গায়েব হওয়া বাসে কোথা থেকে এল তিনটি পচাগলা দেহ? আজও কাটেনি রহস্য

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২,   ১৪ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

গায়েব হওয়া বাসে কোথা থেকে এল তিনটি পচাগলা দেহ? আজও কাটেনি রহস্য

সাতরং ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১১ ১৯ জুন ২০২২  

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

এক শীতের রাতে গায়েব হয়েছিল একটি বাস। দিন দুয়েক পরে বাসের খোঁজ পাওয়া গেলেও ওই ঘটনা ঘিরে উঠেছিল অজস্র প্রশ্ন। যার সদুত্তর আজও মেলেনি বলে দাবি বাসের ভিতর তিনটি পচাগলা দেহ কীভাবে এল? সারাদিন যাতায়াতের পর প্রায় পেট্রলহীন বাসটি গন্তব্য থেকে শত যোজন দূরে পৌঁছলই বা কী করে? 

চীনের রুট নম্বর ৩৭৫-এর শেষ বাসটির রহস্য তাই আজও কুয়াশামোড়া। এই বাসের গায়েব হওয়ার ঘটনাটি চীনে প্রায় লোকগাথায় পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে নানা দাবি-পাল্টা দাবি শোনা যায়। অনেকে বলেন, ওই ঘটনার সাক্ষী ছিল নভেম্বরের হাড়কাঁপানো এক শীতের রাত। ঘন কুয়াশায় মোড়া সে রাতেই নাকি ঘটেছিল অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড। কী সেই ঘটনা?

১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর। জমাটি শীতের প্রায় মাঝরাতে ৩৭৫ নম্বর রুটের শেষ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন এক বৃদ্ধা। ইউয়াং মিং হুয়ান নামে ওই বাসস্টপে অপেক্ষায় ছিলেন আরো এক অল্পবয়সি ছেলে।

শেষ বাসটি কাছে এসে দাঁড়াতেই বৃদ্ধা এবং যুবকটি তাতে চড়ে বসেন। বাসে উঠে চালকের কাছের আসনে বসেছিলেন বৃদ্ধা। যুবকটি তার পিছনে কিছুটা দূরের আসনে বসেন।

বাসটির গন্তব্য ছিল শিয়াং শান শহর বা ফ্রেগরেন্ট হিল নামের একটি জায়গা। ইউয়াং মিং হুয়ান বাসস্টপ থেকে যা মাত্র সাতটি স্টপ দূরে। একে একে অনেকেই ওই বাস থেকে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নেমে যেতে থাকেন। কয়েকটি স্টপ পরে ওই বাসে ছিলেন কেবলমাত্র বৃদ্ধা এবং ওই যুবকটি। এবং অবশ্যই বাসের চালক এবং এক নারী কন্ডাক্টর।

কিছুক্ষণ পর চালকের নজরে আসে, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দুজন ব্যক্তি বাস থামানোর ইশারা করছেন। ওই দুই যাত্রীর সামনে বাস থামান তিনি।

বাসের দরজা খুলতেই দেখা যায়, দুজন যাত্রী নন, তাদের মাঝে আরো একজন রয়েছেন। চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকায় হয়তো তৃতীয় জনকে চোখে পড়েনি চালকের।

তৃতীয় ব্যক্তি নাকি ওই দুই যাত্রীর কাঁধে ভর করে বাসে উঠেছিলেন। অবিন্যস্ত ওই যাত্রীর মাথা নিচু করা। আধোঅন্ধকারে ঠাওর করা যায় না তার মুখ। এক সময় ওই পাঁচ যাত্রীকে নিয়ে আবারো চলতে শুরু করে বাসটি।

ছবি: প্রতীকী

কয়েকটি স্টপ পরে বাসের ভিতরে চিলচিৎকার জুড়ে দেন ওই বৃদ্ধা। পিছনের আসনে বসা যুবকটি নাকি পকেটমার। তার টাকার ব্যাগটি হাতিয়ে নিয়েছেন। এ দাবি করে বেজায় চেঁচামেচি করতে থাকেন বৃদ্ধা। শীতের রাতে এমন ঝামেলায় বিরক্ত হয়ে বাস থামিয়ে দেন চালক। বৃদ্ধা এবং যুবককে জোর করে বাস থেকে নামিয়েও দেন। এরপর দুজনের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় বাসটি।

বাস থেকে নেমে যুবককে নিয়ে কাছের একটি পুলিশ স্টেশনে যান বৃদ্ধা। সেখানে গিয়ে আরো অদ্ভুত দাবি করেন তিনি। পুলিশ আধিকারিকদের বৃদ্ধা জানান, ওই বাসের তিন যাত্রী আসলে অশরীরী। নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্যই যুবকের বিরুদ্ধে পকেটমারির অভিযোগ তুলে চেঁচামেচি জুড়েছিলেন। যাতে বাস থেকে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়।

সহযাত্রী যুবকের নামে কোনো পুলিশি অভিযোগ করেননি বৃদ্ধা। উল্টে তাকে বলেন, ওই তিন যাত্রীরই পা দেখতে পাননি তিনি। বাসের জানলা দিয়ে হাওয়া এলে তা তিন জনেরই দেহ ভেদ করে চলে গিয়েছে।

বৃদ্ধার দাবি শুনে দুজনের মানসিক স্থিতাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পুলিশ। এক সময় তাদের থানা থেকে বের করে দেন। তবে পরদিন ওই বাস সংস্থার একটি নোটিশ দেখে টনক নড়ে পুলিশের। নোটিশে লেখা, ‘গত রাতে আমাদের সংস্থার ৩৭৫ রুটের শেষ বাসটি চালক এবং এক নারী কন্ডাক্টরসহ গায়েব হয়ে গিয়েছে।’

অনেকের দাবি, ওই নোটিস বেরোনোর পরদিন গায়েব হওয়া বাসটির খোঁজ মেলে গন্তব্য থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি পানির রিজার্ভারের কাছে।

এই ঘটনার তদন্তে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছিল, যা নাকি আরো রহস্যময়। সারা দিন চলাচলের পর বাসটির পেট্রল ফুরিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও গন্তব্য থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে বাসটি কীভাবে পৌঁছাল? তদন্তকারীদের দাবি ছিল, বাসটির উদ্ধারের সময় জ্বালানীর ট্যাঙ্কে পেট্রলের বদলে তাজা রক্ত পাওয়া গিয়েছিল।

ফ্রেগরেন্ট হিল এলাকায় ওই বাসটিতে নাকি পাওয়া যায় তিন ব্যক্তির পচাগলা দেহ। পুলিশের দাবি, দেহগুলোতে এতটাই পচন ধরেছিল যে, তা কোনো মতেই দিন দুয়েক আগেকার হতে পারে না। ময়নাতদন্তের পরেও এ বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি। ওই রিজার্ভারের আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজেও অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি বলে দাবি। ফলে এই ঘটনা ঘিরে আজও রহস্যের জট রয়েই গিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »