ধু-ধু মরুভূমিতে বিস্ময়কর লাভ লেকের রহস্য 

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

ধু-ধু মরুভূমিতে বিস্ময়কর লাভ লেকের রহস্য 

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫০ ৫ মে ২০২১  

সৌন্দর্যের অন্যতম এক নিদর্শন লাভ লেক

সৌন্দর্যের অন্যতম এক নিদর্শন লাভ লেক

লাভ কিংবা হৃদয় আকৃতিকে ভালোবাসার প্রতীক বলা হয়। লাভ অর্থাৎ ভালোবাসার জন্য পাগল বিশ্বের সব প্রাণ। সম্প্রতি ধু ধু মরুভূমির মাঝে এই হৃদয় আকৃতির দুটি হ্রদ আকৃষ্ট করছে বিশ্ববাসীকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে ধু-ধু মরুভূমির মাঝে বিস্ময়কর ‘লাভ লেক’ বয়ে চলেছে। চারপাশে সবুজ গাছপালায় ঘেরা আর মাঝে লাভ লেক। লেকের পাশেই গাছের সারি দিয়ে লেখা আছে ‘লাভ’।

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশগুলোর মধ্যে দুবাই অন্যতম। এই দেশে চোখ ধাঁধানো নিদর্শনের কমতি নেই। বিশ্বের দীর্ঘতম টাওয়ার এবং শপিং মল ছাড়াও সেখানে আছে প্রাকৃতিক বিভিন্ন আকর্ষণ। এমনকি কৃত্রিম এক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলও সম্প্রতি তৈরি করে ফেলেছে তারা। সেই তালিকায় যুক্ত হলো এই লেক দুটি।  প্রতি মাসেই দর্শকদের সংখ্যা বাড়ছে লাভ লেকে। ধু-ধু মরুভুমির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে হৃদয়াকৃতির দু’টি হৃদ। 

ধু ধু মরুর বুকে তৈরি করা হয়েছে এই লেক সম্প্রতি দুবাইয়ের রাজকুমার শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ তার ইনস্টাগ্রামে কৃত্রিম হ্রদের একটি ছবি শেয়ার করার পর থেকেই বিশ্ব চিনেছে স্থানটিকে। স্থানটির নাম আল কুদ্রা। দুবাইয়ের আল কুদ্রা মরুদ্যানে অবস্থিত লাভ লেকটি। ৫ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে দুটি কৃত্রিম লেক তৈরি করা হয়েছে সেখানে। বিশ্বের অন্যতম এক রোমান্টিক স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে লাভ লেক। স্থানটি পার্ক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। এর প্রবেশদ্বারে বিশালাকার একটি কাঠ খোদাই করে লেখা আছে লাভ লেক। গাছের ফাঁকে, পাথর এবং দেয়াল এবং এমনকি পানিতে পর্যন্ত প্রেমের প্রতীত আছে সেখানে। লাভ লেকের চারপাশে প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি গাছ আছে।

প্রচুর দর্শনার্থী এখানে ফির করেন করেন প্রতি মাসে প্রতি মাসেই বাড়ছে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা। বর্তমানে লাভ লেক বারবিকিউ স্পট বা সন্ধ্যায় ঘুরতে যাওয়ার সেরা স্থান হিসেবে জনপ্রিয়। দুবাইয়ের উদ্ভাবনী আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। শহর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় স্থানটি খুব শান্ত ও নির্মল। প্রিয়জনের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর সেরা স্থানগুলোর মধ্যে লাভ লেক এখন অন্যতম।

লেকের পানিতে পা ভেজানোরও সুযোগ থাকছে দর্শনার্থীদের জন্য লাভ লেকের পানিতে পা ভেজাতেও পারবেন। লেকের এক অংশে গোল্ড ফিশের বসবাস। লাভ লেক পার্কে আছে অসংখ্য সেলফি স্পট। এগুলো সবই হৃদয় আকৃতির। ১৭৫ প্রজাতির পাখির বসবাস এই মরু উদ্যানের পার্কে। এছাড়াও এখান থেকে দুবাইয়ের সবচেয়ে সুন্দর সূর্যাস্তের সাক্ষী হতে পারবেন। সূর্যাস্তের সময় মরুভূমির বালুগুলো সোনার ন্যায় রং ধারণ করে। লাভ লেকের পানির রং হয় নীলচে সবুজ। সেইসঙ্গে চারপাশের শান্ত পরিবেশ, পাখির ডাক ও বাতাসে গাছপালার মৃদু শব্দে মুহূর্তেই আপনি স্বর্গসুখ অনুভব করবেন।

এখানের সবকিছুই লেকের সঙ্গে মিলিয়ে হৃদয় আকৃতির রাখা হয়েছে এই লেকের পাশে দাঁড়ালে আপনার মনে হবে এটি কেবল একটি বাঁকা লেক। এই জোড়া হৃদের আসল সৌন্দর্য দেখা যায় মাটি থেকে কমপক্ষে ৫০ মিটার উপরে গেলে। সুতরাং এটির সৌন্দর্য দেখার একমাত্র বিকল্প হলো একটি ড্রোন ওড়ানো বা হেলিকপ্টারে উঠে সৌন্দর্য উপভোগ করা।

এই লেকে রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির মাছ এবং পাখি লাভ লেকের আশেপাশে কোনো দোকান বা রেস্তোঁরা নেই। লেকের নিকটতম রেস্তোঁরাটি হ্রদ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। সুতরাং সঙ্গে খাবার এবং পানি নিতে ভুলবেন না একেবারেই। এমনকি সেখানে বাতিও নেই। লাভ লেকে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি-

পার্কে প্রবেশ করতে কোনো অর্থ লাগবে না, সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে আপনি যদি পার্কে ড্রোন উড়াতে চান; তাহলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। পার্কে প্রচুর মাছ এবং পাখি আছে। তবে এদের খাওয়ানো যাবে না। শীতকালে মরুভূমি অনেক বেশি শীতল। তাই উপযুক্ত পোশাক পরতে হবে। পার্কের কিছু অংশে হাঁটাহাঁটি করার জন্য হাই হিল পরার অনুমতি নেই। এর আশেপাশে দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে আছে-বিভিন্ন খামার, মরুভূমির সংরক্ষতি স্থান এবং ঘোড়ার আস্তাবল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে