বিক্রি হওয়া সন্তান মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন আইনমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিক্রি হওয়া সন্তান মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন আইনমন্ত্রী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪০ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৫ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক (ফাইল ছবি)

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক (ফাইল ছবি)

‘একজন মা গাইবান্ধার একটি ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দিয়ে মেডিকেল বিল পরিশোধ করার জন্য ১৬ হাজার টাকায় তার সন্তানকে বিক্রি করেছেন।’ 

ওই ঘটনায় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টাকা দিয়ে বিক্রি করা সন্তানকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসন গাইবান্ধার ওই মায়ের কোলে সন্তান তুলে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে শনিবার একটি ইংরেজি দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলে তা আইনমন্ত্রীর নজরে আসে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের কুকুর ধরে নিয়ে রান্না হচ্ছে ভারতে

রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি আইনমন্ত্রীর মনে দারুণভাবে পীড়া দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিনি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দিয়ে নবজাতককে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান।
 
‘আইনমন্ত্রীর অনুরোধে শনিবারই গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন নবজাতকে জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে উদ্ধার করে মা আঞ্জুলা বেগমের কোলে ফেরত দেয়।’
 
এছাড়া ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করার জন্য যে টাকা নেয়া হয়েছিল তা ফেরত দেয়ার জন্য আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন বরাবর ১৬ হাজার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল।
 
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঞ্জুলা বেগমকে ২০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, একটি শাড়ি, একটি লুঙ্গি ও দুই হাজার টাকা দেয়া হয়।

আরো পড়ুন: ভোলায় হঠাৎ টর্নেডোর আঘাত, শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত

রোববার আঞ্জুলা বেগমের বোনের ছেলে ছানারুল ইসলাম জানান, আঞ্জুলা বেগমের স্বামী শাহজাহান মিয়া ছোটবেলায় গাইবান্ধার সদর উপজেলার সোলাগাড়ী গ্রামে আসেন এবং সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। এরপর একই গ্রামের আঞ্জুলা বেগমকে বিয়ে করেন। এরপূর্বে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান হয়। তাদের নিজস্ব কোনো জমি ও বাড়ি নেই। শাহজাহান মিয়া অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। স্ত্রী ও সন্তানসহ পাঁচজনের পরিবারে খুব অভাব অনটন তার।
 
গাইবান্ধার যমুনা ক্লিনিকের মালিক ফরিদুল হক সোহেল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে চতুর্থ সন্তান জন্মদানের জন্য আঞ্জুলা বেগম তার ক্লিনিকে ভর্তি হন এবং রাত ১টার দিকে সিজারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন। অনেক চেষ্টায় বিল পরিশোধ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ক্লিনিক থেকে রিলিজ নেন আঞ্জুলা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম