আল্লামা শফীকে হারিয়ে কাঁদছে হাটহাজারী মাদরাসা!

ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৯ ১৪২৭,   ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আল্লামা শফীকে হারিয়ে কাঁদছে হাটহাজারী মাদরাসা!

আদনান সাকিব, চট্টগ্রাম (মহানগর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৫৮ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ০০:০৬ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আল্লামা শাহ আহমদ শফী। ফাইল ছবি

আল্লামা শাহ আহমদ শফী। ফাইল ছবি

জীবনের দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিখ্যাত কওমী মাদরাসা আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলামে কাটিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সর্বশেষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাদরাসার মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দেশজুড়ে রেখে গেছেন অসংখ্য ছাত্র, শিক্ষক, ভক্ত ও অনুসারী। তাই তার মৃত্যুর খবর শুনে স্থবির চিরচেনা সেই মাদরাসার পরিবেশ। যেনো হু হু করে কাঁদছে মাদরাসার প্রতিটি দেয়াল।

হুজুরের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তগুলোর স্মৃতি জড়িয়ে কাঁদছেন অনেকেই। নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সারাদিনের কোলাহলপূর্ণ মাদরাসাটি।

মুফতি মাজহারুল ইসলাম কাসেমী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া র জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা শেষে হাটহাজারী মাদরাসায় পড়েছি। আল্লামা শফী আমাদের শিক্ষক ছিলেন। খুবই বিনয়ী আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন তিনি। তার অবদান অপূরণীয় হয়ে থাকবে। 

ইবনে কাসেম নামে মাদরাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, বড় হুজুরের মৃত্যুর খবরে মুহূর্তেই মাদরাসার সব কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে গেছে। পুরো মাদরাসায় কান্নার রোল পড়ে গেছে। এই ধরনের খবরের জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না।

আরো পড়ুন >>> পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা ১৪ অক্টোবর

তিনি বলেন, মাদরাসার মূল গেট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে আইডি কার্ড দেখে দেখে শুধু ছাত্রদেরই এখন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। বড় হুজুরের মরদেহ এলে তখন সবাইকে ঢুকতে দেয়া হবে।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর খুলে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান ফটক। দুই দিনের আন্দোলনের সময় বন্ধ থাকার পর জুমার নামাজের সময় ওই ফটক খোলা হলেও জুমার নামাজ শেষে ফটকটি আবারো বন্ধ করে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

তবে এখনও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাইরে কাউকেই মাদরাসায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। মূল গেইটে চেকপোস্ট বসিয়ে আইডি কার্ড দেখে দেখেই শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের মাদরাসায় প্রবেশ করানো হচ্ছে। আল্লামা আহমদ শফীর জানাজার সময় ফটক সবার জন্য খুলে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

আগামীকাল শনিবার জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসায় আল্লামা আহমদ শফীর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এরপর মাদরাসার ভেতরে বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কবরস্থানে এই আলমকে দাফন করা হবে।

এদিকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতাল থেকে আল্লামা আহমদ শফীর মরদেহ জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তার মরদেহের কাফন দেয়া হবে। রাতেই ঢাকা থেকে মরদেহ চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানী।

আরো পড়ুন >>> আল্লামা শফীর লেখা ১০টি বই

জানা গেছে, শনিবার ফজর নামাজের পর থেকে জোহর নামাজ পর্যন্ত হাটহাজারী মাদরাসার এক শ্রেণিকক্ষে আল্লামা শফীর মরদেহ শেষ দেখার জন্য রাখা হবে।

আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানী বলেন, আগামীকাল শনিবার জোহরের নামাজের পর মাদরাসার মাঠে একমাত্র জানাজা শেষে বাবাকে মাদরাসার কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তিনি বলেন, আমার বাবাও একটি জানাজার পক্ষে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম পদ থেকে পদত্যাগ করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল আল্লামা আহমদ শফীকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হলেও পরে আল্লামা শফীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌছেন তিনি। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে