আখাউড়ায় চামড়া নিয়ে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

ঢাকা, সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আখাউড়ায় চামড়া নিয়ে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২০ ২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৬:১৩ ২ আগস্ট ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে এবার বিপাকে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাজারে দাম কম থাকায় সংগ্রহ করা এসব চামড়া লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবার পৌর শহরের বড় বাজার এলাকায় বসে চামড়ার হাট। পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউপি থেকে চামড়া সংগ্রহ করে সেখানে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে বিক্রির হাটে চামড়ার তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে। 

মৌসুমি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকার চামড়া বিক্রির ভালো দর দিয়ে ছিল। কিন্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় বড় পাইকারদেরকে এলাকায় ডুকতে না দেয়ায় প্রকৃত দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছি। 

মাহফুজ, আশরাফুল, নাজির হোসেনসহ একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গরুর চামড়া নিচে ১ শ টাকা থেকে উপড়ে ২০০ টাকা, মহিষ ১শ থেকে ১৫০ শ, ছাগল ৫০ টাকায় ক্রয় করা হয়। 

স্থানীয় বাজারে ওইসব চামড়া বিক্রির জন্য নেয়া হলে পাইকাররা আরো নিচে দর দেয়ার সারা রাত বসে থেকে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়। 

ফুরকান মিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে  প্রায় ২ শতাধিক  চামড়া ক্রয় করা হয়। চামড়াগুলো বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারে নেয়া হলে ভালো দর পাওয়া যায়নি। চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে লোকসান দিয়ে প্রতি চামড়া ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। 

তিনি আরো বলেন, যেহেতু ওইসব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ, শ্রমিক মজুরিসহ অন্তত এক একটি চামড়ায়  আরও এক থেকে দেড়শ টাকা। খরচ পড়বে তাই লোকসানে বিক্রি করা হয়।  

নাজির হোসেন বলেন, মাদরাসার জন্য সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছাত্ররা ৬০টি চামড়া সংগ্রহ করেছে। চামড়া বিক্রির হাটে বিক্রির জন্য নেয়া হলে সেখানে ক্রেতা নেই বলে চলে। চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়ায় শেষ পযর্ন্ত ৮০ টাকা দরে চামড়াগুলো বিক্রি করতে হয়েছে। 

প্রতি বছর কোরবানির ঈদ আসলে শহরসহ গ্রামাঞ্চলের স্থানীয় কিছু লোক অধিক মুনাফা লাভের আশায় গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া নিজেদের মতো করে কিনে নেয়। কয়েক ঘণ্টা ব্যাবধানে ক্রয়কৃত কোরবানির পশুর চামড়াগুলো তারাই আবার অতিরিক্ত মুনাফায় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।  কিন্তু ওই সব চামড়া পাইকাররা কিনতে অনিহা প্রকাশ করায় অনেকটাই বিপাকে পড়তে হয় তাদের। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম