জোয়ারে ভাসছে ৫০ গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জোয়ারে ভাসছে ৫০ গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০১ ৬ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৬:১০ ৬ আগস্ট ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে নদী-তীরবর্তী প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে গত তিন দিনে নদীতে প্রায় ৫-৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দুই লক্ষাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জোয়ারের পানি কমেনি বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পানির চাপে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট ফেরী ঘাটের সড়ক ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ-রুটের ফেরী চলাচল। 

জোয়ারে রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও সদর উপজেলায় কয়েকটি ঘেরের কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে ও কমলনগরে এক খামারের ৫ হাজার মুরগি পানিতে ডুবে মারা গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি মুরগি খামারির। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় কাঁচা-পাকা রাস্তা, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। শত-শত বসতঘরে পানি ঢুকে ক্ষতি হয়েছে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামালের। 

রায়পুর উপজেলার চরাআবাবিলসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩ হাজার পানের বরজ কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। পান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন চাষিরা। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, রায়পুর থেকে সদর ও কমলনগর হয়ে রামগতি পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার নদী এলাকার প্রত্যেকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের করাতিরহাট, চররমনী মোহন, ভূঁইয়ার হাট, চরমেঘা, রায়পুরের চর আবাবিল, খাসেরহাট, চরলক্ষ্মী, চরবংশী, চরভৈরবী, হাজীমারা, চরকাচিয়া, জালিয়ার চর, কুচিয়ামোড়া, চরঘাশিয়া, টুনুরচর, কমলনগরের চরফলকন, চরকালকিনি, চরলরেন্স, নবীগঞ্জ ও রামগতিরর বড়খেরী, চরআলগী, চররমিজ, চরআবদুল্লাহ, চরআলেকজান্ডারসহ প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদীর তীর থেকে এসব এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি ঢুকেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৫০টি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে নদীর তীর থেকে ৪ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নদী সংযুক্ত খাল, পুকুর, বসতঘর, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়-প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও কোমর পরিমাণ পানিও হয়েছে। এতে মেঘনা উপকূলীয় মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় হোসেন আহমেদ, আনোয়ার ও কামরুল জানান, বছর পর বছর মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মাইলের পর মাইল বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। নদীর তীরে ফের বাঁধ নির্মাণ না করায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা। বেড়ি বাঁধ না থাকায় পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  

মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের ছেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট বেড়ে যায়। এ সময় তীব্র বাতাস ও স্রোতে নদীর পানি ঢুকে পড়ে, মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ জনপদ যেনো ‘সাগরে’ রূপ নেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রামগতি ও কমলনগর উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, পানিবন্দিদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। পানিবন্দিদের মাঝে শুকনো খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী জানান, জোয়ারের কারণে বেশ কিছু কাঁচা, আধাপাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

সদর ইউএনও শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, জোয়ারের পানিতে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মজুচৌধুরীরহাট ফেরী ঘাটের ফেরী চলাচল বন্ধ রযেছে। দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।   

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ