মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন আল্লামা শফী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন আল্লামা শফী

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:২২ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

আল্লামা শাহ আহমদ শফী

আল্লামা শাহ আহমদ শফী

চট্টগ্রামের মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজত আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মাদরাসার মজলিসে শুরার কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন। রাত ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদরাসার শুরা সদস্য ও মেখল মাদরাসার পরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী এ ঘোষণা পাঠ করে শোনান।

ঘোষণায় বলা হয়, মুহতামিম বা মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যাওয়ায় আল্লামা শফীকে সদরে মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে মাওলানা নুরুল ইসলাম কক্সবাজারিকে থেকে অব্যাহতি দেয়ার পাশাপাশি মাওলানা আনাস মাদানীর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

এদিকে পদত্যাগ করার পরও আল্লামা আহমদ শফীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পাওয়া গেছে। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি হাসপাতাল যেতে চাইলেও তাকে আটকে রেখেছে আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দাবিতে বুধবার থেকে হাটহাজারী মাদরাসায় বিক্ষোভ করছে ছাত্ররা। এ সময় মাদরাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীসহ বিভিন্ন শিক্ষকের রুমে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু সরকারি ওই আদেশ না মানার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বুধবার রাতে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো লাঠি হাতে পুরো মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মাদরাসার সব গেট তালাবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি সহকারী পরিচালক মাওলানা শেখ আহমদ, মুফতি জসিম ও মাওলানা ওমরের রুমে ভাঙচুর চালানো হয়।

হাটহাজারী মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া এক ভিডিওতে মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফীর কক্ষেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা এসপি রশিদুল হক, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েলের, অ্যাডিশনাল এসপি (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা, অ্যাডিশনাল এসপি (ডিএসবি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মাসুদ আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মাদরাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম