অবাধ্য হওয়ায় ট্রাঙ্কের ভেতর মেয়ের মাথা ঢুকিয়ে হত্যা করেন রানী

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

রানীদের কর্মকাণ্ড: শেষ পর্ব

অবাধ্য হওয়ায় ট্রাঙ্কের ভেতর মেয়ের মাথা ঢুকিয়ে হত্যা করেন রানী

সাত রঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২২ ৪ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:১১ ৪ ডিসেম্বর ২০২১

অবাধ্য হওয়ায় ট্রাঙ্কের ভেতর মেয়ের মাথা ঢুকিয়ে হত্যা করেন রানী। ছবি সংগৃহীত

অবাধ্য হওয়ায় ট্রাঙ্কের ভেতর মেয়ের মাথা ঢুকিয়ে হত্যা করেন রানী। ছবি সংগৃহীত

কোনো রানীর কথা উঠলেই কল্পনায় ভেসে ওঠে একজন সম্ভ্রান্ত নারী। যার মাথায় রয়েছে বিশাল মুকুট এবং পরনে রয়েছে রাজকীয় পোশাক। তবে তাকে কি ভিন্ন রূপে কল্পনা করতে পারেন? কিংবা বলতে পারে কি তার দ্বারাই হতে পারে রাজ্যের সব নৃশংস কিংবা অদ্ভুত কর্মকাণ্ড? এমনকি একজন রানী করতে পারে চুরির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড?

ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম কয়েকজন রানী সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

জোয়ান্না অব কাস্টিল, আরাগনের রানী

জোয়ান্না অব কাস্টিল, আরাগনের রানী
মৃত্যুর পর শেষ যাত্রা সাধারণত পরিবারের সবার জন্য দুঃখজনক হয়। তবে রাজপরিবারে একটি মৃত্যুর শোকযাত্রা আয়োজন করতে প্রচুর টাকা খরচ হয়। একটি মৃতদেহকে কবরে শোয়াতে অনেক শক্তি এবং অর্থ খরচ হয়। অতীতে এ কাজটি অনেক কষ্টকর ছিল। কিন্তু একবার ভাবুন তো যদি রানী আপনাকে দিয়ে প্রতিদিন কবরে একজন বিশালদেহী মানুষের লাশ নামানোর কাজটি করায়, তাহলে কেমন লাগবে? কাস্টিলের সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৪৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করা জোয়ান্না নামক এক সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারের মেয়েকে কাস্টিলের রাজার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। যদিও বিয়েটি দেয়া হয়েছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে।

 সে যদি কোথাও দূরে বেড়াতে যেতেন, তখন সে তার স্বামীর কংকাল রাজকীয় কফিনে ভরে তার সঙ্গে নিয়ে যেতেনতবে চুয়েন তার স্বামীকে খুব ভালোবাসতো, মনে হয় একটু বেশিই ভালবাসতো। ১৫০৬ সালে যখন তার স্বামীর টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তখন সে খুবই শোকাহত হয়ে যায়। সে প্রতিদিন প্রজাদের দ্বারা তার স্বামীর কবর খোঁড়াতেন এবং দেখতেন সেখানে তার স্বামী শুয়ে আছে কিনা। সে যদি কোথাও দূরে বেড়াতে যেতেন, তখন সে তার স্বামীর কংকাল রাজকীয় কফিনে ভরে তার সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এমনকি সে যখন একাকী বোধ করতেন তখন সে তার স্বামীর কংকাল রাজকীয় কফিনে ভরে তার বিছানার নিচে রেখে দিতেন। 

ঝাঁও ফেইয়ান, চীনের সম্রাজ্ঞী

ঝাঁও ফেইয়ান, চীনের সম্রাজ্ঞী
ঝাঁও ফেইয়ান ও তার বোন ঝাঁও হেঁইর হান রাজবংশের গৃহকর্মীর ঘরে জন্মগ্রহণ করে। তারা দুজনেই দেখতে খুবই সুন্দর ছিলেন। তাদের সৌন্দর্যের ফলে তারা দুই বোনই খুব তাড়াতাড়ি সম্রাট চেঙের পছন্দের পাত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে বড় বোন ফেইয়ান  সম্রাজ্ঞীর পদ পায়।

তবে সম্রাজ্ঞী ফেইয়ান  এবং তার বোন ঝাঁও হেঁইর দুজনের একজনও সম্রাটকে কোনো পুত্র সন্তান দিতে পারে না। তাই তারা দুই বোন সম্রাটের অন্য স্ত্রীদের পুত্র সন্তান হলে তাদের মেরে ফেলতেন কিংবা গর্ভাবস্থায় সন্তান থাকাকালীন সময়ে গোপনে তাদের খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দিয়ে গর্ভপাত ক্রাতেন। যখন সম্রাট চেং মারা যায়, তখন ঝাঁও হেঁইর দুঃখে আত্মহত্যা করেন। ঝাঁও ফেইয়ান তার বোনের মতো তখন আত্মহত্যা না করলেও পাঁচ বছর পর করেন। 

ফ্রেডগান্ড, সোয়াসনের দাসী

ফ্রেডগান্ড, সোয়াসনের দাসীফ্রেডগান্ড একজন দাসী ছিলেন। কিন্তু তার সৌন্দর্য এবং বুদ্ধিমত্তার জন্য তিনি খুব দ্রুতই রাজার নজরে পড়ে যান। ফলে এক পর্যায়ে তিনি রাজার একজন স্ত্রীতে পরিণত হন। তাদের একটি পুত্র সন্তান ছিল। তিনি তার ছেলেকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি যতটা বুদ্ধিমান ছিলেন ততটাই ছিলেন নৃশংস।

নিজের ক্ষমতা বিস্তারের জন্য রাজার অন্যান্য স্ত্রীদের একে একে মেরে ফেলেন ফ্রেডগান্ডনিজের ক্ষমতা বিস্তারের জন্য রাজার অন্যান্য স্ত্রীদের একে একে মেরে ফেলেন ফ্রেডগান্ড। এমনকি রাজার এক স্ত্রীর বোনের সঙ্গে তার ঝগড়া লাগায় তাকেও সে মেরে ফেলে। শুধুই কি তাই! সে এতটাই নৃশংস ছিল যে সে তার নিজের মেয়ে তার কথায় অবাধ্য হওয়ায় তিনি তাকে বড় একটা ট্রাঙ্কের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে মাথায় বারবার আঘাত করে নিজের মেয়েকে নিজেই মেরে ফেলে। নিজ পরিবার হোক কিংবা রাজ্যের অন্য যে কেউ হোক কেউ তার কথার অবাধ্য হলে তিনি তাদের দৃষ্টান্তমূলকভাবে শাস্তি দিয়ে খুব নৃশংসভাবে মেরে ফেলতেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ/এনকে

English HighlightsREAD MORE »