ওসেবার্গ: রানির সঙ্গে সমাধি দেয়া হয় যে জাহাজ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

ওসেবার্গ: রানির সঙ্গে সমাধি দেয়া হয় যে জাহাজ

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২০ ১৬ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৫:৫০ ১৬ মার্চ ২০২১

১২০০ বছর পরে পাওয়া ওসেবার্গের জাহাজটি

১২০০ বছর পরে পাওয়া ওসেবার্গের জাহাজটি

যোগাযোগের জন্য পানিপথ ব্যবহার হয়ে আসছে সৃষ্টির শুরু থেকেই। কমলালেবুর আকৃতির পৃথিবীর চার ভাগের তিনভাগের বেশিই পানি। স্থল পথের চেয়ে তাই পানিপথে যাত্রা সহজ হয় সবচেয়ে বেশি। আকাশ পথে যাত্রার শুরু তো সেদিনের কথা। ছোট জায়গায়ভেলা, ডিঙি, এরপর নৌকা হতে শুরু করে এখন মানুষ পর্বতসমান জাহাজ ভাসাচ্ছে উত্তাল সমুদ্রে। মধ্যযুগ হতে ঊনিশ শতক পর্যন্ত দস্যুবৃত্তিতে সমুদ্রযাত্রার নেশায় বুদ ছিল একদল মানুষ। 

বিশেষ করে ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সবক’টি দেশ সমুদ্রে জাহাজ ভাসাতে সিদ্ধহস্ত ছিল। আর সে কারণেই এখনও সমুদ্রগর্ভে লুকিয়ে আছে হাজারও জাহাজ। সেসব জাহাজের সঙ্গে ডুবে আছে সে সময়ের ইতিহাস, সভ্যতা। সেসব খুঁজতে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ ধরে গবেষণায় লিপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিকরা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের একেকটি গবেষণা যেন একেকটি দলিল।

সমুদ্র কাঁপিয়ে ভেসে বেড়াত ওসেবার্গকমলালেবু আকৃতির এই পৃথিবীর বয়স ৫০০ কোটি বছর। প্রতি দশকে পাল্টেছে তার চিত্র। অনেক সভ্যতা, জাতি বিলুপ্ত হয়ে কিংবা ভেঙে ছড়িয়ে গিয়ে তৈরি করেছে নতুন নতুন জাতি ও সভ্যতা। তার কিছু কালের সাক্ষী হয়ে ধরা দেয় গবেষকদের কার্বন ডেটিংয়ে। মাটি চাপা পরে থাকা এমন অনেক সভ্যতাই আমাদের চাক্ষুস হয়েছে এ পর্যন্ত। এভাবে বিশ্ব জেনেছে হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছু। তেমনি ভাবে এক কৃষকের লাঙ্গলের সঙ্গে মাটির নিচের কিছু একটা বেঁধে যায়। সময়টা ১৯০৩ সালের ৮ আগস্ট সকাল বেলা। নরওয়ের অসলোর সমুদ্রতীরের খুব কাছে পাওয়া যায় এটি। 

একটু খোঁড়ার পর দেখা যায় কাঠের তৈরি বিশাল কিছু মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। এরপর পরের বছর, অর্থাৎ ১৯০৪ সালে নরওয়ের প্রত্নতত্ববিদ হাকুন সিটেলিগ ও সুইডিশ প্রত্নতত্ববিদ গ্যাবরিয়েল গুস্তাবশন সেই জায়গাটিতে অনুসন্ধান শুরু করেন। দলবল নিয়ে খুঁড়তে আরম্ভ করেন। একসময় বিশাল আকৃতির জাহাজ দৃশ্যমান হয়। 

নরওয়ের প্রত্নতত্ববিদ হাকুন সিটেলিগ ও সুইডিশ প্রত্নতত্ববিদ গ্যাবরিয়েল গুস্তাবশন জাহাজটি উদ্ধার করেনওক কাঠের তৈরি জাহাজটি এখনো অবিকৃত আছে। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৭০.৮ ফুট এবং চওড়া ১৭ ফুট! এতে ৯৬৮ বর্গফুট আয়তনের পাল তোলা হতো। ওক কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি জাহাজটি এখন থেকে ১২০১ বছর আগে, অর্থাৎ ৮২০ সালে ডুবে গিয়েছিল নরওয়ের সমুদ্রগামী ওসেবার্গ শিপ। অসলোর ভাইকিং শিপ মিউজিয়ামে এখন জাহাজটি প্রদর্শিত হচ্ছে। জাহাজটিতে দাঁড় বাধার জন্য ১৫ জোড়া ছিদ্র আছে। অর্থাৎ ৩০জন নাবিক জাহাজটির দাঁড় টানতে পারতো। জাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় সাড়ে ১৮ মাইল। 

জাহাজটিতে এক রানির সঙ্গে তার সেবকার কঙ্কালও পাওয়া যায় প্রত্নতত্ববিদরা জাহাজ থেকে একজন অভিজাত নারীর কঙ্কাল পেয়েছেন। ধারণা করা হয় তিনি একজন রানি ছিলেন। তার সঙ্গী ছিলেন এক বয়স্ক নারী। তিনটি কুকুর, একটি ষাঁড় ও ১৩টি ঘোড়ার কঙ্কাল পাওয়া যায়। জাহাজটিতে একটি সুসজ্জিত কামরাও ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলেন এটি একটি সমাধি ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। ৮৫০ সালের দিকে এ জাহাজে দুজন নারীকে দাফন করা হয়। যতদূর জানা যায় এর মধ্যে একজন ছিলেন রানি, অন্যজন তার সেবিকা। তাদের ‘মৃত্যু-পরবর্তী জীবন’-এ সুখ নিশ্চিত করতে সঙ্গে দিয়ে দেয়া হয়েছিল খাবার থেকে শুরু করে জামা-কাপড়, অলংকার ও নিত্য-ব্যবহার্য জিনিসপত্র। দুই মৃত নারীর জন্য চিরুনিও দিয়ে দেয়া হয়েছিল।

খনন কাজের সময় এ জাহাজের সঙ্গে চারটি ঘোড়ায় টানা গাড়ি পাওয়া যায়। একটি ঘোড়ার কঙ্কালও গাড়িটির সঙ্গে পাওয়া যায়। আরও পাওয়া গেছে বসার টুল ও জুতা। এ তিনটি জাহাজই বর্তমানে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সঙ্গে আরও সংরক্ষণ করা হয়েছে সে সব মৃত ব্যক্তিদের ও তাদেরকে দেয়া উপঢৌকনগুলো। জাদুঘরটির নামই রাখা হয়েছে ‘ভাইকিং শিপ মিউজিয়াম’।

এই নারী ভাইকিং জাতির মানুষ ছিলেন বলে ধারণা করেন গবেষকরা ধারণা করা হয় এই নারীরা ছিলেন ভাইকিং জাতির মানুষ। কেননা ভাইকিংদের এমন রীতি ছিল। তারা জাহাজে করে মৃতদেহ সমাধিস্থ করত। বিভিন্ন জায়গায় খননের সময় প্রত্নতাত্ত্বিকরা অনেক সমাধির খোঁজ পেয়েছেন। যেখানে শুধু মৃতব্যক্তিই নয়, সঙ্গে পাওয়া গেছে পোষ্য, গাড়ি, অলঙ্কার, হাড়ি- পাতিলসহ, অস্ত্রও বাদ যায়নি। জানেন কি? ভাইকিং জাতি মৃতদেহের সঙ্গে কবর দিতেন জাহাজ। 

তেমনই মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে একটি জাহাজ। না, সেখানে সমুদ্র ছিল না কোনোদিন। নরওয়ের এক অতি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র থেকেই আস্ত একটি জাহাজ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। অবশ্য তাদের দাবি প্রাচীন ভাইকিং উপজাতির মানুষরা সমাধির সময় একটি করে জাহাজ মৃতদেহের সঙ্গে মাটিতে কবর দিত। এটাই ছিল সামাজিক ক্ষমতার পরিচয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, বিগত এক শতাব্দীর বেশি সময় এমন কোনো জাহাজের সন্ধান পাননি প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

এরা ছিল জাহাজ বানাতে খুবই পটু ১৯০৪ সালে শেষ সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল বিখ্যাত ওসেবার্গের জাহাজ। তার নিচে শায়িত ছিলেন দুজন নারী। এরপর থেকে এমন কোনো জাহাজ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভাইকিং উপজাতির ইতিহাসের খুব সামান্য নমুনাই বিশেষজ্ঞরা খুঁজে পেয়েছেন। সেখানে আবারো এক জাহাজের সন্ধান পাওয়া সত্যিই ঐতিহাসিক ঘটনা। যদিও দীর্ঘদিনের অযত্নে তার অবস্থা এখন যথেষ্ট সঙ্গিন। অধিকাংশ কাঠই ছত্রাক নষ্ট করেছে। তারই মধ্যে অতি সাবধানে দুটি কিল সংগ্রহ করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ অসলো’জ মিউজিয়াম অফ কালচারাল হিস্ট্রির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। 

তবে এই আবিষ্কারের আরো একটি অবাক করা দিকের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। জাহাজের সঙ্গে যে মরদেহটি শায়িত ছিল, সেটি দেখে তাদের বিশ্বাস, এটা মানুষের মৃতদেহ নয়। মানুষের হাড় এত বড়ো হয় না। এই হাড় নিঃসন্দেহে ঘোড়া বা অন্য কোনো গবাদি পশুর হাড়। তবে কি মানুষের মতোই পশুদের কবর দেয়ার সময়েও জাহাজ দেয়ার রীতি ছিল? নাকি এটা একধরনের সামাজিক আধিপত্যের দম্ভ? ভাইকিং ইতিহাসের নানা অজানা দিক নিয়ে গবেষণা চলবে। আর সেই গবেষণার দলিল হয়ে থেকে যাবে সাম্প্রতিক এই খননকার্য। 

লুটপাট করাই ছিল ভাইকিংদের প্রধান পেশা যদিও ওসেবার্গ প্রথম পাওয়া জাহাজ নয়, যেটি সমাধিক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। এর আগে আরো দুটি জাহাজ পাওয়া গিয়েছিল এমন ভিন্ন ভিন্ন দুটি জায়গায়। যেগুলোর মধ্যে ছিল কঙ্কাল এবং দুটিই পাওয়া যায় সমাধিক্ষেত্রে। তাহলে বলাই যায় অবেক জাতিরই হয়তো এই রীতি ছিল। ধারণা করা হয়, যারা সমুদ্রে জলদস্যু ছিলেন। তারাই এমনটি করতেন। কেননা সারা জীবন কাটিয়েছেন গভীর সমুদ্রে জাহাজে ভেসে। জাহাজই একজন জলদস্যুর বাড়ি ঘর সম্পত্তি। তাই জলদস্যু সদস্যের সম্মানার্থে তাকে জাহাজের মধ্যে রেখে মাটিচাপা দেয়া হত।  

এটি ১৮৬৭ সালে খুঁজে পান প্রত্নতত্ত্ববিদ অলুফ রিগ্হ। এতে সমাহিত করা একজন পুরুষের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, ৯০০ সালের দিকে এই জাহাজ কফিনটি ‘সমাধি টিলা’য় সমাহিত করা হয়েছিল। কঙ্কাল ও সমাধির প্রকৃতি হতে বোঝা যায় সমাধিস্থ ব্যক্তিটি সে সময়ের সম্রাট বা উঁচু পদবীর কেউ ছিলেন। টুনে নামক অঞ্চলে পাওয়া গেছে বলে জাহাজটির নাম টুনে জাহাজ। নরওয়ের টুনে অঞ্চলের রল্ভসয় দ্বীপের একটি কবরস্থানের মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে পাওয়া যায় জাহাজটি। এটি শক্ত ওক কাঠ দিয়ে তৈরি। ধারণা করা হয় অক্ষত অবস্থায় জাহাজটি দৈর্ঘে ৭২ ফুট ও প্রস্থে ১৪.৩ ফুট এবং ৪৬ ফুট তল বিশিষ্ট ছিল। প্রথম দিকে এ জাহাজটি পণ্য আমদানি রফতানিতেই ব্যবহৃত হত। পরে তা সমাধিতে পরিণত হয়।

অসলোর ভাইকিং শিপ মিউজিয়ামে এখন জাহাজটি প্রদর্শিত হচ্ছে আজওএরপর ১৮৮০ সালে নরওয়ের ভেসফোল্ড-এর স্যান্ডার এলাকার একটি কবর টিলার মাটি খুঁড়ে টুনে জাহাজের মতো আরেকটি জাহাজ পাওয়া যায়। কবর টিলাটির নামই গোকস্টাট। এতে বিছানায় শুয়ে থাকা ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী একজন পুরুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। কঙ্কালটি ৬ ফুট লম্বা। জাহাজটি দৈর্ঘে ৭৮.১ ফুট ও প্রস্থে ১৬.৭ ফুট। প্রায় ৩২ জন এ জাহাজের দাঁড় বাইতো। এতে ১২০০ বর্গফুট আয়তনের পাল লাগানো হত। প্রথমে একে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত করলেও এ জাহাজটি পরে শুধু কফিন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অনেকের মতে, জাহাজের মালিককেই তার নিজ জাহাজে সমাধিস্থ করা হয়।

অনেক গবেষক মনে করেন, এরা হয়তো ভাইকিং জাতির মানুষ ছিল। আমেরিকার ইতিহাসে তাদের অবদান কত অনেক। ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১শতক পর্যন্ত ভাইকিংদের আধিপত্য ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের একটি বিশাল সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য মাতৃভূমি ত্যাগ করে এবং সমুদ্র তীরবর্তি অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। সমুদ্র সৈকতে বসতি স্থাপনকারী, জীবিকার তাগিদে অনবরতভাবে যুদ্ধে লিপ্ত এসব মানুষরাই ভাইকিং নামে পরিচিত ছিল।

ওসেবার্গের জাহাজের ভেতরে রানির জন্য ছিল সুসজ্জিত এক কামরা উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষত অনির্ধারিত আশ্রম,মঠ, ব্রিটিশ দ্বীপ ইত্যাদি স্থানে ভাইকিংরা অভিযান চালাত। তিন শতাব্দী ধরে তারা ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় মহাদেশের উপর বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ চালায়। যুদ্ধে পটু,আর জাহাজ চালানোর অসম্ভব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রায় তিনশ’ বছর ধরে গোটা ইউরোপ, আমেরিকা দপিয়ে বেড়িয়েছে তারা। সেই সঙ্গে ভাইকিংরা জাহাজ বানাতেও ছিল অসম্ভব রকমের পটু। 

একটি জাহাজ কোন পথে যাবে বা কি পরিমাণ ভার বহন করতে হবে এসব বিবেচনা করে তারা জাহাজ নির্মাণ করতে পারতো। প্রতিটি অভিযান শেষে নিরাপদে ফেরত আসা নাবিকদের মুখে সমুদ্রযাত্রার বিবরণ শুনে সেই রুটের জাহাজের নকশা তৈরী করতো নির্মাতারা। সাধারণত তারা দুই ধরনের জাহাজ বানাতো, এর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ছিল ‘ল্যাংস্কিপ’যেটা ছিল আদতে যুদ্ধ জাহাজ। এই জাহাজগুলোতে চেপে তারা হামলা করতো বিভিন্ন দেশে।

জাহাজটি অনেকটা সংস্কারের পর জাদুঘরে সংরক্ষন করা হয়েছে ভাইকিংদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ছিল এখনকার সময়ের নরওয়ে সুইডেন এবং ডেনর্মাক হিসাবে পরিচিত এলাকাগুলোতে। এই দেশগুলো একত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়া হিসেবে পরিচিত। তারা যে দেশে বাস করত সেখানকার মাটি ছিল ভয়াবহ রুক্ষ আর অনুর্বর। সেই সঙ্গে ছিল তীব্র শীতের প্রকোপ। অনেকটা বাঁচার তাগিদেই প্রতি বছর জাহাজে চেপে বিভিন্ন দেশে অভিযানে বের হতো তারা। লুটের মাল যত বেশী হবে, তত আরামে কাটবে শীতের মৌসুম। তাই লুটপাট চালানোর ব্যাপারে তারা ছিল অসম্ভব নির্মম আর অসভ্য।

খনন কাজের সময় এ জাহাজের সঙ্গে চারটি ঘোড়ায় টানা গাড়ি পাওয়া যায়সমুদ্রচারী দস্যুরাই ইউরোপে পরিচিত হয়েছিল ‘ভাইকিং’ নামে। ভাইকিংদের জাহাজ দেখা আর আজরাইলকে দেখা–এই দুটোই ইউরোপের মানুষের কাছে ছিল সমান বিষয়। আজকে মার্ভেলের সুবাদে আমরা যে থর, ওডিন আর লোকিদের নিয়ে তৈরী মুভি দেখি, এরাই ছিল এসব নর্থমেনদের উপাস্য দেবতা। ৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ইংল্যান্ডের নর্থমার ল্যান্ডের উপকূলে লিন্ডসফার্নে এক সন্ন্যাসীদের আশ্রমে আক্রমণের মধ্য দিয়ে ভাইকিং যুগের সূচনা হয়েছিল।

ভাইকিং জনগোষ্ঠী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো ছড়িয়ে আছে ইংল্যান্ড নামের দেশ নিয়ে ভাইকিংদের ভেতর অনেক কথা প্রচলিত ছিল। তারা জানতো সূর্যাস্তের দিকে সাতদিন একটানা জাহাজ চালালে একটা সবুজ দেশ দেখা যায়। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজেদের জন্য স্থায়ী বসবাস তৈরি করা। তারা "ওয়াইল্ডস স্কটল্যান্ডের" উত্তরাঞ্চল, হিব্রাইডস এবং স্কটল্যান্ডের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। তারাই আয়ারল্যান্ডের প্রথম বাণিজ্যিক শহরগুলোর প্রতিষ্ঠা করে। তবে এতো আধিপত্য নিয়েও পৃথিবীতে টিকতে পারেনি এই শক্তিশালী জাতি। 

ইংল্যান্ডের ১১০৯ সালের ঘটনাগুলো কার্যকরভাবে ভাইকিংদের সমাপ্তি ঘটায়। তাদের সমাপ্তির পর স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের সমস্ত রাজ্যেই খ্রিস্টান ছিল। ভাইকিং সংস্কৃতিগুলো খ্রিস্টান ইউরোপের সংস্কৃতির রূপ নিয়ে ছিল। আজ, ভাইকিং বংশভুত কিছু মানুষ স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের কয়েকটি স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। এছাড়াও উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং রাশিয়া সহ আরো কিছু স্থানে তাদের পাওয়া যায়। তবে তাদের এই জাহাজ সমাধি সব কিছুই ইতিহাস থেকে অনুমান করেন গবেষকরা। স্পষ্ট কোনো কিছুর প্রমাণ বা লিখিত কোনো দলিল পাওয়া যায়নি কোথায়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে