মিশরের এই সমাধিক্ষেত্রে মরদেহ রাখা হতো মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণের মতো

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

মিশরের এই সমাধিক্ষেত্রে মরদেহ রাখা হতো মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণের মতো

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৪ ৩ মে ২০২১   আপডেট: ১১:৫৯ ৩ মে ২০২১

সমাধিক্ষেত্রটি পাঁচ হাজারের পুরনো

সমাধিক্ষেত্রটি পাঁচ হাজারের পুরনো

মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ববিদরা নাইল ডেল্টায় অনুসন্ধানকালে ফারাওদের আবির্ভাবের আগেকার রাজবংশের অদ্ভুত দর্শন কবরস্থানের সন্ধান পান। সমাধিক্ষেত্রটি ৫ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অন্যান্য সমাধি ক্ষেত্রের চেয়ে খানিকটা আলাদা এটি বিশেষ এক কারণে। এখানে মৃতদেহ সমাধির জন্য সোজা করা রাখা হত না। মাতৃগর্ভে একটি ভ্রূণ যেভাবে রাখা হয়, সেভাবেই সমাধি করা হত মৃতদেহ। 

পুরাতত্ত্ববিদদের দাবি, এই সমাধিক্ষেত্রের কবরগুলো মিশরের মধ্যযুগীয় রাজত্বকালের শেষদিকের হাইকসস সময়কালের। সেসময় পশ্চিমা এশীয়রা মিশরে মধ্যযুগীয় শাসনামলের অবসান ঘটিয়ে দেশটি নিজেদের দখলে নেয়। 

মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় জানায়, সমাধিক্ষেত্রটিতে খ্রিস্টের জন্মের ৩৩০০ বছর আগেকার বুটো পিরিয়ডের ৬৮টি এবং মিশরের প্রথম রাজবংশের উত্থানের ঠিক আগমুহূর্ত নাকাদা ৩ পিরিয়ডের ৫টি কবর মিলেছে। সেখানে সিনাই থেকে মিশরে অভিবাসী হওয়া হাইকসস পিরিয়ডেরও (১৮০০ খ্রিস্টপূর্ব) ৩৭টি কবর রয়েছে।

প্রাচীন মিশরের বিভিন্ন আবিষ্কার সবসময়ই বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে, যার মধ্যে এবারের আবিষ্কার অন্যতম মিশর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় কবরস্থান। এটি সমাধিক্ষেত্র মিশরের ইতিহাসের প্রথম দিকের রাজত্বকাল হাইকসস সময়কালের সঙ্গে পরবর্তী রাজত্বকালের মেলবন্ধনের ইতিহাস আরও উন্মোচিত করবে। দেখা গেছে, বুটো সমাধিগুলো ডিম্বাকৃতির আকারের গর্ত। তার ভেতরে মৃতদেহগুলো মায়ের পেটে সন্তান যেভাবে থাকে সেভাবে রাখা হয়েছে। কবরগুলোর ভেতর বাম দিকে কাত ও মাথা পশ্চিমমুখী করে রাখা মৃতদেহ রাখা ছিল। আবার নাকাদা সময়কালের কবরগুলোতে চোঙাকৃতির কফিনের মতো বস্তু দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। 

ধারণা করা হয়, পরবর্তী জীবন নিয়র বিশ্বাস থাকার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। কেননা মাতৃগর্ভেই পরের জন্মে জন্ম হবে সবার। এজন্য এমন অবস্থায় সমাধিতে রাখা হত প্রিয় মানুষদের মৃতদেহ। তবে মিশরের এমন আর কোনো সমাধিক্ষেত্র কিন্তু এখনো পাওয়া যায়নি। তাহলে হতে পারে শুধুমাত্র ওই এলাকায় মৃতদেহ সমাধি দেয়ার জন্য এমন পন্থা অবলম্বন করত মানুষ। আবার হতে পারে জায়গা সংকুলানের জন্যও এভাবে সমাধি দেয়ার প্রথা চালু করে মিশরীয়রা। 

মিশয়রীয়রা মৃত্যুর পরেও আরেক জীবন আছে বলে বিশ্বাস করত, সে কারণেই হয়তো এভাবে সমাধি দেয়ার কথা তাদের মাথায় এসেছিলএর আগে পেরুর চৌচিল্লার কথা শুনেছেন নিশ্চয়? প্রত্নতাত্ত্বিক কিংবা অদ্ভুত রীতিনীতি থেকে পেরু অন্যান্যদের তুলনায় বলতে গেলে পিছিয়েই আছে। তাদের খুব বেশি জানা যায় না। তবে তাদের মৃতদেহ সৎকারের এই অদ্ভুত রীতি বেশ আলোচনায় এসেছে। ১৯২০ এর দশক, নাজাকা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন অঞ্চলে একটি কবরস্থান আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা অন্য একটি গবেষণার কাজ করতে গিয়ে এটির খোঁজ পান। কবরস্থানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ কিলোমিটার। মরুভূমির বুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কবরস্থানটি প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি পুরানো।এই কবরস্থানে পোরোমা শৈলীর ১৩ টি প্রাক-ইনকা সমাধি রয়েছে। 

এই সমাধিস্থলে পাওয়া যায় মমি করা বেশ কিছু মৃতদেহ। আর এদের সমাধিগুলো আয়তক্ষেত্রাকার। একে বলা হয় চৌচিল্লা। ছোট ছোট প্রাচীর দিয়ে একেকটি মৃহদেহ রাখা হত। অনেকটা ঘরের মতো। তবে উপরে কোনো ছাদ দেয়া হত না। অনেক সময় একই চৌচিল্লাতে দুইটি মৃতদেহও রাখা হত। 

পেরুর নাজাকা অঞ্চলে এভাবেই বসিয়ে রেখে মমি করা হয়, এটাই ছিল তাদের সমাধি দেয়ার পদ্ধতি নাজকা সংস্কৃতিতে কোনো সদস্য মারা যাওয়ার পরে তার দেহটি মমি করা হতো এবং কাপড় পড়িয়ে শরীরে রং দিয়ে আঁকা হতো তারপরে তাদের রোদে পোড়া ইট দিয়ে নির্মিত সমাধিতে রাখা হতো। এই কবরস্থান দেখে মনে হবে এটি ছোট ছোট ঘরে হয়তো পুতুল সাজিয়ে রেখেছে। এগুলো মন খারাপ করে যেন বসে আছে।

এই কবরস্থান দেখে মনে হবে এটি ছোট ছোট ঘরে হয়তো পুতুল সাজিয়ে রেখেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে মৃতদেহ সৎকারের নানা উপায়। কেউ কবরে সমাহিত করেন। কেউ পুড়িয়ে সৎকার করেন। তবে এগুলো বেশ স্বাভাবিক প্রচলিত প্রথা। তবে বিশ্বের অনেক দেশে মৃতদেহ মাটি চাপা কিংবা পোড়ানোর কাজও করেন না। কিছু জাতি আছে শকুনের খাবার হিসেবে মৃহদেহ উতসর্গ করে, কেউ আবার মমি করে। কোথাও কোথাও মৃহদেহ পুড়িয়ে স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার রীতি। আফ্রিকার এক নৃগোষ্ঠী আছে, তারা তো মৃতের মগজ খায়। এটাই তাদের রীতি। এভাবেই তারা তাদের মৃত প্রিয়জনকে সম্মান জানায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে