হাসপাতালে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকলে দিতে হচ্ছে ১০ টাকা, আরএমওকে হুমকি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

হাসপাতালে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকলে দিতে হচ্ছে ১০ টাকা, আরএমওকে হুমকি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৮ ৩ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আপনি কি আরএমও বলছেন। আপনি আমাকে চিনেন। আমি সুমন, বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। আপনি এর প্রতিবাদ করেন আপনার সাহস তো কম না। আপনার দৌড় কোন পর্যন্ত আমি কিন্তু জানি। আমি আপনাকে দেখে নেব। এভাবেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম সজিবকে হুমকি দিচ্ছিলেন হাসপাতালের গেটের সামনে মোটরসাইকেল থেকে চাঁদা আদায়কারী সুমন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গেটে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দিতে হচ্ছে ১০ টাকা করে চাঁদা। আর কেউ এ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে নাজেহাল হতে হচ্ছে।

রোববার বিকেল তিনটার দিকে সরেজমিনে সদর হাসপাতালে এ চিত্রই দেখা যায়। হাসপাতালের গেটে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করতেই সুমন ও তার দুই তিনজন সহযোগী মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন। কেন গতি রোধ করা হলো এ বিষয়ে সুমন নিজেকে হাসপাতালের মোটরসাইকেলের গ্যারেজের ঠিকাদারি দাবি করে ১০টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় ১০ টাকা চাঁদা দিয়ে রশিদ দাবি করেন এক রোগীর স্বজন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান সুমন। রোগীর ওই স্বজনকে গালমন্দ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। 

ছিলিমপুর থেকে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে তার এক স্বজনকে দেখতে। স্বজনকে দেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় আনোয়ার হোসেন রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপরই শুরু হয় তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি।

এদিকে হাসপাতালের মোটরসাইকেল গ্যারেজটি ঈদ উপলক্ষে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ মর্মে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। অথচ তারা অন্যায়ভাবে সব মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করছে। এ নিয়ে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সবিজকে এক ভুক্তভোগী মুঠোফোনে জানায়। এ সময় সজিব অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে মুঠোফেনে টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তাকেও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন সুমন।

রোগীর সঙ্গে দেখা করতে আসা আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তার এক স্বজনকে দেখতে। তিনি প্রথমে মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রাখতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন ঈদ উপলক্ষে ৪ আগস্ট পর্যন্ত নোটিশ টাঙিয়ে গ্যারেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপর তিনি সেখানে মোটরসাইকেলটি হাসপাতালের নিচে রেখে রোগী দেখে ফেরার সময় তার গতি রোধ করেন সুমন। এ সময় তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কি কারণে ১০ টাকা জানতে টাইলে সুমন জানায়, মোটরসাইকেলের গ্যারেজ ভাড়া। এ সময় তিনি ১০ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, হাসপাতালে মোটরসাইকেল গ্যারেজটি ঈদ উপলক্ষে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। আর গ্যারেজ খোলা থাকলেও যার ইচ্ছে মোটরসাইকেল রাখবে, যার ইচ্ছে রাখবে না। এ কারণে তো কেউ জোর করে টাকা নিতে পারে না। সুমন যেভাবে টাকা আদায় করছে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ