মাদারীপুরে ঘুমন্ত পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাদারীপুরে ঘুমন্ত পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

মাদারীপুর সদর থানা

মাদারীপুর সদর থানা

মাদারীপুরে দ্বন্দ্বের জেরে বসতঘরে আগুন দিয়ে ঘুমন্ত পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিকে পুড়্যে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিম আক্তার নামে এক শিশুর শরীর ঝলসে গেছে। শিশুটি বর্তমানে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার ভোরে সদর উপজেলার রাস্তি ইউপির পূর্ব হাজরাপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজ্জাক শেখ গা ঢাকা দিয়েছেন।

জানা গেছে, রাজ্জাক শেখের ছেলে আসলাম শেখ ছয় বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান। এরপর থেকে রাজ্জাক শেখের সঙ্গে পুত্রবধূ শম্পা আক্তারের পারিবারিক বিরোধ চলছিলো। শম্পাকে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন রাজ্জাক। কিন্তু শম্পা ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর ও পুত্রবধূর মধ্যে বিরোধ চলছিলো।

শনিবার বিকেলে রাজ্জাক শেখের মেয়ে বাড়িতে মিস্ত্রী নিয়ে আসেন ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের ঘর তুলে দেয়ার জন্য। এ সময় রাজ্জাক শেখ পুনরায় তার মেয়ে ও পুত্রবধূকে বাড়িতে ঘর তুলতে বাধা দেন। এ নিয়ে বিকেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাত তিনটার দিকে হঠাৎ শম্পা ঘরে আগুন দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ সময় ঘরের মালামালের সঙ্গে শিশু মিমের শরীর পুড়ে যায়। রোববার ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শম্পা আক্তার বলেন, অনেকদিন ধরে আমার শ্বশুর আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলছেন। না গেলে ঘর পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছিলেন তিনি। শনিবার রাত তিনটার দিকে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আমার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এ সময় আশপাশের মানুষ এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমার মেয়েটার পিঠ আগুনে পুরো ঝলসে গেছে।

রাস্তি ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার গোলাম মাওলা বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল শ্বশুর ও পুত্রবধূর মধ্যে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে নিয়ে আমরা একাধিকবার সালিস করেছি। শ্বশুরকে বহুবার বলেছি। এক পর্যায়ে আমি এসে ঘর তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করি। আগুন দেয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, আগুনের ঘটনা শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যার ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে সেই ব্যক্তি বিদেশে থাকেন। বিদেশ থেকে ফোনে আমাদের জানিয়েছেন এটা পারিবারিক বিষয়। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর