বাবা ভাঙ্গা: যার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সত্যিই মিলে যাচ্ছে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৮ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

বাবা ভাঙ্গা: যার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সত্যিই মিলে যাচ্ছে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৪ ২ মে ২০২১   আপডেট: ২১:০০ ২ মে ২০২১

বাবা ভাঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

বাবা ভাঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

যৌক্তিকভাবে অনেককিছুই আপনি আন্দাজ করতে পারবেন। যেমন- বৈশাখে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে ঢাকায় কিংবা বর্ষায় বন্যা হতে পারে নিম্নাঞ্চলে। কিন্তু আজ থেকে দশ বছর পর একজন মানুষ ঠিক কী অবস্থায় থাকবেন, কিংবা আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর একটা দেশে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মানবসৃষ্ট কোনো বিপর্যয় দেখা দেবে কি-না, সেটা বলা বড় মুশকিল।

আজ আমরা এমন একজনের কথা জানবো, যাকে ‘এ যুগের নস্ট্রাডামাস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যার বেশিরভাগ ভবিষ্যদ্বাণীই একের পর এক মিলে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের ওই ব্যক্তিকে ‘বাবা ভাঙ্গা’ নামে সবাই চেনে। এছাড়া তাকে ‘নস্ত্রাদামুস অব বালকান’ও বলা হয়।

১৯১১ সালে মেসিডোনিয়ার ‘স্ট্রুমিকা’ নামক স্থানে ভেঞ্জেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা নামক এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। অবশ্য স্ট্রুমিকা পরবর্তীতে, প্রথম বলকান যুদ্ধের সময় বুলগেরিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। তার জীবনে যত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তার ৮৫ শতাংশই মিলে গেছে৷ এ কারণে তিনি পরবর্তীতে উপাধী পান ‘বলকানের নস্ট্রাডামাস’। হয়ে উঠেন ‘বাবা ভাঙ্গা’। বুলগেরিয়ান ভাষায় ‘বাবা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘দাদিমা’ বা ‘জ্ঞানী মহিলা’। বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যত দর্শন ও মানুষকে সুস্থ করে তোলার ক্ষমতার কারণেই এরূপ নামকরণ।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারের পরিণতির কথা বাবা ভাঙ্গা বলেছিলেন ১৯৮৯ সালে। ছবি: সংগৃহীত

কথিত আছে, রহস্যময় এক ঝড় তরুণী বাবা ভাঙ্গাকে উড়িয়ে নিয়ে এক মাঠে ফেলে দেয়৷ বেশ কদিন পর পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে পায়৷ কিন্তু বালু আর ময়লার কারণে ব্যথায় তিনি চোখ খুলতে পারছিলেন না৷ পরে অন্ধ হয়ে যান তিনি৷  এরপরই তিনি একের পর এক ভবিষ্যদ্বাণী করেন; যার বেশিরভাগই মিলে যায়। ওই ব্যক্তির কথাকে রীতিমতো গুরুত্ব দেয়া হয়।

বাবা ভাঙ্গার মতে পৃথিবী টিকে থাকবে ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত। এর পরেই সব শেষ হয়ে যাবে। নিজের মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জীবন বিপজ্জনক হয়ে পড়তে পারে আসন্ন নতুন বছরে। একই রকম বিপদ হতে পারে মার্কিন প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও।

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ট্রাম্পের মাথায় এমন একটা টিউমার হবে, যা তাকে বোবা করে দিতে পারে। এমনকি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। তিনি আরও বলেছিলেন, এই বছরেই মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের কোপে পড়তে পারে গোটা ইউরোপ। এমনকি রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে সন্ত্রাসবাদীরা।

বাবা ভাঙ্গার ভবিদ্বাণী আজও রয়ে গেছে, যা নিয়ে বিস্ময় আর উদ্বেগের ঝড় ওঠে মানুষের মনে। ছবি: সংগৃহীত

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারের পরিণতির কথা নাকি বাবা ভাঙ্গা বলেছিলেন ১৯৮৯ সালে৷ আর জলবায়ু পরিবর্তন ও ২০০৪ সালের সুনামির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন গত শতকের পঞ্চাশের দশকে! যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হবেন একজন আফ্রিকান-অ্যামেরিকান৷ বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সেটাও মিলে গেছে৷

বাবা ভাঙ্গা বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে (১৯৫০-১৯৬০ এর মধ্যে) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন- শীতল অঞ্চলগুলো উষ্ণ হয়ে উঠবে……এবং আগ্নেয়গিরিরা জেগে উঠবে। সবকিছু বরফের মতো গলে যাবে। এই ভবিষ্যদ্বাণীটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে মিলে যায় অনেকটা।

তার মতে, ২০৪৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে৷ আর তার রাজধানী হবে রোম৷ মুসলমানদের শাসনে বিশ্ব অর্থনীতি গতি পাবে৷ এমনকি ২১১১ সালে মানুষ জীবন্ত রোবট হয়ে যাবে৷ অথবা বলা যেতে পারে রোবটের অর্ধেকটা হবে মানুষের মতো৷ এই আধা রোবট-আধা মানুষদের বলা হবে ‘সাইবার্গ’ বা ‘সাইবর্স’৷

২০৭৬ সালের মধ্যে পৃথিবীতে কমিউনিজম বা সাম্যবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং সারাবিশ্বে সেটি আবারো ছড়িয়ে পড়বে। ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিম সূর্যের দ্বারা রাতকে আলোকিত করা হবে। তখন সর্বদাই পৃথিবীর বুকে দিন থাকবে, কখনো আঁধার নামবে না। এছাড়া ২১৩০ সালের মধ্যে মানুষ সমুদ্রের নিচে বসতি স্থাপন করে বসবাস করার সক্ষমতা অর্জন করবে। ভিনগ্রহের প্রাণীদের সহায়তা বা প্রযুক্তির সাহায্যে করা হবে কাজটি।

১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বের বহুল আলোচিত এই নারী। তিনি না থকালেও তার ভবিদ্বাণী আজও রয়ে গেছে, যা নিয়ে বিস্ময় আর উদ্বেগের ঝড় ওঠে মানুষের মনে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে