২১ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি একমাত্র মহিলা কলেজ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৪ ১৪২৭,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

২১ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি একমাত্র মহিলা কলেজ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:২১ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ

রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ

দীর্ঘ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত হয়নি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার একমাত্র মহিলা কলেজ রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজটি। ফলে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অনেক শিক্ষক। পাঠদানে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থী। মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ২৬ জন কর্মচারী।

প্রয়াত দেশ বরেণ্য কৃষক নেতা ফজলুল হক খোন্দকার এর সার্বিক চেষ্টায় রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। ২০০০ সালে সরকারি অনুমতিপত্র পায় কলেজটি। ২০০১ সালে তৎকালীন এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর অদৃশ্য কারণে কলেজটি এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। দেশের বৃহত্তম উপজেলা রায়পুরার ২৪টি ইউপি ও ১টি পৌরসভার মধ্যে একমাত্র মহিলা কলেজ হিসেবে গড়ে উঠেছে এটি, যেখানে প্রায় ৭ লাখ লোকের বসবাস।

নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে বর্তমানে এ কলেজে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে গ্রামীণ এলাকাকে সুশিক্ষিত করে তুলছে। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা বিনা বেতনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন এই বুঝি তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা হলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সর্বশেষ এমপিওভুক্তিতেও যখন তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা হয়নি তখন তাদের মাঝে হতাশা চরম আকার ধারণ করে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয় স্বজনের কাছে তারা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

হতাশা চরমে উঠায় এ পর্যন্ত ১৫ জন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আবার অনেকে অন্যত্র চলে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে অনেক শিক্ষক তার শিক্ষিত গৃহবধূকে দিয়ে হলেও শিক্ষক সংকট দূর করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে এ কলেজের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান এমন প্রশ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহলের। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েও এ কলেজটি নরসিংদী-৫ আসনের এমপি রাজিউউদ্দিন আহমেদ রাজু একাধিকবার ডিও লেটার দেয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম না আসায় এলাকার জনগণ, শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের রোষানলে পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ড. শফিউল আজম কাঞ্চন বলেন, কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে এ বৃহৎ উপজেলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই আমরা প্রাণের বিনিময়ে হলে কলেজটি রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সর্বশেষ এমপিওভুক্তির তালিকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার নাম সর্বস্ব ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব সব ধরনের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও আমরা বাদ পড়েছি।

এদিকে, এতসব হতাশার মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ