প্রবেশ নিষেধাজ্ঞায় আর্থিক ক্ষতিতে সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

প্রবেশ নিষেধাজ্ঞায় আর্থিক ক্ষতিতে সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। এ বন দেখার ভীষণ আগ্রহ রয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। প্রতি বছর কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা ভিড় করতেন সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। করোনার প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কিছুদিন আগে খুলে দেয়া হয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন সব ইকো ট্যুরিজম সেন্টার ও হোটেল রিসোর্ট। তবে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলমান সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় এখনো পর্যটক শূন্য দর্শনীয় স্থানগুলো। ফলে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি চরম আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন ট্রলার মালিক, ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সুন্দরবন পশ্চিম জোনের সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকার পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক ফেরদাউস বলেন, মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ি থেকে কলাগাছিয়া, দোবেকি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়মিত পাশ দেয়া হতো এছাড়া পর্যটন মৌসুমে হিরোনপয়েন্ট, দুবলার চরসহ দূর যাত্রার ও রাত্রিকালীন অবস্থানের জন্য ৩ থেকে পাশ দেয়া হতো। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সব ধরনের পর্যটন প্রবেশ ও নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পাঁচ মাস পর চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে জেলেদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আমরা এখন কর্মহীন, লাখ লাখ টাকায় তৈরিকরা ট্রলারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ফ্রেন্ডস ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল্স এর পরিচালক তমজিদ মল্লিক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন ,প্রতিবছর সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ দিয়ে কয়েক লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করে। এই খাত থেকে সরকার বছরে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। করোনার প্রভাব কমায় দেশের অন্য অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। অথচ এখনো সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেয় হচ্ছে না। আমরা যারা এই সেক্টরে ব্যবসা করি আমাদের এখন পথে বসার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছি।  

সুন্দরবন সংলগ্ন বসরা রিসোর্ট এর ম্যানেজার মো.রাজু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, করোনার প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকে এ অঞ্চলের সব হোটেল, রিসোর্ট রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। কোরবানি ঈদের পর থেকে আমাদের রিসোর্ট খোলার অনুমতি পেয়েছি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি। ফলে নতুন করে কেউ আসছেন সুন্দরবন ভ্রমণে। তবে সুন্দরবনে পর্যটক না আসায় আমাদের রিসোর্ট ফাঁকা পড়ে আছে। আগে এখানে ৪০জন কর্মচারী ছিল বর্তমানে আছে মাত্র ১৫ জন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে শুধুমাত্র মাছ ধরার জন্য জেলেদের প্রবেশের অনুমতি দেয় হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি না পাওয়ায় পর্যটকদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

করোনা সংকটে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১৭ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন হোটেল রিসোর্ট রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ পুরো সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবন জুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার নির্দেশনা ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ