অসহায় বৃদ্ধের ৪ বছরের ভাতা পিয়নের পকেটে

ঢাকা, রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২০,   কার্তিক ১৭ ১৪২৭,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অসহায় বৃদ্ধের ৪ বছরের ভাতা পিয়নের পকেটে

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ৭ আগস্ট ২০২০  

দাকোপ সমাজসেবা কার্যালয়ের পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায়

দাকোপ সমাজসেবা কার্যালয়ের পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায়

খুলনার দাকোপ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধের ভাতা বই আটকে রেখে চার বছর ধরে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন ওই উপজেলার পানখালি ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঠাকুর দাস রায়।

ভুক্তভোগী ঠাকুর দাস রায় জানান, চার বছর আগে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেন একই এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসের পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায়। কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে কার্ড হয়নি, এই তো হবে, প্রক্রিয়া চলছে বলে টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে জানা গেছে চার বছর ধরে ভাতা বই আটকে রেখে ঠাকুর দাসের টাকা আত্মসাৎ করছেন পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায়। বিষয়টি যখন সবার নজরে এলে ১৪ জুলাই রাতে ঠাকুর দাসের বাড়িতে গিয়ে বইটি দিয়ে আসেন পিয়ন। ওই সময় বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, হারিয়ে গেছিল বলে পার পেয়ে যান তিনি।

ভুক্তভোগী আরো জানান, ভাতা বইটি ২০১৬ সালে অনুমোদন পায়। গত চার বছর ধরে তার বই দিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছিলেন সুভাষ চন্দ্র রায়।

অভিযুক্ত পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, তার ও ঠাকুর দাস রায়ের মধ্যে পূর্বের কিছু লেনদেন ছিল। এ কারণে তিনি ভাতা বই ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেছেন।

দাকোপ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রবীর রায় জানান, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নয়। দাকোপ সমাজসেবা কার্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। পিয়ন সুভাস চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, পিয়ন সুভাষ চন্দ্র রায় এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কার্যালয়ের কাজের জন্য কম দামে বালু কিনে বেশি বিল দেখানো ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেয়া হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর