ফ্ল্যাট কেনার টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর ওপর নির্যাতন

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ফ্ল্যাট কেনার টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর ওপর নির্যাতন

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি          ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪০ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন গৃহবধূ ইলা

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন গৃহবধূ ইলা

নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমীন ইলা। রোববার বেলা ১১টায় ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইলা বলেন, আমার স্বামী আমাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতো। ২০১০ সালের ১৯ মার্চ বিয়ে হয় আমাদের। বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ ঘরসাজানোর আসবাবপত্র যৌতুক দিয়েছিলেন আমার বাবা। কিছুদিন পরই ওই স্বর্ণালংকারগুলো বিক্রি করে দেয় আমার স্বামী আব্দুল আজিজ। পরে ঢাকায় অবস্থানের সময় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা দাবি করে আমার কাছে। তার দাবি পূরণ না করায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আমার ওপর। 

২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় ২৬ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়। এ মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় আদালত। তাকে তিনবার গ্রেফতার করা হলেও আর্থিক সুবিধা দিয়ে বের হন।

আমার আট বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। আমি এখন আমার বাবা ইসাহক আলীর বাড়ি গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে অবস্থান করছি। তবে এ রকম ঘটনা অনেকবার ঘটার পরেও ইসলামী ব্যংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তিনি আরো বলেন, আব্দুল আজিজের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউপির চরকুশাবাড়ি গ্রামে। তিনি ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ ঢাকার মতিঝিল লোকাল শাখায় কর্মরত ছিলেন। নারী নির্যাতন মামলায় কয়েক মাস জেল খাটার পরেও তিনি মুঠোফোনে প্রতি নিয়ত বিভিন্ন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে আমি গুরুদাসপুর থানায় জিডিও করেছি। তার পরও থামছেনা হুমকি। বর্তমানে তিনি ইসলামী ব্যাংক সুনাম গঞ্জের জগন্নাথপুর শাখায় কর্মরত আছেন 

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও আব্দুল আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপক মো.শহিদুল্লাহ বলেন, আমার স্টাফের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে সেটা আদালত বিচার করবে। হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন কে হুমকি দিয়েছে আপনি বলতে পারবেন?

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ