দুই কুঁজ বিশিষ্ট উটের দেশ
15-august

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২,   ১ ভাদ্র ১৪২৯,   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

দুই কুঁজ বিশিষ্ট উটের দেশ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ৩ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৪:০৩ ৩ আগস্ট ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাইবেরিয়া অঞ্চলটি নানা প্রাকৃতিক তাণ্ডবের শিকার হয়েছে। আবার এই অঞ্চলটি অনেক ইতিহাসেরও সাক্ষী। একটি ঘটনার কারণে সাইবেরিয়া থেকে শতকরা ৯০ভাগ প্রাণী চিরদিনের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দূর্লভ বাঘের বসবাস এই অঞ্চলে। সাইবেরিয়াতেই কেবল দুই কুঁজ বিশিষ্ট উটের দেখা পাবেন। এই উটের পিঠে চড়েই সুপ্রাচীন সিল্ক রোডে যাতায়াত করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সুপ্রাচীন সিল্ক রোডে যাতায়াত করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাআঙুল লেপাট নামের চিতা বাঘগুলো দেখতে খুব সুন্দর। তবে এরা সংখ্যায় খুব কম। সাইবেরিয়ায় অন্যান্য শিকারী প্রাণীর মধ্যে রয়েছে তুষা চিতা, ধূসর নেকড়ে এবং তুন্দ্রা নেকড়ে। পৃথিবীর ভূ-ভাগের প্রায় ১০ভাগ সাইবেরিয়ার অংশ। আলাদা কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র হলে রাশিয়ার বদলে এই সাইবেরিয়ায় হতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশে। আরো অবাক করার মতো তথ্য হলো পুরো সাইবেরিয়া অঞ্চলটি এশিয়া মহাদেশের অংশ হলেও এটি রাশিয়ার অংশ হওয়ায় বিশ্ব রাজনীতিতে ইউরোপীয় দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পশ্চিমে পর্বতমালা থেকে শুরু করে পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। সাইবেরিয়ার আয়তন ৫১ লাখ বর্গমাইল। যার অর্থ, রাশিয়ার স্থলভাগের প্রায় ৮০ভাগ সাইবেরিয়ার অন্তর্ভূক্ত। এই বিশাল এলাকার জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৩কোটি। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে তিন জন বাস করেন। সাইবেরিয়ার নামকরণের উৎস সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, এই নামটি এসেছে তাতার ভাষা থেকে। ঐ ভাষায় ‘সাইবীর’ কথাটির অর্থ ‘ঘুমন্ত এলাকা’। সম্ভবত সাইবেরিয়ার বরফে ঢাকা প্রকৃতি দেখে প্রাচীন তাতাররা এমন নাম দিয়েছিলেন।

এই অঞ্চলটি মানব জাতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে

কারো কারো মনে এই নামটি মঙ্গোলীয় ভাষায় সু এবং বীর এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। সেই অনুযায়ী এই নামটি হবে জলের পাড়ে গড়ে ওঠা বন্যভূমি। সাইবেরিয়ার ভৌগলিক অনেক, প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকেই এই অঞ্চলটি মানব জাতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। এই অঞ্চল থেকে জীবাশ্ম অনুযায়ী, মাত্র ৪০হাজার বছর আগেও এখানে তিন প্রজাতির মানুষ বাস করতো। হোমো সেপিয়েন্স, নিয়ান্ডারথাল এবং ডেনিসোভান প্রজাতির মানুষ ছিল এই অঞ্চলে।

পৃথিবীতে মানুষের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার নজির আছে সাইবেরিয়ার

আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার বছর আগে এই সাইবেরিয়া থেকেই প্রথম আদি মানুষ আমেরিকা ভূখণ্ডে পদার্পণ করেছিল। চলমান বরফ যুগের কারণে বর্তমান রাশিয়া এবং আলাস্কার মধ্যবর্তী বেরিং নদীর পানি জমাটবদ্ধ হয়ে বরফের সেতুতে পরিণত হয়েছিল। শুধু মানুষই না গুহাবাসী  সিংহ, লোমস গণ্ডার এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এই পথেই আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল।

পৃথিবীর প্রাণী জগতের প্রসারে এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার নজির আছে সাইবেরিয়ার। আবার এই দেশটির কারণে পৃথিবী থেকে বিপুল পরিমাণে প্রাণী বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২৫কোটি বছর আগে শুরু হওয়া এই অগ্নুৎপাত টানা প্রায় ২০ লাখ বছর ধরে অব্যাহত ছিল। এর ফলে ভূগর্ভস্থ লাভা কমপক্ষে ৭০লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা ছড়িয়ে গিয়েছিল। হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাসে পৃথিবী ঢাকা পড়ে যায়। এর ফলে পুরো পৃথিবীর জীব জগতের উপর মহা বিপর্যয় নেমে আসে।

১৯০৮ সালের ৩০শে জুন সাইবেরিয়ার বনাঞ্চলে হঠাৎ করেই আগুন লাগেবিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী এর ফলে ঐ সময় সাইবেরিয়ার জীব জগতের শতকরা ৯০ ভাগই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। জীব জগতের সেই শূন্যতা পূরণ করেছিল বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী।  ১৯০৮ সালের ৩০শে জুন সাইবেরিয়ায় অবস্থিত টাইগা বনাঞ্চলে হঠাৎ করেই আগুন লাগে। সেই ঘটনার প্রায় দুই দশক পর ঘটনাস্থলের ভিডিও করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে দেখা যায় প্রায় দুই হাজার বর্গমাইল বনাঞ্চল এবং আট কোটি গাছ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল।

সাইবেরিয়াকে বলা হয় ঘুমন্ত এলাকাবিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী সেদিন প্রায় ২০০মিটার ব্যাসের একটি উল্কাপিণ্ড সাইবেরিয়ায় আঘাত হেনেছিল। সৌভাগ্যবশত উল্কাপিণ্ডটি ভূ-পৃষ্টের কয়েক কিলোমিটার উপরে বিষ্ফোরিত হওয়ায় তাণ্ডবের মাত্রা বৈশ্বিক হয়ে ওঠেনি। নাহলে পৃথিবী বা এশিয়া মহাদেশের মানচিত্র থেকে কত জীবন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত তার ইয়ত্তা নেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এস

English HighlightsREAD MORE »