সড়কে শুয়ে-বসেই তারা সেলিব্রিটি!

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সড়কে শুয়ে-বসেই তারা সেলিব্রিটি!

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ১৪ আগস্ট ২০২০  

সড়কে শুয়ে-বসে ভিডিও ধারণ করেন তারা

সড়কে শুয়ে-বসে ভিডিও ধারণ করেন তারা

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ পরিচিত নাম ‘টিকটক’ এবং ‘লাইকি’। মূলত উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরাই এ দুইটি প্ল্যাটফর্মের অন্যতম অনুসারী। তাদের কাছে এটি প্রতিভা প্রকাশের মাধ্যম হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রতিভার নামে ‘টিকটক’ এবং ‘লাইকি’ অ্যাপে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করছেন এসব উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা। এমনই অভিযোগ উঠেছে এসব অ্যাপের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, এসব অ্যাপের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের মনে কুরুচিকর প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া টিকটক অপু ওরফে অপু ভাই অন্যতম উদাহরণ। তবে এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এ দুইটি অ্যাপ হাজারো অপু ভাই তৈরিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে চট্টগ্রামেও বেড়েছে এসব ভার্চুয়াল সেলিব্রিটিদের আনাগোনা। সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ফৌজদারহাট-বায়েজীদ লিংক রোডটি তাদের আনাগোনায় ভরপুর। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে এ সড়কে ভিড় জমান এসব তরুণ-তরুণীরা। এরপর সড়ক দখল করে মেতে ওঠেন সেলিব্রিটি হওয়ার প্রতিযোগিতায়। এতে তাদের যেমন ঝুঁকি নিতে হয়, তেমনি দুর্ভোগ পোহাতে হয় সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন চালক এবং যাত্রীদের।

ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও করেন তারা

সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার পণ্য নিয়ে ফৌজদারহাট-বায়েজীদ লিংক রোড দিয়ে যাতায়াত করেন ট্রাকচালক মোহাম্মদ রুবেল। তিনি বলেন, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা এ সড়কে জড়ো হন। তারা সড়ক দখল করে রাখেন। এছাড়া সড়কের ওপর বসে এবং শুয়ে ভিডিও ধারণ করেন। এতে আমাদের যাতায়াতে অসুবিধা হয়। কিছু বলতে গেলে তারা আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। ফলে আমরাও চুপচাপ চলে যাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিকটক সেলিব্রিটি জানান, টিকটক হচ্ছে প্রতিভা প্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে একটি। এর মাধ্যমে বিনোদন নেয়ার পাশাপাশি টাকাও উপার্জন করা যায়।

সড়ক দখল করে ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। তাই আমরা এখানে এসে ভিডিও করি। চালু হলে আর করব না। এ অবস্থায় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব কি না জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাস বলেন, ফৌজদারহাট-বায়েজীদ লিংক রোড প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে তরুণ-তরুণীদের আড্ডার বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও ধারণ করা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানান রাজীব দাস।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি আমাদের নজরে ছিল না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর