‘হাজার দ্বীপের দেশ’-এখানে বাস সুখী মানুষদের 

ঢাকা, বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘হাজার দ্বীপের দেশ’-এখানে বাস সুখী মানুষদের 

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৯ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:২৫ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ ফিনল্যান্ডবাসী। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ ফিনল্যান্ডবাসী। ছবি: সংগৃহীত

সুখী মানুষের দেশ কোনটি বলতে পারবেন? হ্যাঁ, ফিনল্যান্ড। এমনকি বৈশ্বিক মহামারিকালের শত বিরূপতার মধ্যেও 'হাজার দ্বীপের দেশ' নামে পরিচিত ফিনল্যান্ডের মানুষ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুখী। টানা চতুর্থবারের মতো এ বছরও বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে ফিনল্যান্ড।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) প্রণীত 'ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট'-এ একাধিকবার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। টেকসই উন্নয়ন নেটওয়ার্কের সুখবিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে ফিনল্যান্ডের পরেই রয়েছে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। তালিকায় সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই দেশটির ওপরেই রয়েছে তানজানিয়া, জর্ডান, ভারত ও কম্বোডিয়া।

সুইডেন থেকে ফিনল্যান্ডে যেতে সমুদ্রপথে এক দ্বীপ সুইডেন থেকে ফিনল্যান্ডে যেতে সমুদ্রপথে এক দ্বীপ টুর্কু। বহু পূর্বে, ফিনল্যান্ড যখন রাশিয়ার অধীন ছিল, তখন টুর্কু বন্দর ছিল দেশটির রাজধানী। পরে তা স্থানান্তরিত হয় হেলসিঙ্কিতে। টুর্কু থেকে দু’ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় যাওয়া যায় হেলসিঙ্কি শহরের প্রাণকেন্দ্রে। ফিনল্যান্ডের এই যাত্রাপথের দু’পাশের শ্যামল শোভাকে স্বর্গীয় বললে ভুল হয় না। চোখ, মন জুড়িয়ে যায়। গোটা রেলপথের দুই পাশে ভেলভেটের মতো পেলব স্নিগ্ধ সবুজ উপত্যকা, ঝিরিঝিরি ডালপালা-যুক্ত কুচি কুচি পাতার আশ্চর্য সুন্দর গাছের সারি, হালকা সবুজ ঢালু জমিতে গাঢ় শ্যামল বৃক্ষের ঘন বন আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

শহরে পা দিলেই টের পাওয়া যায় কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া ও লাগাতার ফিনফিনে মিহি বৃষ্টির পরশ । শীতল আবহাওয়া আর অনিন্দিত প্রকৃতির সমাবেশে ফিনল্যান্ডকে বলা হয় ‘হাজার দ্বীপের দেশ’। দেশটির আরেক নাম ‘ল্যান্ড অফ থাউজ়্যান্ড লেকস’। 'হাজার হ্রদের দেশ'। হ্রদগুলো সবই জনপদ বা শহরের অভ্যন্তরে এবং প্রতিটি হ্রদ ঘিরে বিস্তীর্ণ সবুজ মনোরম ঘাসজমি। প্রায় প্রতিটি জলাশয়ের পাশে দেখা যায় লোহার রেলিঙে অসংখ্য রং-বেরঙের তালা ঝুলছে। এর সঙ্গে ফিনিশদের এক অদ্ভুত বিশ্বাস জড়িত। প্রণয়পাশে আবদ্ধ যুগল বা নবদম্পতি এসে চার হাতে এই তালা লাগায় এবং চাবিটি পাশের জলাশয়ে নিক্ষেপ করে। অর্থাৎ ভালবাসার বন্ধনে চিরতরের সিলমোহর।

হালকা সবুজ ঢালু জমিতে গাঢ় শ্যামল বৃক্ষের ঘন বনানীবহু বছর রাশিয়ার অধীনে থাকার ফলে ফিনল্যান্ডের বহু চার্চ ও মিনারের নির্মাণশৈলীতে রুশ প্রভাব স্পষ্ট। শহরের সৌন্দর্যের প্রধান অঙ্গ বিশেষ একজাতের গাছ। ডালগুলো পাতলা ও পাতারাশি চিকন, স্বচ্ছ হালকা সবুজ। শহরের প্রতিটি বীথি এই জাতের সারিবদ্ধ গাছে ছাওয়া। 

পথেঘাটে, ট্রামে-বাসে চলাচলের সময় দেখা যায়, দেশটির বৃদ্ধা এবং প্রৌঢ়া নাগরিকরা খুবই সম্ভ্রান্ত ও বিলাসবহুল পোশাক পরতে অভ্যস্ত। তবে তারা কথাবার্তায়, আচরণে, খুব ধীর, স্থির ও সৌম্য প্রকৃতির। তরুণ-তরুণীর দল উচ্ছল হলেও উগ্র নয়। নারীরা বেশির ভাগ স্বর্ণকেশী, নীলনয়না। পর্যটকদের জন্য আদর্শ ফিনল্যান্ডে রয়েছে পরিভ্রমণের সুব্যবস্থা। ট্রামে চড়ে বসলে ঘণ্টাখানেক ধরে শহরের প্রধান সুন্দর অঞ্চল ও প্রসিদ্ধ নির্মাণগুলো দেখা হয়ে যায়। বিকেলের দিকে প্রকাণ্ড লঞ্চে সমুদ্রভ্রমণ এখনকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এর নাম ‘সুয়োমেনলিনা স্বিয়াবর্গ ট্যুর’। এতে ছোট ছোট দ্বীপে যাওয়ার চমৎকার আয়োজনে সারা রাত দেশ-বিদেশ অসংখ্য মানুষ মেতে থাকে। 

শীতপ্রধান ফিনল্যান্ডে বাহারী ডিজাইনের ভারী পোশাকের খুবই প্রচলন রয়েছেফিনল্যান্ডের শহর ও তার মিনারগুলো এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যে দেখে বিস্মিত হতেই হয়। সেই পরিচ্ছন্নতার রহস্য হলো, চার-পাঁচটি গাড়ি জলের ধারা দিয়ে রাস্তাঘাট ও মিনারগুলোকে নিয়মিত ধুয়ে ধূলামুক্ত করছে। প্রত্যহ দিনের শুরু ও শেষের রুটিনকাজ এটি। প্রায়শই শীতল বৃষ্টির ফোঁটা সাফ করে দেয় সব স্থাপনা। চোখের সামনে উঁকি দেয় ঘোলাটেবর্ণ সজল আকাশ। যদিও রোদ আর বৃষ্টির খেলা চলে, তথাপি ফিনল্যান্ডের তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের কাছাকাছি।

বিখ্যাত হেলসিঙ্কি ডিজাইন ডিস্ট্রিক্ট চোখ-ধাঁধানো সব ডিজাইনারের দোকানে ভরপুর। পোশাকের বুটিক, আসবাবপত্র, গৃহশয্যা, প্রসাধনের যাবতীয় সজ্জাসামগ্রী, কিছুই বাদ নেই। শীতপ্রধান ফিনল্যান্ডে বাহারী ডিজাইনের ভারী পোশাকের খুবই প্রচলন রয়েছে। শীতকালে লোকজন দিনের বেলাতে ঠান্ডার তীব্রতায় কয়েকপ্রস্থ জামাকাপড় পরিধান করে একেবারে হাড়ের ভেতর বরফের পিন ফোটানো শীতে বের হন। শ্বেতশুভ্র অপূর্ব দৃশ্যে তখন মুক্তোর মতো বরফের অজস্র নিটোল দানা তীব্রবেগে ছড়িয়ে পড়ে কালো মসৃণ পিচরাস্তায়, ট্রামলাইনে, ফুটপাথে, চলন্ত গাড়ির ছাদে, পথচারীর ছাতায়, হম্যে, খিলানে ও মিনারে। বরফদানা-বৃষ্টি সাঙ্গ হলে ক্ষান্তবর্ষণসিক্ত আকাশে রামধনু আঁকা হয় রঙের অপরূপ বিন্যাসে।

চোখ ধাঁধানো এখানকার রাস্তাঘাট, শপিংমল, লেকগুলো ফিনল্যান্ডে পোষা সারমেয় সঙ্গে নিয়ে পথে বেরনো খুব বেশি চোখে পড়ে। অধিকাংশ নারীরাই চেন-বাঁধা ঝালর ঝালর লোমওয়ালা সাদা, কালো, বাদামি রঙের কুকুর নিয়ে চলেছেন। গুচ্ছ গুচ্ছ উজ্জ্বল বর্ণের টিউলিপ ফুটে আছে উদ্যানগুলোতে। উদ্যান সংলগ্ন অবশ্যই সুবিশাল হ্রদ দেখা যাবে। রাজধানী শহরের বিখ্যাত হ্রদের নাম লেক টুয়েলনলাঠি বে। হ্রদের ওপারে ব্যস্ত চলমান নগর, বিশিষ্ট কিছু স্থাপত্য । আর এপারে অসামান্য রূপসী নিরালা এক সবুজ উদ্যান। সে-উদ্যানের বৈশিষ্ট্য মোলায়েম ঘাসের উঁচু-নিচু ঢাল, অসংখ্য ছড়ানো গাছের ছায়ামাখা বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর। চারিদিকে স্নিগ্ধ সবুজের সমারোহ।

ফিনল্যান্ড উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে বাল্টিক সাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। ফিনল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত দেশগুলোর একটি। এর এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সুমেরুবৃত্তের উত্তরে অবস্থিত। এখানে ঘন সবুজ অরণ্য, অসংখ্য দ্বীপ আর প্রচুর হ্রদ ছাড়াও প্রাচীরঘেরা প্রাসাদের পাশাপাশি আছে অত্যধুনিক দালানকোঠা। দেশটির বনভূমি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলোকে প্রায়ই ফিনল্যান্ডের 'সবুজ সোনা' নামে ডাকা হয়।

দেশটির বৃদ্ধা এবং প্রৌঢ়া নাগরিকরা খুবই সম্ভ্রান্ত ও বিলাসবহুল পোশাক পরতে অভ্যস্তফিনল্যান্ড প্রধানত একটি নিম্নভূমি অঞ্চল। কয়েক হাজার বছর আগেও এটি বরফে ঢাকা ছিল। বরফের চাপে এখানকার ভূমি স্থানে স্থানে দেবে গিয়ে হাজার হাজার হ্রদের সৃষ্টি করেছে। দেশটির সরকারি নাম ফিনল্যান্ড প্রজাতন্ত্র। তবে ফিনীয়রা নিজেদের দেশকে সুওমি বলে ডাকে। সুওমি শব্দের অর্থ হ্রদ ও জলাভূমির দেশ। তবে, ফিনল্যান্ড উত্তর দিকে স্থলবেষ্টিত। উত্তরে নরওয়ে ও পূর্বে রাশিয়ার সাথে এর সীমান্ত আছে। দক্ষিণে ফিনল্যান্ড উপসাগর এবং পশ্চিমে বথনিয়া উপসাগর। ফিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র, পাথুরে দ্বীপ আছে। এদের মধ্যে কতগুলোতে মনুষ্য বসতি আছে। এদের মধ্যে বথনিয়া উপসাগরের মুখে অবস্থিত অলান্দ দ্বীপপুঞ্জটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফিনল্যান্ডের মেরু অঞ্চলে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় সবসময় দিন থাকে। 'মধ্যরাতের সূর্যের' এই দিনগুলোতে ফিনল্যান্ডের নয়নাভিরাম উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হাজার হাজার লোক নৌকা নিয়ে বেড়াতে বের হন। ফিনল্যান্ডের মধ্যভাগের বনভূমিতে অনেক পর্যটক রোমাঞ্চকর অভিযানের টানে ছুটে চলেন।

ফিনল্যান্ডকে সাধারণত স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের অংশ ধরা হয় এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও আছে।  বহু শতাব্দী যাবৎ ফিনল্যান্ড দুই বিরোধী শক্তি সুইডেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সীমান্ত দেশ হিসেবে বিদ্যমান। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস বহু পালাবদলের স্বাক্ষী।  ৭০০ বছর সুইডেনের অধীনে শাসিন হবার পর ১৮০৯ সালে এটি আবার রুশদের করায়ত্ত হয়। রুশ বিপ্লবের পর ১৯১৭ সালে এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে ফিনল্যান্ড ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার একটি চুক্তি সম্পাদন করে এবং ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশ দুইটির মধ্যে দৃঢ় অর্থনৈতিক বন্ধন ছিল। ১৯৯১ সালের পরে ফিনল্যান্ড ইউরোপমুখী হয় এবং ১৯৯৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।

 ফিনল্যান্ডের মধ্যভাগের বনভূমিতে অনেক পর্যটক রোমাঞ্চকর অভিযানের টানে ছুটে চলেনসুপ্রাচীন জনপদ হলেও ফিনল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে নবীন রাষ্ট্রগুলোর একটি। তবে দেশটির প্রাচীনত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র‌্য সুবিদিত। বিশেষত আধুনিক স্থাপত্যকলা ও শিল্পকারখানা ডিজাইনে ফিনল্যান্ডের সুনাম আছে। সাউনা তথা ফিনীয় ধাঁচের বাষ্পস্নান বিশ্ববিখ্যাত এবং এটি ফিনীয় দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিনল্যান্ড সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পরে। ১৯৩৯-৪০ এর ৩ মাসব্যাপী শীতকালীন যুদ্ধে সোভিয়েত রাশিয়া ফিনল্যাণ্ড আক্রমণ করে। সেসময় হেলসিঙ্কিতে বিপুল বোমাবর্ষণ হয়। মস্কো শান্তি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হলেও ফিনল্যাণ্ড উপসাগরে সোভিয়েত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ফিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি অর্ধ-রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রতিনিধিত্বমূলক বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা আইনসভার উপর ন্যস্ত। বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা হতে স্বাধীন।

আয়তনের তুলনায় ফিনল্যান্ডে মানুষ খুবই কম, মোট জনসংখ‍্যা প্রায় ৫৫ লক্ষ । গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৬ জন বসবাস করে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন জনস‍ংখ‍্যার দিকে দিয়ে ফিনল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। ফিনল্যান্ডের দক্ষিণদিকের এস্পো, ভান্তা এবং হেলসিংকি, এই তিনটি শহর হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং এদেরকে একসংগে বৃহত্তর হেলসিংকি বলা হয়ে থাকে। মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগই বাস করে এই বৃহত্তর হেলসিংকিতে। এরপরে জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে উল্লেখ করার মত শহর হচ্ছে তামপেরে, ওউলু এবং ইভাস্কলা, এই শহর গুলোর জনসংখ‍্যা এক লাখের উপর। ফিনল্যান্ডের মোট জনসংখ‍্যার ৩.৪% হল বিদেশি নাগরিক, যেটি ইউরোপের দেশগুলের মধ্যে সবচেয়ে কম। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বেশির ভাগই হল রাশিয়ান, সুইডিশ এবং ইস্তোনিয়ান।

প্রাথমিক স্কুলে ৬ বছর এবং মাধ্যমিক স্কুলে ৩ বছর লেখাপড়া করা সবার জন্য বাধ্যতামূলকসুখী দেশ ফিনল্যান্ড ঐশ্বর্যময় প্রকৃতি, নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সুসভ্যতার জন্য প্রসিদ্ধ। হানাহানি ও অসাম্যে সংক্ষুব্ধ আর অস্থির পৃথিবীতে এক 'স্বপ্নের দেশ' রূপে উজ্জ্বলতর অবস্থান লাভ করেছে ফিনল্যান্ড। ফিনল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষাকে উচ্চতর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিক্ষা একটি জন্মগত অধিকার ও রাষ্ট্রকর্তৃক প্রদত্ত সেবা হিসেবে বিবেচিত হয় ফিনল্যান্ডে। এখানে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষা লাভ করে। প্রাথমিক স্কুলে ৬ বছর এবং মাধ্যমিক স্কুলে ৩ বছর লেখাপড়া করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ফিনল্যান্ডের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিশ্বের শিক্ষাছকের শীর্ষে অবস্থান করছে। গবেষণার ফলাফল ভাষা, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়াবলীর ভিত্তিতে হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, অসংখ্য কলেজ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল রয়েছে। ইউরোপের যে দেশেগুলোতে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় তাদের একটি ফিনল্যান্ড। ফলে এদেশে প্রতি বছর এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। তবে তাদের বেশিরভাগই স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়। এদেশে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। এখানে অভিবাসীদের ছেলেমেয়েদের জন্য তাদের নিজেদের ভাষা শিক্ষার সুযোগও রয়েছে, রয়েছে সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগও।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে