৯০০ বছরের পুরনো গির্জায় সাজানো হাত-পা বিহীন ক্রুশবিদ্ধ রহস্যময় মমি

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

৯০০ বছরের পুরনো গির্জায় সাজানো হাত-পা বিহীন ক্রুশবিদ্ধ রহস্যময় মমি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৫ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৭:৪০ ৫ মার্চ ২০২১

গির্জার ভোল্টে রাখা রহস্যময় মমি

গির্জার ভোল্টে রাখা রহস্যময় মমি

প্রাচীন সভ্যতার সূতিকাগার মিশরের রয়েছে এক চমকে দেয়ার মতো রহস্য। পাঁচ হাজার বছর আগে তারা কীভাবে মমির পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল সেই রহস্যও আজো জানতে পারেনি কেউ। বিভিন্ন সময় পাওয়া গেছে রাজা বাদশা থেকে শুরু করে তাদের পরিবারের সদস্য এবং পোষ্যদের। তবে মিশরের বাইরেও মিলেছে অনেক মমি।  

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে রয়েছে সেন্ট মিচান গির্জা। ৯০০ বছরেরও পুরনো এই গির্জা। এর মধ্যে একটি লোহার দরজার পিছনে ঘুমিয়ে রয়েছে অসংখ্য রহস্য। লোহার দরজা খুললেই সঙ্কীর্ণ পাথুরে সিঁড়ি নীচে নেমে গেছে। অন্ধকার, ভ্যাপসা গন্ধ যুক্ত সেই সঙ্কীর্ণ পথে কিছুটা এগোলেই দেখা মিলবে থরে থরে কফিনে সাজিয়ে রাখা মৃতদেহ। বছরের পর বছর ধরে সেগুলো গির্জার নীচে এ ভাবেই পড়ে থেকে মমি হয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে একটি মমি আবার আপনার সঙ্গে হাত মেলাতেও রাজি!  

থরে থরে এভাবেই সাজানো ছিল এসব মমি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের এই গির্জার ভিত তৈরি হয়েছিল ১০৯৫ সালে। পররর্তীতে ১৬৮৬ সালে সেটি পুনর্গঠিত হয়। গির্জা তৈরির পর থেকেই তার নীচে ভল্টে কফিনে বন্দি মৃতদেহ রাখা হত। এগুলোর কোনোটির হাত- পা নেই। কোনোটি ক্রশের সঙ্গে বিদ্ধ।  

তবে মৃতদেহগুলোতে পচন না ধরে মমি হয়ে সংরক্ষিত থাকার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হল গির্জার নীচে চুনাপাথরের দেয়াল। যার ফলে ভল্টের মধ্যের পরিবেশ সব সময় শুষ্ক থাকে। ধারণা করা হয় ১৭, ১৮ এবং ১৯ শতকের কিছু প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদেরই মৃত্যুর পর ওই ভল্টে রাখা হত। তার মধ্যে যেমন রয়েছে ওই সময়ের প্রভাবশালী হ্যামিলটন পরিবারও। 

কোনোটির হাত-পা নেই, কোনোটি ছিল ক্রুশবিদ্ধএই ভল্টের মূল আকর্ষণ হল চারটি নির্দিষ্ট মমি। যাদের কফিনে কোনও ঢাকনা নেই। ভল্টে গেলেই উন্মুক্ত এই ৪ মমি দেখতে পাওয়া যাবে। এমনকি একটি মমিকে ছুঁয়েও দেখতে পারবেন। পাশাপাশি সাজিয়ে রাখা মমিগুলোর একেবারে ডান দিকে রয়েছেন এক নারী। যার ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি এখনো। মাঝের এর মমি ‘চোর’হিসেবে পরিচিত। তার হাত এবং দুই পায়ের পাতা নেই। এ কারণেই তিনি জীবদ্দশায় চোর ছিলেন বলে ধারণা করেন গবেষকরা।  

সেন্ট মিচান গির্জাটি ৯০০ বছরের পুরনো কেননা কথিত রয়েছে যে, সেসময় চোরদের শাস্তি হিসেবে তার হাত-পা কেটে দেয়া হয়। পরে তিনি সাধু হয়ে মানুষের উপকার করেছিলেন। সে কারণেই মৃত্যুর পর এই ভল্টে স্থান পান। তার ঠিক পাশেই শায়িত রয়েছে এক বেঁটেখাটে নারীর মমি। ওই নারী জীবদ্দশায় সন্ন্যাসী ছিলেন। তবে ভল্টের সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ৮০০ বছরের পুরনো একটি মমি।

চুরি হয়ে যায় অনেকগুলো মমি তাকে ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তি বলেই জানেন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকেরা। মনে করা হয় তিনি এক জন সৈন্য ছিলেন। যুদ্ধের সময়ই তাকে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল। জীবিত অবস্থায় প্রায় সাড়ে ৬ ফুট লম্বা ছিলেন তিনি। পর্যটকেরা ভল্টে প্রবেশ করে ৮০০ বছরের পুরনো এই ক্রুশবিদ্ধ মমিকে ছুঁয়ে দেখতে পারেন। মমির সঙ্গে হাত মেলানোরও অনুমতি রয়েছে।

চাইলে মমির সঙ্গে হাত মেলাতেও পারেন, কেননা এগুলো এভাবে খোলাই পড়ে থাকে এ ছাড়া ১৮০৩ সালে খুন হওয়া আইরিশ বিদ্রোহী রবার্ট এমেট, গণিতবিদ উইলিয়াম রোয়ান হ্যামিলটন-সহ প্রভাবশালী একাধিক মানুষের মমি রয়েছে এখানে। ২০১৮ সালে শেষ বারের মতো এই ভল্ট পর্যটকেদের জন্য খোলা হয়েছিল।  প্রতি সপ্তাহের শনিবার করে এবং বিশেষ কিছু দিনে গির্জার ভল্ট পুরোপুরি খোলা থাকে পর্যটকদের জন্য। প্রায় ২৭ হাজার পর্যটক এসেছিলেন সেই বছরই। ২০১৯ সালের শুরুতেই ভল্টে দুষ্কৃতী হানা হয়। অনেক মমিই লুঠ করে নিয়ে যায় তারা। সেই সঙ্গে ভল্টের প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হয়।

প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো এসব মমি ক্রুশবিদ্ধ ওই মমির মাথাও চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। সন্ন্যাসিনীর মমি ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয়। বহু মমির হাড় বের করে নেয় তারা। এরপর থেকে বহু দিন পর্যটকের এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পুরোপুরিভাবে ভল্টের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়।

সাড়া বছর এই মমিগুলো দেখতে হাজার হাজার পর্যটক আসেন এখানে  পরবর্তীকালে তদন্ত চালিয়ে লুঠ হওয়া সমস্ত অংশই উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। আয়ারল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরে এখন সংরক্ষিত রয়েছে মমিগুলো। সম্প্রতি গির্জার ভল্ট আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। অনেকেই সেখানে ছুটে যান মমিগুলোকে এক নজর দেখার জন্য। সাক্ষী হন বিশ্বের অন্যতম এক রহস্যের। যে রহস্য নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কাহিনী। তবে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন আজও সম্ভব হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে