সুনামগঞ্জে তিন গ্রামজুড়ে শোকের মাতম

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সুনামগঞ্জে তিন গ্রামজুড়ে শোকের মাতম

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৫৫ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:০২ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় যাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের বাড়িই সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় কামাউড়া, ইনাতনগর ও জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে আনার পর শোকবিহ্বল স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে উপস্থিত গ্রামবাসীর নিহতের পরিবার গুলোকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা হারিয়ে চোখের জল ফেলেছেন। এক সঙ্গে এত মানুষের মরদেহ এর আগে কখনো দেখেনি উপজেলাবাসী। 

বুধবার সকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দার উপজেলার বড়খাপন ইউপির রাজনগর গ্রাম সংলগ্ন গুমাই নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কলমাকান্দার বড়খাপন ইউপিতে রাজনগর গ্রাম লাগোয়া গুমাই নদীতে এ দুর্ঘটনার সময় ৩০-৩৫ জন যাত্রী বহনকারী ট্রলারটির সঙ্গে বালুবাহী ভলগেইটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

এ ঘটনায় প্রাণ হারানো ১০ জন হলেন সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার কামাউড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী লাকি আক্তার ও তার আড়াই বছরের ছেলে জাহিদ মিয়া, চার বছরের মেয়ে টুম্পা আক্তার, একই এলাকার ছায়েদ আলীর স্ত্রী মর্জিনা আক্তার, আলমগীরের ছয় বছরের ছেলে অনিক মিয়া, ধর্মপাশার মধ্যনগর ইউপির ইনাতনগর গ্রামের আবদুল ওয়াহাবের স্ত্রী লুৎফুন্নাহার ও তার দুই বছরের ছেলে রাকিবুল, জামালপুর গ্রামের কবীর মিয়ার স্ত্রী সুলতানা বেগম ও তার তিন বছরের ছেলে আল মুজাহিদ।

নিহত প্রত্যেকের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার সহায়তা

‌নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ধোবালা গ্রামের ভায়রা ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে  যাইতে চাইছিলাম। এই বেড়ানিটাই আমার কাল হইলো, এক বছরের ছেলে, মেয়ে আর স্ত্রীকে হারাতে হল। এই শোক কি করে সইব। প্রিয়জন হারিয়ে পাগল পায় ট্রলারডুবিতে নিহত ধর্মপাশার মধ্যনগর ইউপির ইনাতনগর গ্রামের গৃহবধূ লুৎফুন্নাহারের স্বামী আব্দুল ওয়াহাব। 

তিনি ছেলেকে নিয়ে আর তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে ট্রলারের ভেতরে ছিল। চোখের পলকেই কি যেন হয়ে গেল বলেই বিলাপ করছেন তিনি। নৌকা ডুবে গিয়ে  স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ খুঁজে পেলেও এক বছরের মেয়ে এখনও নিখোঁজ আছে।

এভাবেই কেউ যাচ্ছিন মেয়ের জামাই বাড়ি আবার কেউ বোনের বাড়ি, আবার কেউ ভাইয়ের বাড়িতে কিন্তু কে জানত এই বেড়ানোই শেষ হবে তাদের জীবন।

স্থানীয় এলাকাবাসী আরো জানান, যে ট্রলারটি যাত্রী পরিবহন করেছিল তার ফিটনেস কিংবা ট্রলারে কোনো নিরাপত্তাসামগ্রী ছিল না। সেটি ছোট্ট একটি ট্রলার। এই ছোট ট্রলারের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ ট্রলারডুবির ঘটনায় মধ্যনগর ও পাইকুরাটি ইউপির তিনটি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।   

পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ট্রলারডুবিতে নিহতরা সবাই যার যার আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন সেই যাওয়া আর হলো না। আনন্দ করতে গিয়ে সবাই এখন লাশ হয়ে নিজ নিজ বাড়ি ফিরছে। প্রিয়জন হারিয়ে তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা হতবাক, বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।       

ধর্মপাশার ইউএনও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব জানান, নেত্রকোনার ডিসি কাজী মো. আবদুর রহমান ও সুনামগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ নৌকা ডুবির ঘটনার পর খবর পেয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

নৌকা ডুবির ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে তা খুঁজে বের করার জন্য নেত্রকোনার জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা রয়েছে। 

সুনামগঞ্জের ডিসি আব্দুল আহাদ জানান, ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ২জন ও মধ্যনগর থানার ৭জন মারা গেছেন। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ঘটনাস্থলে পৌছেছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার সহায়তা দেয়া হয়েছে। 

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা। বালুবাহী ভলগেটের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিন চালিত নৌকার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে