রানি ক্লিওপেট্রার ভূমিকায় পর্দায় এসেছেন অনেকে, সফলতা ধরা দিয়েছিল লিজ-সোফিয়াকেই

ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮,   ০৮ সফর ১৪৪৩

রানি ক্লিওপেট্রার ভূমিকায় পর্দায় এসেছেন অনেকে, সফলতা ধরা দিয়েছিল লিজ-সোফিয়াকেই

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৭ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৬:২১ ২ আগস্ট ২০২১

ক্লিওপেট্রা ছিলেন মিশরের সবচেয়ে আলোচিত নারী ফারাও

ক্লিওপেট্রা ছিলেন মিশরের সবচেয়ে আলোচিত নারী ফারাও

হাজার হাজার বছর পার হলেও এখনো সারাবিশ্বের কাছে রহস্যময় প্রাচীন সভ্যতার সূতিকাগার মিশর। এর পরত্রে পরতে শুধু রহস্য। যার অনেক কিছুই এখন সবার জানা। তবে যারা রহস্য উম্মোচন করতে চান কিংবা রহস্য ভালোবাসেন তাদের কাছে মিশর এক রূপকথা। মিশরের মমি, সেসময়কার মানুষের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, ফারাও, দেবতা সব কিছুই বিশ্বকে শুধু অবাক করেছে। বিশেষ করে নারী ফারাওদের শাসনকাল ইতিহাসের অন্যতম এক অধ্যায়।

মিশরের রাজা বা ফারাওদের কথা বললে তৎক্ষণাৎ আমাদের চোখে নীল আর সোনালি মুকুট পরে সিংহাসনে বসে থাকা একজন পুরুষের অবয়বই ভেসে ওঠে। যদিও মিশরের শাসকদের বেশিরভাগই পুরুষ ছিলেন। তারপরও ফারাও শব্দটা বিরলভাবে নারী শাসকদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হত। মিশরের ইতিহাসে নারী ফারাওরা বেশখানিকটা জায়গা জুড়েই রয়েছে। মিশরের সমৃদ্ধিতে তাদের অবদানও অনেক। 

এলিজাবেথ টেইলর অভিনীত ক্লিওপেট্রা সিনেমায় রানির জন্য ৬৫ টি মূল্যবান পোশাক ব্যবহার করা হয়েছে ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মিশরের তিন হাজার বছরের ইতিহাসে ১৭০ জন ফারাওয়ের মাঝে সাত জন ছিলেন নারী। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং সমালোচিত ছিলেন ক্লিওপেট্রা। সৌন্দর্য আর বুদ্ধিমত্তার জন্য বিখ্যাত ছিলেন এই নারী। সারা বিশ্বের অভিজাত পুরুষ, রাজা, এমনকি সাধারণ পুরুষেরাও পাগল ছিল ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ক্লিওপেট্রা তার সৌন্দর্যের অসৎ ব্যবহার করেছেন। আবার অনেকের মনে খুবই অসহায় নারী ছিলেন এই ক্লিওপেট্রা।

১৮৯৯ সালে সর্বপ্রথম ক্লিওপেট্রা ও অ্যান্টনি নামের দুটি নাম ভূমিকা উঠে আছে একটি নাটকেএই রহস্যময় নারী রানি ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক সিনেমা। তার মধ্যে সোফিয়া লোরেন এবং লিজ টেলর  (এলিজাবেথ টেলর) অভিনীত সিনেমা দুটি সবচেয়ে বিখ্যাত। লিজ টেলর এবং সোফিয়া লোরেন হলিউডের সর্বকালের সেরা যৌনাবেদনময়ী নায়িকা! সোফিয়া লোরেনের ‘টু নাইট উইথ ক্লিওপেট্রা’ মুক্তি পায় ১৯৫৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। জুলিয়াস সিজারের ভূমিকায় অ্যালবার্তো সোরদি এবং মার্ক অ্যান্টোনির ভূমিকায় অভিনয় করেন ইতোরি মান্নি। 

এলিজাবেথ টেলরের ক্লিওপেট্রা মুক্তিপায় ১৯৬৩ সালের ১২ জুন, সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছিল এই সিনেমাটি লিজ টেলরের ক্লিওপেট্রা মুক্তিপায় ১৯৬৩ সালের ১২ জুন। এ ছবিতে জুলিয়াস সিজারের ভূমিকায় রেক্স হ্যারিসন এবং মার্ক অ্যান্টোনির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রিচার্ড বার্টন। এই সিনেমায় ক্লিওপেট্রা অর্থাৎ এলিজাবেথকে ৬৫ টি বিলাসবহুল পোশাকে দেখা গিয়েছিল। যা কোনো সিনেমায় ব্যবহৃত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এবং ব্যয় বহুল পোশাক। সেই পোশাকগুলোর বর্তমান সময়ে মূল্য হয় ২ লাখ ডলার। এর আগে, কোনো চরিত্রের জন্য পোশাক এত বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়নি। বর্তমান সময়ে এসেও এলিজাবেথ টেইলরের করা "ক্লিওপেট্রা" চলচ্চিত্রটি এখনও পাঁচটি ব্যয়বহুল সিনেমার মধ্যে একটি। লিজ টেলর ২০১১ সালের ২৩ মার্চ মারা গেছেন। ৮৬ বছরের সোফিয়া লোরেন এখনো সিনেমা সংশ্লিষ্ট কাজ করে যাচ্ছেন!

১৯৩৪ সালে ক্লডেট কলবার্ট অভিনীত সিনেমাটিও তখন বেশ সাড়া ফেলেছিল সিনেমাপ্রেমীদের মনেতবে প্রথম ক্লিওপেট্রা নামে সিনেমা তৈরি হয়েছিল ১৯১৭ সালে। রানির ভূমিকায় হাজির হন টেড বারা। তবে তিনিই সিনেমার প্রথম আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। দুর্ভাগ্যক্রমে, নিউইয়র্ক মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্টে আগুন লাগার পরে, ক্লিওপেট্রা ছবিটি সহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যায়।

১৯৫৪ সালে সোফিয়া লরেন অভিনীত  ‘টু নাইট উইথ ক্লিওপেট্রা’ মুক্তি পায়এছাড়াও ১৯৩৪ সালে ক্লডেট কলবার্ট ফরাসি বংশোদ্ভূত আমেরিকান এই অভিনেত্রী ক্লিওপেট্রার চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমাটিও তখন বেশ সাড়া ফেলেছিল সিনেমাপ্রেমীদের মনে। এই সিনেমাটি কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিল। সেরা ক্যামেরার কাজের জন্য" নাম জিতে একটি স্ট্যাচুয়েটও জিতেছিল।

ভিভিয়ান লেইয়ের অভিনীত ক্লিওপেট্রা সিনেমাটি ছিল কিছুটা রোমান্টিক কমেডি ১৯৪৫ সালে, "সিজার এবং ক্লিওপেট্রা" চলচ্চিত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল, বেনার্ড শের নাটক অবলম্বনে। এর মূল ভূমিকাগুলি ভিভিয়ান লেই এবং ক্লোড রেইনস অভিনয় করেছিলেন। অনেকঐতিহাসিক, নাটকীয় এবং মেলোড্রাম্যাটিক ছায়াছবি থেকে ভিন্ন এই ছবিটি একটি মিষ্টি রোমান্টিক কমেডি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ছিল ক্লিওপেট্রার প্রথম রঙিন সিনেমা।

সবচেয়ে বেশি আবেদনময়ী অভিনেত্রী ছিলেন এই সোফিয়া লরেন সর্বশেষ ২০০২ সালে ইতালিয়ান অভিনেত্রী মনিকা বেলুচি ক্লিপেট্রার আরো একটি সিনেমায় রানির ভূমিকায় অভিনয় করেন। তবে ১৮৯৯ সালে সর্বপ্রথম ক্লিওপেট্রা ও অ্যান্টনি নামের দুটি নাম ভূমিকা উঠে আছে একটি নাটকে। সেটা ছিল একটি ট্র্যাজেডি নাটক। তবে তা অনেকটা রানি ক্লিওপেট্রার জীবনগল্পের আদলে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি ছিল সাদা কালো এবং শব্দহীন এক নাটক। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিওপেট্রা নামে আরো একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। এর নতুন সংস্করণ হয় ১৯১২ সালে আরো একটি সিনেমা মুক্তি পায়। তবে রানি ক্লিওপেট্রার জীবনী ১০০ শতাংশ মিশে ছিল ১৯১৭ সালের ক্লিওপেট্রা নামের ছবিটি। যা এখনো ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে প্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ সিনেমা বলে মনে করা হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে