যবিপ্রবির ল্যাবে আরো ৩ জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন

ঢাকা, শনিবার   ১২ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

যবিপ্রবির ল্যাবে আরো ৩ জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন

যবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৯ ১৮ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৬ ১৮ মে ২০২১

গবেষণার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। 

গবেষণার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে আরো তিন রোগীর শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত করা হয়েছে। দুজনের নমুনা ১২ মে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে, আরেকজনের নমুনা ১৬ মে নড়াইল থেকে যবিপ্রবির ল্যাবে পাঠানো হয়। 

মঙ্গলবার সকালে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে একদল গবেষক সিকুয়েন্সির মাধ্যমে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত করেন। গবেষণার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। 

জিনোম সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। দুজন পুরুষের মধ্যে একজনের বয়স ৬১ এবং আরেকজনের বয়স ৩৭ বছর। আর নারীর বয়স ২৭ বছর। সবাই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

যবিপ্রবির গবেষক দল জানায়, B1.617.2 নামের ধরনটি জিনোম সেন্টারে শনাক্ত করা হয়েছে। ৮ মে যবিপ্রবির ল্যাবে সর্বপ্রথম দুইজন করোনা রোগীর নমুনায় ভারতীয় ধরন শনাক্ত করা হয়। ধরনটি এরইমধ্যে ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরনটিসহ সব ভারতীয় ধরনকে উদ্বেগের বলে আখ্যা দিয়েছে। 

এরইমধ্যে ভারতীয় ধরনগুলো নেপালেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত ফেরত কোনো রোগীর করোনা পজিটিভ হলে জিনোম সিকুয়েন্সের মাধ্যমে ধরনটি শনাক্ত আবশ্যিক বলে মনে করে গবেষক দল। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ায় সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো কারণে চালক ও সহকারীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন বলে অভিমত তাদের। 

গবেষক দল জানিয়েছে, ভারতীয় এ ধরনটি ২০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের সক্ষমতা রাখে। ভ্যাকসিন পরবর্তী ‘সেরাম এবং মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ এ ধরনকে কম শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারে। সুতরাং মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অতিদ্রুত সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা প্রয়োজন।   

জিনোম সেন্টারে ভারতীয় ধরন শনাক্তকরণের গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন ড. তানভীর ইসলাম, ড. হাসান মোহাম্মদ আল-ইমরান, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, শোভন লাল সরকার, এএসএম রুবাইয়াত-উল-আলম, সাজিদ হাসান, আলী আহসান সেতু।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম