শত বছর ধরে কার অপেক্ষায় মাথাবিহীন সুয়োমুসালমিরা?

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

শত বছর ধরে কার অপেক্ষায় মাথাবিহীন সুয়োমুসালমিরা?

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৮ ৬ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৩:১৬ ৬ মার্চ ২০২১

রাস্তার ধারে এভাবেই শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথাবিহীন সুয়োমুসালমিরা

রাস্তার ধারে এভাবেই শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথাবিহীন সুয়োমুসালমিরা

শুভ্র সাদা বরফে ঢাকা প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অন্যতম এক দেশ ফিনল্যান্ড। ফিনল্যান্ডের কাইনু প্রদেশের পৌর এক এলাকা সুয়োমুসালমি। সব মিলিয়ে এখানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার লোকের বাস। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সুয়োমুসালমির একটি ব্যাপার বেশ রহস্যজনক। শত বছরেও যার কোনো কুল কিনারা করতে পারেনি কেউ।  

এই এলাকার ৫ নম্বর হাইওয়ের পাশেই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে সবসময় দাঁড়িয়ে থাকে শত শত ‘নির্বাক মানুষ’!যাদের আপাদমস্তক রঙিন কাপড়ে মোড়া। মুখটাও ঠিকভাবে দেখা যায় না। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারা! কাঠের পুতুলের মতো রাস্তার দিকে তাকিয়ে কিসের অপেক্ষায় যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে তারা! দিনরাতের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সূর্য ডোবার পর এই রাস্তায় অপিরিচিত কেউ চলাচল করলে ভয় পাবেন বৈকি!  

শত শত মাথাবিহীন আপাদমস্তক কাপড়ে ঢাকা সাইলেন্ট পিপল মানুষরূপী এই মূর্তিগুলো কিন্তু আসলে মানুষ নয়। কাকতাড়ুয়া। একটি কাঠের লাঠির উপর খড় জড়িয়ে মানুষের অবয়ব করা হয়েছে। এবং তার উপর রঙিন জামা পরিয়ে হয়ে উঠেছে আস্ত ‘মানুষ’। তবে কোনো কাকতাড়ুয়ারই মুখ নেই। দূর থেকে যাতে বোঝা না যায় তাই মাথাটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া। এ রকম শত শত কাকতাড়ুয়া রাস্তার দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কেন তা কেউই জানে না। 

এরা মানুষ নয়, কাকতাড়ুয়া এদের কেন এবং কে এখানে রেখে দিয়ে গিয়েছেন, তার সঠিক উত্তরও সকলেরই অজানা। বছরে দুইবার কাকতাড়ুয়ার পোশাক বদলানো হয়। এদের অনেকে ‘নির্বাক মানুষ’ বা সাইলেন্ট পিপল বলে থাকেন। এদের নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানান ধরনের কল্পকথা। অনেকের মতে, এরা নাকি আগে অন্য জায়গায় ছিল। মাঠে সাধারণ কাকতাড়ুয়ার মতোই কাঠামোগুলো রাখা ছিল। তবে পরবর্তীকালে সেগুলোকে এই স্থানে নিয়ে আসা হয়। নিয়ে আসার কারণ নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। 

কে, কারা এবং কেন এতো এতো কাকতাড়ুয়া এখানে রেখে গেল, সেই রহস্যও এখনো বের করা যায়নি কারো মতে, আগে কাঠামোগুলো রাখা ছিল হেলসিঙ্কি শহরের কাছে লাসিলা নামে এলাকায়। তারপর সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় হেলসিঙ্কি সেনেট স্কোয়ারে। ১৯৯৪ সালের দিকে এই কাকতাড়ুয়াগুলোকে নিয়ে আসা হয় ৫ নম্বর হাইওয়ের কাছে। তবে কে বা কারা এবং কেন সেগুলোকে এখানে নিয়ে এলেন, এই রহস্য এখনো অজানা সবার। এমনকি এখানকার বাসিন্দারাও জানেন না এসব প্রশ্নের উত্তর। 

ঝড়, বৃষ্টি, তুষার সবসময়ই এরা এখানেই থাকে রাস্তার ধারে কাকতাড়ুয়াগুলোর উপস্থিতি আজও রহস্যই থেকে গেছে। অনেকের মতে ইচ্ছাকৃতভাবেই কেউ এখানে এগুলোকে রেখেছে। হয়তো কোনো শিল্পী বিষয়টিকে রহস্যেই রাখতে চেয়েছেন সবার কাছে। সে শিল্পী হয়তো চান দর্শকই এর জন্য আলাদা আলাদা যুক্তি খুঁজে নিন। পথচলতি অনেক মানুষের মতে কাকতাড়ুয়াগুলোর মুখে কষ্টের ছায়া রয়েছে। অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো খারাপ স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে তারা। আবার কারো মতে, যুদ্ধে শহিদদের স্মরণেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এরা।১৯৩৯ থেকে ১৯৪০ সাল নাগাদ ফিনল্যান্ড এবং সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হয়ে ছিল। সেই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন অনেক সৈনিক। 

বছরে দুইবার এদের পোশাক বদলে দেয়া হয় আজও রাস্তার দিকে চেয়ে সেই সমস্ত শহিদদের প্রতীক হয়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে তারা। যার রহস্য শত বছর পেরিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। হয়তো এভাবেই পেরিয়ে যাবে আরো একটি কিংবা দুটি শতাব্দী থেকে হাজার বছর। কারো মনের খেয়াল নাকি আদিভৌতিক কোনো বিষয়, কোনোদিন হয়তো জানা যাবে। সেই অপেক্ষায় বিশ্ববাসীর সঙ্গে সুয়োমুসালমিরাও। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে