পর গ্রামে এসে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ পেতে সে বেকারদের পাচার করে। এভাবে অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিপলু।

অভিযুক্ত বিপলু মুঠোফোনে বলেন, আমি এক সময় ওমানে ছিলাম। মাবুদ আমার গ্রামের ছেলে। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ভুক্তভোগী যুবক লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর