মরুভূমির ভেতরে ‘কঙ্কালের’ গুহা, যার ভাঁজে ভাঁজে মর্মান্তিক ইতিহাস

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

মরুভূমির ভেতরে ‘কঙ্কালের’ গুহা, যার ভাঁজে ভাঁজে মর্মান্তিক ইতিহাস

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ২১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৭:০১ ৩ এপ্রিল ২০২১

জনমানবহীন মরুভূমির ওই গুহা বহন করে আসছে এক মর্মান্তিক ইতিহাস; ছবিঃ সংগৃহীত

জনমানবহীন মরুভূমির ওই গুহা বহন করে আসছে এক মর্মান্তিক ইতিহাস; ছবিঃ সংগৃহীত

মরুভূমির মাঝে একটি গুহা। নাম ‘কেভ অব হরর’ অর্থাৎ আতঙ্কের গুহা। জনমানবহীন মরুভূমির ওই গুহা বহন করে আসছে এক মর্মান্তিক ইতিহাস। মরুভূমির শুষ্ক বায়ুতে মমি হয়ে সংরক্ষিত রয়েছে সেই ইতিহাসের কিছু অংশ।

এক সময় রোমান সাম্রাজ্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইহুদিরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। সেই বিদ্রোহে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রচুর ইহুদি। বহু ইহুদিকে এক গুহার মধ্যে মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। বাইরে থেকে আটকে দেয়া হয়েছিল গুহার মুখ। অনাহারে থাকতে থাকতে এক এক করে বন্দি বিদ্রোহীদের সকলেই মারা যান। ১৯৬০ সালে এই গুহা থেকে এমন ৪০টি কঙ্কাল উদ্ধার হয়। সেই কঙ্কাল গবেষণা করেই ইহুদি বিদ্রোহীদের ওই মর্মান্তিক পরিণতির কথা জানা যায়।

গুহা থেকে প্রাপ্ত ১০ হাজার বছরের পুরনো একটি ঝুড়ি।

আর সেই থেকেই গুহার নামকরণ হয় ‘কেভ অব হরর’। ওই যুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ ইহুদি মারা গিয়েছিলেন। মৃত্যুভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন অনেকে। গুহাটি ইসরাইলের জুডিয়ান মরুভূমিতে অবস্থিত। জুডিয়ান মরুভূমিতে এই যুদ্ধ হয়েছিল ১৩২ এবং ১৩৫ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, গুহার পাথরের ভাঁজে ভাঁজে এমন আরো মর্মান্তিক ইতিহাস চাপা পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি সেখান থেকে উদ্ধার হল একটি শিশুর কঙ্কাল। যার বয়স ৬ হাজার বছর। গুহার মধ্যে দুটো পাথরের ভিতরে চাপা পড়েছিল কঙ্কালটি।

গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি শিশুর কঙ্কাল।

সম্প্রতি একদল গবেষক পাথর সরিয়ে সেটি উদ্ধার করেছেন। গবেষণার পর জানা গিয়েছে, সেটি এক বালিকার কঙ্কাল। মৃত্যুর সময় যার বয়স ছিল ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তার গায়ে চাপা দেয়া ছিল কম্বলের মতো মোটা চাদর। এই চাদর দিয়ে তার মাথা এবং বুক চাপা দেয়া থাকলেও পা দু’টি অনাবৃতই ছিল। এত বছর আগে এই ধরনের চাদরের ব্যবহার থেকে বিস্মিত গবেষকরা।

গুহা থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় জিনিসপত্র থেকে ওই সময়ে মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।এ ছাড়া ওই গুহা থেকে ১০ হাজার বছরের পুরনো একটি ঝুড়ি পাওয়া গিয়েছে। গুহা থেকে কিছু পুরনো মুদ্রা এবং জামাকাপড়ও উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৬ হাজার বছরের পুরনো শিশুর কঙ্কাল এবং ১০ হাজার বছরের পুরনো ঝুড়ি দেখে গবেষকদের অনুমান, ওই সময়ে এই গুহাতে বাস ছিল মানুষের। আর ওই পুরনো মুদ্রা এবং জামাকাপড়গুলো ইহুদি-রোমানদের যুদ্ধের সময়কার।

গবেষকদের অনুমান, এই গুহাতে বন্দি থাকা অবস্থাতেও নতুন জীবনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তারা। ভেবেছিলেন, যুদ্ধে জয়ী হয়ে নতুন করে জীবন শুরু করবেন। সে কারণেই নিজেদের সঙ্গে মুদ্রা, জামাকাপড় নিয়ে রেখেছিলেন কেউ কেউ।

গুহার পাথরের ভাঁজে ভাঁজে এমন আরো মর্মান্তিক ইতিহাস চাপা পড়ে রয়েছে।

সম্প্রতি ওই অনুসন্ধানের সময় গুহা থেকে মিলেছে প্রচুর পুরনো নথির ছেঁড়া অংশও। যাতে মূলত ইহুদি-রোমানদের ওই যুদ্ধ সংক্রান্ত নানা তথ্য রয়েছে। তার অক্ষরগুলোও সমসাময়িক পাণ্ডুলিপির থেকে অনেকটাই আলাদা। যা দেখে বিস্মিত বিশেষজ্ঞরা।

গুহা থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় জিনিসপত্র থেকে ওই সময়ে মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ