চট্টগ্রামে এবার আলোচনায় ‘লেডি গ্যাং’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রামে এবার আলোচনায় ‘লেডি গ্যাং’

রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৩ ২৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২০:৩৫ ২৮ আগস্ট ২০২০

‘লেডি গ্যাং’ লিডার সিমরান সিমি ও মারধরের শিকার অধরা আহমেদ

‘লেডি গ্যাং’ লিডার সিমরান সিমি ও মারধরের শিকার অধরা আহমেদ

ছিনতাই, মারধর ও মাদকসহ নানা কর্মকাণ্ডে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচিত কিশোর গ্যাং। আর এর মাঝেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে নতুন গ্যাং। তবে এবার কিশোর নয়, নতুন আলোচনায় ‘লেডি গ্যাং’।

সম্প্রতি কয়েকজন কিশোর-কিশোরী মিলে এক তরুণীর বাসায় গিয়ে তাকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইনে কিশোর গ্যাং কালচারের বিরোধের জেরে ওই তরুণীকে বেধড়ক মারধর করে পাঁচ কিশোর-কিশোরীর একটি দল। পরে ‘শিক্ষা দিতে’ তারা নিজেরাই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

মারধরের শিকার তরুণীর নাম অধরা আহমেদ। মঙ্গলবার নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা কসাই গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অধরার দাবি, আপত্তিকর প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় শাখাওয়াত নামের এক কিশোরের ইন্ধনে লেডি কুইন সিমরান সিমি গ্রুপের কয়েকজন তার উপর হামলা চালায়।

তিনি বলেন, ফেসবুকে নাজিম উদ্দিন নাম ব্যবহার করে শাখাওয়াত আমার খারাপ ছবি চেয়েছিল। না দেয়ায় সে বেশ কিছুদিন ধরে ইনবক্সে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলো। সে বলেছে খারাপ ছবি না দিলে আমার আইডি হ্যাক করবে এবং আরো অনেক প্রকার হুমকি দিয়েছে।

বাসায় একা থাকায় নিরুপায় হয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে উল্লেখ করে অধরা বলেন, শাখাওয়াত, তানিয়া, সিমি, শাওন ও আরেফিন বাসায় এসে আমার উপর হামলা করে। তিনজন মেরেছে এবং দুইজন ভিডিও করেছে। তারাই আবার সেই ভিডিও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করেছে।

প্রস্তাবে সাড়া দিলে এমনটি হতো না জানিয়ে অধরা বলেন, আজ যদি আমি খারাপ ছবি দিতাম, তাহলে এমন পরিস্থিতি হতো না। আমি আমার সম্মান বাঁচাতে মার খেলাম। আমি কি সত্যিই বিচার পাবো না? আজ এই লজ্জা সহ্য করতে না পেরে যদি আমি কিছু করে ফেলি, তার দায়ভার কে নেবে?

এদিকে, হামলার দায় স্বীকার করে সিমরান সিমি বলেন, কারো দোষ না থাকলে কেউ কাউকে এভাবে পেটায় না। সে আমাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে।

সবকিছু করে অধরা এখন অসহায় সেজেছে- মন্তব্য করে সিমি বলেন, ‌তার পাশে নাকি কেউ নেই। সে তো সব সময় হেডাম দেখায়। তার এই আছে, তার সেই আছে। আমার কথা হচ্ছে- আমার লেভেল যতটুকু আমি ততটুকুতে থাকবো।

সিমি বলেন, মারধরের ভিডিও ছাড়া অধরার কাছে আমাদের বিরুদ্ধে আর কোনো প্রমাণ নেই। প্রমাণ একটাই আমরা মারধর করেছি। তাছাড়া আমরা তো আর কোনো খারাপ কাজে, অবৈধ কাজে ধরা পড়িনি। যার কারণে আমাদের মান সম্মানের ক্ষতি হবে। আমরা মারধর করেছি। মেয়ে-মেয়ে বাজাবাজি হতেই পারে। ডাজ নট এ ম্যাটার।

অধরা নিজের বান্ধবীকেও পিটিয়েছে উল্লেখ করে সিমি বলেন, এর আগে অধরা নিজেও বাসার গলির সামনে কয়েকটা ছেলে দিয়ে তার এক বান্ধবীকে পিটিয়েছে।

সিমি আরো বলেন, হ্যাঁ, দোষ আমার ছিল, দোষ তারও ছিল। সে একা মার খায়নি। আমি যখন তাকে মারছিলাম, সেও আমার চুল ধরে মারামারি করেছে। প্রশাসন আর মিডিয়ার কাছে আমার অনুরোধ- এক তরফা বিচার যেন না হয়।

এ ঘটনায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মানসিক চাপে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে মজা নিচ্ছে। কিন্তু আসল ঘটনা কী তা জানেনই না। আমি একটা ছবি আপলোড করেছি। সেখানে সে খারাপ কমেন্ট করেছে। যার কারণে বাধ্য হয়ে আমাকে যেতে হয়েছে।

সিমি বলেন, আমি ইপিজেড থানায় গিয়েছিলেম। থানায় তার মামলা নেয়া হয়নি। থানা থেকে বলা হয়েছে- মেয়ে-মেয়ে মারধর করেছে, এখানে আমরা কিছু করতে পারবো না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইপিজেড থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় মোহনা আক্তার (ফেসবুকে অধরা আহমেদ) একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেডএম/এআর