এলা কি হামার নদীর ব্রিজ হবে?

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

এলা কি হামার নদীর ব্রিজ হবে?

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩২ ১৩ জুলাই ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

এর আগত তো হামার মন্ত্রী ছিল আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেই সময় কতবার যে মন্ত্রী আমাক কয়া গিছে এই নদীর উপর ব্রিজ হবে। এখন তো মন্ত্রী বলে হয় নাই, এলা কি হামার নদীর ব্রিজ হবে?

কথাগুলো বলছিলেন নশরতপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা আমেনা বেগম। তিনি আরো বলেন, বাহে এ্যাইঠে হামাক একখ্যান পুল বানে দ্যাও। এ্যাইঠে পুল না হইলে হামার যে খুব অসুবিধা হচে। কতদিনে যে এ্যাইঠে এ্যাকখান পুল হইবে। হামার এ্যাইলার দু:খ ঘুচিবে। হামরা নদীর ওই পারত যায়া আবাদ করি, গরু- ছাগলগুলাক ঘাস খাওয়াই।

কিন্তু সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তারা এসব কাজ কর্ম করতে পারছেন না। তাদেরকে দূর দিয়ে ঘুরে গিয়ে কাজ কর্ম সারতে হচ্ছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রাণীরবন্দর হাটের উত্তর-পূর্ব কোণে ইছামতি নদীর ওপরে আছে ৭০ ফুটের বাঁশের সাঁকোটি। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কালো বৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ

সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি, দুবলিয়া, লালদিঘী, ক্যানেলের বাজার, পীরেরহাট এবং চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর, আলোকডিহি, গছাহার, চকগোবিন্দ, উত্তর পলাশবাড়ি সহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারন করে। এ বাঁশের সাঁকোটি দিয়েই এসব এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ ৫০ হাজার লোক যাতায়াত করে থাকেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতদিন ব্রিজের নিচ দিয়ে পারাপার করা গেলেও এখন বর্ষা শুরু হওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

ফতেজংপুর ইউনিয়নের চকগোবিন্দ গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে অটোরিকশা কিংবা রিকশাভ্যান যোগে ঘাটেরপাড় হয়ে কলেজ মোড় দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন এসব এলাকার লোকজন। নির্ধারিত সময়ে আমরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাণীরবন্দরহাটে নিতে পারছি না। এতে স্বল্প মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের নিক্কন দাস জানান, এস্থানে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি অনেক পুরোনো হওয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। অর্থের ব্যবস্থা করে সাঁকোটি পূনরায় নির্মাণ বা মেরামত করা প্রয়োজন।

চিরিরবন্দর নশরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম শাহ্ নুরু জানান- সাঁকোটি ভেঙে গেছে। সবার দাবি এখন সাঁকোর বদলে একটি ব্রিজ। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই সরকারিভাবে টেন্ডার আহবান করা হবে।

চিরিরবন্দরের ইউএনও গোলাম রব্বানী বলেন, চিরিরবন্দরের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে রানীরবন্দর বাজার। এই বাজারের পাশেই বয়ে গেছে ইছামতি নদী। এই নদীর উপর ব্রিজ হওয়ার চূড়ান্ত কাজ শেষ হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই টেন্ডার হয়ে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম