কামানের গোলাও পেট দিয়ে রুখে দিতে পারতেন ফ্রাঙ্ক ‘ক্যাননবল’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১ ১৪২৮,   ০৭ সফর ১৪৪৩

কামানের গোলাও পেট দিয়ে রুখে দিতে পারতেন ফ্রাঙ্ক ‘ক্যাননবল’

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৭:০৩ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফ্রাঙ্ক ‘ক্যাননবল’ রিচার্ডস ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময় ব্যক্তি

ফ্রাঙ্ক ‘ক্যাননবল’ রিচার্ডস ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময় ব্যক্তি

বিশ্বের অন্যতম এক বিস্ময় ব্যক্তি হচ্ছেন এই ফ্রাঙ্ক ‘ক্যাননবল’ রিচার্ডস। যিনি তার রক্ত-মাংসে গড়া পেট কামান থেকে বের হওয়া তীব্র গতিসম্পন্ন লোহার গোলাও থামিয়ে দিতে পারতেন! যে কারণে তার নামের মাঝে ‘ক্যাননবল’ শব্দটি জুড়ে গিয়েছিল। শরীরের মধ্যে পেটের অংশই সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল তার। ওই অংশের পেশিকে এতটাই শক্ত করে ফেলতেন নিমেষে যে, হাতুড়ির ঘা, মানুষের লাফ এমনকি কামানের গোলাও কোনো ক্ষতি করতে পারত না।

মঞ্চে পেশিশক্তি প্রদর্শনের আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে লড়েছিলেন ফ্রাঙ্ক। ১৯২৪ সাল নাগাদ জনপ্রিয়তা পান তিনি। জন্ম থেকেই এই গুণ নিয়ে পৃথিবীতে আসেননি তিনি। স্বতন্ত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম এবং পেটের পেশিকে শক্ত করে তোলার অভ্যাস এবং অনুশীলনের ফল পেয়েছিলেন তিনি। এমনটাই দাবি ছিল ফ্রাঙ্কের।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে লড়েছিলেন ফ্রাঙ্ক১৮৮৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার মিনিয়াপোলিসের একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম ফ্রাঙ্কের। বাবা রিচার্ড জোনস এবং মা এলেন এলিজাবেথ। ফ্রাঙ্করা ছিলেন তিন ভাইবোন। প্রচুর অনুশীলন করার পর ফ্রাঙ্ক ‘ক্যাননবল’ রিচার্ডস হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ফ্রাঙ্ককে। প্রতি দিন ভারী জিনিস দিয়ে পেটে আঘাত করতেন ফ্রাঙ্ক। কখনো বন্ধুদের বলতেন বড় হাতুড়ি দিয়ে পেটে আঘাত করতে, কখনো সজোরে ঘুষি মারতে বলতেন। পুষ্টিকর খাবার এবং শরীরচর্চা তার রোজকার রুটিন ছিল।

দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম এবং পেটের পেশিকে শক্ত করে তোলার অভ্যাস এবং অনুশীলনের ফল পেয়েছিলেন তিনিএক বার মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় পর পর একাধিক ব্যক্তি দৌড়ে এসে তার পেটে লাফিয়ে পড়ছিলেন। সেই তীব্র আঘাতও সহ্য করে নিয়েছিল তার পেটের পেশি। একটি শো-তে আমেরিকার বক্সার জেস উইলার্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক। উইলার্ড একাধিক বার তার পেটে ঘুষি মারেন। পেটের পেশি শক্ত করে নিয়ে সেই সমস্ত আঘাতের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি।

পুষ্টিকর খাবার এবং শরীরচর্চা তার রোজকার রুটিন ছিলতবে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল কামান নিয়ে। একটি কামানের সামনে খালি গায়ে দাঁড়িয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক। কামানের মুখের কাছে রাখা তার পেট। যাতে কামান থেকে গোলা বেরিয়ে সরাসরি পেটেই আঘাত করতে পারে। একটি বড় আকারের লোহার বল কামানের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কামান চালিয়ে ওই লোহার গোলা ছোড়া হলো। মুহূর্তের মধ্যে গোলাটি ফ্রাঙ্কের পেটে ঢাক্কা মারে। পিছনে ছিটকে পড়ে যান ফ্রাঙ্ক। আর তার পরই উঠে দাঁড়িয়ে হাত তুলে দর্শকদের বুঝিয়ে দেন তিনি ঠিক আছেন।

কামানের সামনে খালি গায়ে দাঁড়িয়েছিলেন ফ্রাঙ্কতার এই পারফরম্যান্স সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিল। প্রচুর সিনেমায় পেট দিয়ে কামানের গোলা প্রতিহত করার ছবিও দেখানো হয়েছে। ১৯৬৯-এর ৭ ফেব্রুয়ারি ৮১ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর একাধিক তথ্যচিত্র হয়েছে তাকে নিয়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে